গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ১০ নম্বর কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম সোনা। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতাকে নিজের রাজনৈতিক পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে তুলে ধরছেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম সোনা বর্তমানে ১০ নম্বর কামারপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা জেলা যুবদলের সদস্য। এ ছাড়া তিনি সাদুল্লাপুর উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে কামারপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক ও আহ্বায়ক এবং ছাত্ররাজনীতিতে সহ-সাধারণ সম্পাদক পদেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম সোনা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিরোধী দলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে তাকে মামলা, গ্রেপ্তার ও পুলিশি নির্যাতনের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা হয়েছিল। বিভিন্ন সময়ে বার বার গ্রেপ্তার এবং মোট ৩৮০ দিন কারাগারে থাকতে হয়েছে তাকে। ২০২৫ সালে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে পুলিশ বহুতবার তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
দলীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে শহিদুল ইসলাম সোনা বলেন, ঢাকায় মহাসমাবেশ, রংপুর বিভাগীয় সমাবেশ এবং জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তিনি অংশ নিয়েছেন। মিছিল, মশালমিছিল, রেললাইনকেন্দ্রিক বিক্ষোভ, হরতাল ও অবরোধের কর্মসূচিতেও অংশ নিয়েছেন বলে জানান তিনি।
একটি কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে তিনি বলেন, গাইবান্ধা শহরে মিছিলের সময় পুলিশের লাঠিপেটায় তার বাম হাত রক্তাক্ত হয়। টিয়ারশেলের গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং এ সময় তার মোবাইল ফোন ও জুতা হারিয়ে যায়। জীবন রক্ষার জন্য দৌড়ে সরে যাওয়ার সময় ডাচ-বাংলা ব্যাংকের মোড় এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে কয়েকজন সহকর্মী তাকে সুস্থ করতে এগিয়ে আসেন বলে জানান তিনি। পরে সহকর্মীদের সঙ্গে ডেভিড কোম্পানির পাড়ার পাশ দিয়ে নদীর বাঁধের রাস্তা হয়ে ভেড়ামারা সেতু এলাকায় যান তিনি। ওই সময় গাইবান্ধার কাউয়া চত্বরে থাকা তার মোটরসাইকেল উদ্ধারের ক্ষেত্রেও কয়েকজন নেতাকর্মী সহযোগিতা করেন। জেলা ছাত্রদলের নেতা রবিন, বাবু ও রবিউল নামের এক ব্যক্তি মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করে ভেড়ামারা সেতু এলাকায় পৌঁছে দিতে সহায়তা করেছিলেন বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোখলেছুর রহমান বলেন, শহিদুল ইসলাম সোনা দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমরা তাকে ইউপি চেয়ারম্যান পদে দেখতে চাই। তিনি নির্বাচিত হলে এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন, কৃষকদের সমস্যা সমাধান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং সাধারণ মানুষের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখবেন বলে আমাদের প্রত্যাশা।
চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহের বিষয়ে শহিদুল ইসলাম সোনা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। ইউনিয়নের মানুষের সমস্যা ও প্রত্যাশাকে গুরুত্ব দিয়ে জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চান তিনি।
চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করাসহ সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে অগ্রাধিকার দিতে চান শহিদুল ইসলাম সোনা। কামারপাড়া ইউনিয়নবাসীর সুখে-দুঃখে পাশে থেকে তাদের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 
















