সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও রাজমিস্ত্রি

জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যান শাকিল হোসেন ওরফে কাবিল। স্বপ্ন ছিলো, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। তবে সেই সংসার ঘিরেই এবার উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্যা গ্রামের এই প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী খাতুন দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল হকের সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, আজিজুল হক পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

তাঁদের দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন। এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিলো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে আজিজুল হকের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে আজিজুল হকের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাবিলের ছেলেরা জানিয়েছে, তাঁরা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চান না। তাঁদের দাবি, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় কাবিলের পরিবারের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার এসআই রাজীব আলী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তথ্য-প্রমাণ উদঘাটন করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

জনপ্রিয়

প্রবাসীর স্ত্রীকে নিয়ে উধাও রাজমিস্ত্রি

প্রকাশের সময়: ০৩:২৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে যান শাকিল হোসেন ওরফে কাবিল। স্বপ্ন ছিলো, প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়বেন এবং স্ত্রীকে নিয়ে সুখের সংসার সাজাবেন। তবে সেই সংসার ঘিরেই এবার উঠেছে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার কামুল্যা গ্রামের এই প্রবাসীর স্ত্রী লাভলী খাতুন দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এক রাজমিস্ত্রির সঙ্গে চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে একই গ্রামের ইরফান হোসেনের ছেলে আজিজুল হকের সঙ্গে বাড়ি ছাড়েন লাভলী খাতুন। এ সময় বাড়ি থেকে নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে শাকিল হোসেন ওরফে কাবিলের সঙ্গে লাভলী খাতুনের বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই ছেলে সন্তান রয়েছে। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার আশায় দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ে কাজ করছেন কাবিল। প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠিয়ে সংসার পরিচালনা ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা করছিলেন তিনি।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, আজিজুল হক পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। দীর্ঘদিন ধরে কাবিলের বাড়িতে নির্মাণকাজ করার সুবাদে লাভলী খাতুনের সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ পরিবারের সদস্যদের।

তাঁদের দাবি, বিষয়টি জানার পর কাবিল ও তাঁর দুই সন্তান লাভলী খাতুনকে ওই সম্পর্ক থেকে সরে আসার অনুরোধ করেছিলেন। এরপরও তাঁদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিলো।

পরিবারের অভিযোগ, গত ১৩ অক্টোবর গভীর রাতে দুই সন্তানকে বাড়িতে রেখে আজিজুল হকের সঙ্গে চলে যান লাভলী খাতুন। এ সময় নগদ পাঁচ লাখ টাকা, পাঁচ ভরি স্বর্ণালংকার ও বাড়িতে থাকা মূল্যবান সম্পদ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এদিকে আজিজুল হকের সংসারেও এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর স্ত্রী গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

ঘটনার পর দুই সন্তানকে নিয়ে পরিবারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। কাবিলের ছেলেরা জানিয়েছে, তাঁরা বর্তমানে মায়ের কাছে ফিরতে চান না। তাঁদের দাবি, বাবার কষ্টার্জিত টাকা, স্বর্ণালংকার ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হোক।

দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে পরিবারের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখা কাবিলের সংসারে এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা। এ ঘটনায় কাবিলের পরিবারের পক্ষ থেকে নন্দীগ্রাম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।

এ বিষয়ে নন্দীগ্রাম থানার এসআই রাজীব আলী বলেন, অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে তথ্য-প্রমাণ উদঘাটন করে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।