গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে মামলা দিয়ে আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যদের ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয় আজগার আলী নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ।
এ ঘটনায় শনিবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্য হাটবামুনি এলাকায় যাওয়া হলে আলতাফ হোসেন ও তার স্ত্রী-ভাইদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের মধ্য হাটবামুনি গ্রামের মৃত ফারাজ উদ্দিন ও তার ছোট ভাই জেলাল উদ্দিনের পৈত্রিক জমির বাটোয়ারা হিসেবে ফারাজ উদ্দিন বেশী পরিমাণের জমি রেকর্ড করে নেন। এ নিয়ে জেলাল উদ্দিনের ছেলে আনিছার রহমান পৃথক দুটি রেকর্ড সুটের মামলা করেন। যার নম্বর ১৮২/২০২১ এবং ৩০২/২০২১। এ মামলায় আনিছার ও তার ছোট ভাই আলতাফসহ মোট ১০ জন ওয়ারিশ উল্লেখ করা হয়।
এ দিকে রেকর্ড সুটের এই মামলাকে কেন্দ্র করে মৃত ফারাজ উদ্দিনের ছেলে আজগার আলী শত্রুতা পোষণ করে আসছেন। এরই ধারাবাহিকতা আলতাফ হোসেন ও তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, চুরি ও শ্লীলতাহানিসহ বিভিন্ন অভিযোগে গত ১৯ অক্টোবর মামলা করেন আজগার আলী।
স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল আমিন ও মুকুল মিয়াসহ আরও অনেকে বলেন, আলতাফ হোসেন পেশায় একজন স্কুলশিক্ষক। তার সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে আজগার আলী মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন বলেন, আজগার আলী আমাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। জমিসংক্রান্ত বিরোধের জেরে আমাদের হয়রানি করতেই এসব মামলা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে সম্প্রতি আজগার আলী একটি ফাঁকা জমিতে হঠাৎ অস্থায়ী ঘর তোলেন। পরে নিজেরাই সেই ঘরে আগুন দিয়ে আমাদের ওপর দোষ চাপান এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। এভাবে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ তুলে ক্রমাগত হয়রানি করে আসছেন আজগার আলী। এসব ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন আলতাফ হোসেন।
সৃষ্ট ঘটনায় সরেজমিনে যাওয়া হলে গণমাধ্যম কর্মীদের দেখে সটকে পড়েন আজগার আলী। পরে মুঠোফোনে তার সঙ্গে যোগাযোগা করা হলে তিনি বলেন, আমি যে বিষয়ে মামলা করেছি, তা সত্য ও সঠিক। আমি বিচার চাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, মধ্য হাটবামুনি গ্রামের আজগার আলী একটি মামলা করেছেন এবং এর পাশাপাশি আরও একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়গুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















