শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

হামলাকারীদের কাছে ঘর হারিয়ে ভিক্ষুক জমিলা এখন খোলা আকাশের নিচে

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া। বয়স প্রায় ৬৮ বছর। হতদরিদ্র স্বামী ইসমাইল হোসেনকে হারিয়ে তার জীবনে নেমে আশে কালমেঘ। জীবিকার তাগিদে বেঁচে নেন ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। রোদ-বৃষ্টি আর শীতকে উপেক্ষা করে রোজকার লড়াই তার। ঘুরতে হয় অন্যের দুয়ারে-দুয়ারে। বার্ধক্য বয়সে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাত্রীযাপন করতেন একটি ছাপড়া ঘরে। এরই মধ্যে ভূমিদস্যুরা হামলা চালিয়ে সেই ঘরটিও ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে কাঁপছে এই ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে- নীড়হারা জমিলা বেওয়ার আহাজারির দৃশ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া তার নিজ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে মুনছুর আলী, শাহ আলম ও নুর আলম গংরা জমিলার বসতি জমিটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে আসেন। এরই একপর্যায়ে বুধবার বিকেলের দিকে মুনছুর আলী গংরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিলার বসতভিটায় হামলা চালায়। এসময় তারা লাঠি-অস্ত্র নিয়ে উত্তেজিত হয়ে জমিলার টিনের শয়ন ঘর ও রান্না ঘর ভাঙচুর করেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বনজ-ফলজ গাছ কেটে ফেলাসহ লুটপাট করতে থাকেন। এতে বৃদ্ধা জমিলা বেওয়া বাঁধা দিতে গেলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী জমিলা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মোর সোয়ামি মরার পর মুই ভিক্কা করি খাম বাবা। হামার অল্পেঅ্যানা জমিত দুটা ঘর তুলি থাকছুনু, সিগল্যা মুনছুরেরা ভাঙি নিয়্যা গেছে। মোর একন থাকার ঘর নাই। আশমানের নিচত বসি থাকোম বাহে। আল্লায় যেনো গুন্ডাগুলার বিচার করে।

বৃদ্ধা জমিলা বেওয়ার ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমাদের জমিতে মা বসবাস করে আসছিলেন। সেই জমিটি অহেতুক দাবি নিয়ে মুনছুর আলী গংরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দাখিল করেছি।

অভিযুক্ত মুনছুর আলী ও শাহ আলম গংরা বলেন, ক্রয় সুত্রে ওই জমির মালিক আমরা। তাই গাছ কেটে ও ঘর ভেঙে দিয়ে জমিটি বের করে নিয়েছি।

এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদী আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যার পর সরেজমিন দেখা হয়।  এসময় উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।

জনপ্রিয়

হামলাকারীদের কাছে ঘর হারিয়ে ভিক্ষুক জমিলা এখন খোলা আকাশের নিচে

প্রকাশের সময়: ০৬:০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারী ২০২৬

নিভৃত গ্রামাঞ্চলের ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া। বয়স প্রায় ৬৮ বছর। হতদরিদ্র স্বামী ইসমাইল হোসেনকে হারিয়ে তার জীবনে নেমে আশে কালমেঘ। জীবিকার তাগিদে বেঁচে নেন ভিক্ষাবৃত্তি পেশা। রোদ-বৃষ্টি আর শীতকে উপেক্ষা করে রোজকার লড়াই তার। ঘুরতে হয় অন্যের দুয়ারে-দুয়ারে। বার্ধক্য বয়সে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করে রাত্রীযাপন করতেন একটি ছাপড়া ঘরে। এরই মধ্যে ভূমিদস্যুরা হামলা চালিয়ে সেই ঘরটিও ভেঙে নিয়ে গেছে। এখন তীব্র শীতে খোলা আকাশের নিচে কাঁপছে এই ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া।

সরেজমিনে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের ফরিদপুর ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে- নীড়হারা জমিলা বেওয়ার আহাজারির দৃশ্য।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত ইসমাইল হোসেনের স্ত্রী ভিক্ষুক জমিলা বেওয়া তার নিজ জমিতে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছেন। এরই মধ্যে বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে মুনছুর আলী, শাহ আলম ও নুর আলম গংরা জমিলার বসতি জমিটি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করে আসেন। এরই একপর্যায়ে বুধবার বিকেলের দিকে মুনছুর আলী গংরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে দলবদ্ধ হয়ে জমিলার বসতভিটায় হামলা চালায়। এসময় তারা লাঠি-অস্ত্র নিয়ে উত্তেজিত হয়ে জমিলার টিনের শয়ন ঘর ও রান্না ঘর ভাঙচুর করেন। একইসঙ্গে বিভিন্ন বনজ-ফলজ গাছ কেটে ফেলাসহ লুটপাট করতে থাকেন। এতে বৃদ্ধা জমিলা বেওয়া বাঁধা দিতে গেলে তাকেও শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করেন হামলাকারীরা।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী জমিলা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, মোর সোয়ামি মরার পর মুই ভিক্কা করি খাম বাবা। হামার অল্পেঅ্যানা জমিত দুটা ঘর তুলি থাকছুনু, সিগল্যা মুনছুরেরা ভাঙি নিয়্যা গেছে। মোর একন থাকার ঘর নাই। আশমানের নিচত বসি থাকোম বাহে। আল্লায় যেনো গুন্ডাগুলার বিচার করে।

বৃদ্ধা জমিলা বেওয়ার ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম জানান, আমাদের জমিতে মা বসবাস করে আসছিলেন। সেই জমিটি অহেতুক দাবি নিয়ে মুনছুর আলী গংরা হামলা করেছে। এ ঘটনায় থানায় এজাহার দাখিল করেছি।

অভিযুক্ত মুনছুর আলী ও শাহ আলম গংরা বলেন, ক্রয় সুত্রে ওই জমির মালিক আমরা। তাই গাছ কেটে ও ঘর ভেঙে দিয়ে জমিটি বের করে নিয়েছি।

এ ব্যাপারে সাদুল্লাপুর থানার এএসআই শফিকুল ইসলাম বলেন, বাদী আনোয়ারুল ইসলামের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যার পর সরেজমিন দেখা হয়।  এসময় উভয় পক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে।