শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬, ৪ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন বছরের শুরুতে গাইবান্ধায় পৃথক ঘটনায় মিলল ৭ মরদেহ

গেল বছরে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সড়কে, ঝোপ-জঙ্গল, পুকুর, ও খাল-বিল থেকে অসংখ্য মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বছরের শুরুতেই পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুসহ ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম পান্তাপাড়া এলাকায় বেলাল তালুকদারের বাঁশঝাড় থেকে ময়নুল ইসলাম তালুকদার (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‎‎নিহত ময়নুল ইসলাম তালুকদার ওই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পান্তাপাড়া এলাকার মৃত দানেশ উদ্দিন তালুকদারের ছেলে। তিনি পান্তাপাড়া এলাকায় কলার ব্যবসা করতেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ময়নুল ইসলাম তালুকদার কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভূগছিলেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই বাঁশঝাড়ে ময়নুল ইসলাম তালুকদারের ঝুলন্ত লাশ দেখ পায় স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে ময়নুল ইসলাম তালুকদার নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৬ টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের ঠুটিয়া পুকুরের গড়েয়ার ঈদগাহ মাঠ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের গণি আকন্দের ছেলে ও বাসটির হেলপার মুসা আকন্দ (২৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ধনাশলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে যাত্রী জামিল হোসেন(২০)

স্থানীয়রা  জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে ওইস্থানে সিমেন্ট ভর্তব ট্রাকের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে বাসের হেলপার ও যাত্রীসহ ২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ১০ জনের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, এ দুর্ঘটনায় দুইটি মরদেহ উদ্ধারসহ দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি থানায় নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে গাছের নিচে চাপা পড়ে  ফিহামনি (১১ মাস) ও জান্নাতি খাতুন (২) নামের দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্য ওই দুই বোন রঘুনাথপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই সময় রঘুনাথপুর আব্বাসের মোড় এলাকার মধু মিয়া ও মতিউর রহমান গাছ কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় কাটতে থাকা গাছ ওই দুই বোনের উপড়ে হঠাৎ পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ফিহামনি ও জান্নাতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গাছ কাটার লোকজন ও গাছের মালিক মধু মিয়া এবং মতিউর রহমান তাড়াহুড়ো করে মৃতদেহের উপড়ে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা অতিবাহিত হবার পর নিখোঁজ দুই মেয়ের সন্ধান করতে গিয়ে রাতে বাবা ফরিদ মিয়া গাছের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় তার দুই মেয়ের মরদেহ দেখতে পায়। তার চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে গাছের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে গাছের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক  (ওসি তদন্ত) শ্রী সুমঙ্গল কুমার দাশ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গোবিন্দগঞ্চ উপজেলার ফাঁসিতলা বাজারের ব্র্যাক অফিস সামনে ট্রাকের ধাক্কায় আল আমিন (৫০) ও জনি মিয়া (৪০) নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

নিহত আল আমিন গোবিন্দগঞ্জের নাকাই হাট এলাকার বাসিন্দা ও জনি মিয়া গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার দুর্গাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।

জনপ্রিয়

নতুন বছরের শুরুতে গাইবান্ধায় পৃথক ঘটনায় মিলল ৭ মরদেহ

প্রকাশের সময়: ০৪:২২:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ জানুয়ারী ২০২৬

গেল বছরে গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন সড়কে, ঝোপ-জঙ্গল, পুকুর, ও খাল-বিল থেকে অসংখ্য মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। হৃদয়বিদারক এমন ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন বছরের শুরুতেই পৃথক স্থান থেকে দুই শিশুসহ ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) থেকে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০ টার দিকে গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার পশ্চিম পান্তাপাড়া এলাকায় বেলাল তালুকদারের বাঁশঝাড় থেকে ময়নুল ইসলাম তালুকদার (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

‎‎নিহত ময়নুল ইসলাম তালুকদার ওই পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম পান্তাপাড়া এলাকার মৃত দানেশ উদ্দিন তালুকদারের ছেলে। তিনি পান্তাপাড়া এলাকায় কলার ব্যবসা করতেন।

নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানায়, ময়নুল ইসলাম তালুকদার কিছুদিন যাবত মানসিক সমস্যায় ভূগছিলেন। গতকাল শুক্রবার দুপুর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এরপর তাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে ওই বাঁশঝাড়ে ময়নুল ইসলাম তালুকদারের ঝুলন্ত লাশ দেখ পায় স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) সেলিম রেজা বলেন, খবর পেয়ে ময়নুল ইসলাম তালুকদার নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এদিকে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল ৬ টার দিকে গাইবান্ধা-পলাশবাড়ী সড়কের ঠুটিয়া পুকুরের গড়েয়ার ঈদগাহ মাঠ এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

নিহতরা হলেন- সাদুল্লাপুর উপজেলার কাজীবাড়ী সন্তোলা গ্রামের গণি আকন্দের ছেলে ও বাসটির হেলপার মুসা আকন্দ (২৫) ও রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ধনাশলা গ্রামের হারুন মিয়ার ছেলে যাত্রী জামিল হোসেন(২০)

স্থানীয়রা  জানায়, ঘন কুয়াশার কারণে ওইস্থানে সিমেন্ট ভর্তব ট্রাকের একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলে বাসের হেলপার ও যাত্রীসহ ২ জন নিহত হন। এ ঘটনায় ১০ জনের অধিক মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, এ দুর্ঘটনায় দুইটি মরদেহ উদ্ধারসহ দুর্ঘটনা কবলিত বাসটি থানায় নেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামে গাছের নিচে চাপা পড়ে  ফিহামনি (১১ মাস) ও জান্নাতি খাতুন (২) নামের দুই বোনের মৃত্যু হয়েছে।

মৃত্য ওই দুই বোন রঘুনাথপুর গ্রামের ফরিদ মিয়ার মেয়ে।

স্থানীয় ও পরিবারের সদস্যরা জানান, ওই সময় রঘুনাথপুর আব্বাসের মোড় এলাকার মধু মিয়া ও মতিউর রহমান গাছ কাটার কাজ করছিলেন। এ সময় কাটতে থাকা গাছ ওই দুই বোনের উপড়ে হঠাৎ পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ফিহামনি ও জান্নাতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে গাছ কাটার লোকজন ও গাছের মালিক মধু মিয়া এবং মতিউর রহমান তাড়াহুড়ো করে মৃতদেহের উপড়ে পাতা দিয়ে ঢেকে রেখে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যা অতিবাহিত হবার পর নিখোঁজ দুই মেয়ের সন্ধান করতে গিয়ে রাতে বাবা ফরিদ মিয়া গাছের নিচে চাপা পড়া অবস্থায় তার দুই মেয়ের মরদেহ দেখতে পায়। তার চিৎকার শুনে আশে পাশের লোকজন এগিয়ে এসে গাছের নিচে চাপা পড়ে থাকা মরদেহ দুটি উদ্ধারের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে গাইবান্ধা থেকে ফায়ার সার্ভিস ও সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে গাছের নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক  (ওসি তদন্ত) শ্রী সুমঙ্গল কুমার দাশ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১০ টার দিকে গোবিন্দগঞ্চ উপজেলার ফাঁসিতলা বাজারের ব্র্যাক অফিস সামনে ট্রাকের ধাক্কায় আল আমিন (৫০) ও জনি মিয়া (৪০) নামের দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।

নিহত আল আমিন গোবিন্দগঞ্জের নাকাই হাট এলাকার বাসিন্দা ও জনি মিয়া গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভার দুর্গাপুর গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে।

এ তথ্য নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়।