গাইবান্ধায় চিকিৎসা সেবায় এক নতুন দিগন্তের সুর্চনা করল এসকেএস নামের একটি হাসপাতাল। এই প্রথম এ জেলায় সবচেয়ে জটিল রোগের চিকিৎসাসেবা প্রদান করছেন জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিআরএইচ), মহাখালী, ঢাকার ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা: মো: আতিকুজ্জামান।
শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গাইবান্ধার সার্কুলার রোডের মাস্টারপাড়ায় অবস্থিত এসকেএস হাসপাতালে ক্যান্সারের চিকিৎসাসেবা শুরু হয়েছে। এছাড়াও প্রতিমাসের ২য় শনিবার ও ৪র্থ শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত রোগী দেখবেন।
এসব বিষয়ে এসকেএস হাসপাতালের চিকিৎসক ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা: মো: আতিকুজ্জামান জানান, আমি এখানে এসেছি শুধু ক্যান্সার রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য। এখানে আমি যেটা বলতে চাই ক্যান্সারের লক্ষণ বলতে একেকটা ক্যান্সারের লক্ষণ একেক ধরণের। কারো খাদ্য নালীতে, কারো ফুসফুসে, মস্তিকে। প্রাথমিকভাবে এ রোগের লক্ষণগুলো সর্ম্পকে রোগীদের সচেতন করতে পারি এবং তারা যদি প্রথম অবস্থায় সংশ্লিষ্ট ডাক্তারের পরামর্শ নেন তাহলে অবশ্যই নিরাময় হবে। কিন্তু আমরা যেটা দেখি রোগীরা সঠিক ডাক্তারের পরামর্শ না নিয়ে হাতুড়ে ডাক্তারের চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করায় রোগটি দীর্ঘ হয় এবং নিরাময়ের বাহিরের চলে যায়।
তিনি আরও বলেন, ক্যান্সার সর্ম্পকে মানুষের ভ‚লধারণা রয়েছে, যে একবার ক্যান্সার হলে সেটা আর ভালো হয় না। সেটা ভ‚লধারণা। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্যান্সারই এখন ভালো হয়ে যায়। যেমন জরায়ুর মুখে ক্যান্সার, স্তন ক্যান্সার, লিমফোমা ক্যান্সারগুলো একেবারে ভালো হয়ে যায়, যদি না শেষ পর্যায়ে আসে। ক্যান্সার রোগীরা সংশ্লিষ্ট জায়গায় সঠিক সময়ে যদি আসতে পারে তাহলে অবশ্যই ভালো সেবা দেওয়া সম্ভব।
ক্যান্সারের আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় কেমোথেরাপি একটি বহুল ব্যবহৃত চিকিৎসা পদ্ধতি। কেমোথেরাপি এমন এক ধরণের চিকিৎসা যার মাধ্যমে ক্যান্সারের কোষগুলোকে ধ্বংস করা হয় এবং সেগুলোর বিস্তার থামানো হয়। তবে সব ধরনের ক্যান্সারের জন্য এক ধরণের চিকিৎসা প্রযোজ্য নয়। বিভিন্ন ধরণের ক্যান্সার সেল বিভিন্ন ধরণের ঔষধে সাড়া দেয়। কেমোথেরাপির মাধ্যমে চিকিৎসা উন্নত করার জন্য চিকিৎসকরা নতুন ধরণের ঔষধের সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা করছেন। অধিকাংশ সময় কেমোথেরাপির কারণে শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। কিন্তু আধুনিক কিছু কেমোথেরাপি সামান্য সমস্যা তৈরি করে।
বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে ক্যান্সার চিকিৎসায় কিছুটা পিছিয়ে আছে। বর্তমানে সরকারের গৃহীত কিছু বড় প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হয়তো চলমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। দেশের ৮ বিভাগে ৮টি পূর্ণাঙ্গ ক্যান্সার চিকিৎসা কেন্দ্রস্থাপনের প্রকল্প ইতিমধ্যে একনেকে অনুমোদিত হয়েছে। ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার রোগী আমাদের মতো রাষ্ট্রের জন্য একটি বোঝা স্বরূপ। এ সমস্যাগুলো মোকাবেলায় যেসব বাধা সামনে আসতে পারে, সেগুলোর দিকে গুরুত্বসহকারে নজর দিতে হবে।
এসকেএস হাসপাতালের ম্যানেজার মো: মশিউর রহমান প্রধান বলেন, ক্যান্সারের মত মরণব্যাধির চিকিৎসাসেবা এসকেএস হাসপাতালে শুরু করা হয়েছে। যা গাইবান্ধায় চিকিৎসা সেবায় এক নতুন দিগন্তের সুর্চনা করলো। এসকেএস হাসপাতাল সর্বদায় স্বল্প খরচে গাইবান্ধাবাসীর জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে অঙ্গিকার বদ্ধ।
গাইবান্ধা জেলায় এই প্রথম ক্যান্সারের চিকিৎসক সেবার ব্যাপারে এসকেএস হাসপাতালের পরিচালক ডা: মো: আখতার আলম বলেন, সঠিক চিকিৎসার দিকে ধাবিত করা বা ক্যান্সার আগে আগেই প্রাথমিক অবস্থায় চিহ্নিত করা। শরীরের যেকোনো অসুস্থতাকেই গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসাসেবা নিতে হবে। বিশেষ করে বয়স ৩০-৪০ বছর পেরিয়ে গেলে অবশ্যই প্রতি অর্ধবছর বা প্রতিবছর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে হবে। আশার কথা এই যে, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করতে পারলে বেশিরভাগ ক্যান্সারেরই চিকিৎসা সম্ভব।

করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















