সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত দুম্বা

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরা ইদুল আযহায় কোরবানীর জন্য গরু-ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করে রাখলেও কাউকে দুম্বা প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়নি। তবে এ বছর জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের এক যুবকের খামারে কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে চারটি দুম্বা। উন্নত জাতের এই দুম্বাগুলো ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

মরুর প্রাণি দুম্বার এই খামারটি গড়ে ওঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তারা মন্ডলের ছেলে খামারি জাহিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ এক সময়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের একটি দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও এই উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা আটেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত বছরে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে টার্কি ও আওয়াসি জাতের পাঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। এরপর পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মাচা পদ্ধতি এ পশু পালন শুরু করেছেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন ৪ টি বাচ্চাও। ইতোমধ্যে ২ টি বাচ্চা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। আসছে কোরবানী ঈদে আরও ৪ দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রখেছেন। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রাসরাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা জাহিদ মন্ডল।

স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় বছর খানেক আগে পাঁচটি দিয়ে খামার শুরু করেছেন জাহিদ মন্ডল। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের।

ফয়জার রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি দেশের বাহিরে মরু অঞ্চলে দুম্বা পালন করা হয়। আর দুম্বার নাম অনেক শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখার সযোগ করে দিয়েছে উদ্যোক্তা জাহিদ। প্রায়ই এই খামারটি দেখতে আসি। চিন্তা করছি আগামীতে আমিও দুম্বার খামার দিব।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জাহিদের ছোট ভাই জিন্না মন্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, খরকাটা, ভুসি প্রভৃতি পরিমাণভাবে দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু- ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।

এই উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি আনকমন কিছু একটা করবো। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণি, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করা। এবার কোরবানি ঈদে ৪ দুম্বা বিক্রি করব। তবে ঝুঁকি ছাড়াই দুম্বা পালন অত্যান্ত লাভজনক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছি।

সাদুল্লাপুরে খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত দুম্বা

প্রকাশের সময়: ০১:১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

তোফায়েল হোসেন জাকির: গাইবান্ধার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে শুরু করে প্রান্তিক কৃষকরা ইদুল আযহায় কোরবানীর জন্য গরু-ছাগল ও ভেড়া প্রস্তুত করে রাখলেও কাউকে দুম্বা প্রস্তুত রাখতে দেখা যায়নি। তবে এ বছর জাহিরুল ইসলাম জাহিদ নামের এক যুবকের খামারে কোরবানির জন্য বিক্রি করা হবে চারটি দুম্বা। উন্নত জাতের এই দুম্বাগুলো ক্রয়ের জন্য ইতোমধ্যে ক্রেতাদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেছে।

মরুর প্রাণি দুম্বার এই খামারটি গড়ে ওঠেছে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার দড়ি জামালপুর গ্রামে। এ গ্রামের মৃত তারা মন্ডলের ছেলে খামারি জাহিদ।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জাহিরুল ইসলাম জাহিদ এক সময়ে দিনাজপুরের বোচাগঞ্জের একটি দুম্বার খামার ভিজিট করেন। সেই থেকে নিজেও এই উদ্যোক্তা হওয়ার পরিকল্পনা আটেন। এরপর প্রাথমিক অভিজ্ঞতায় গত বছরে এজেন্টের মাধ্যমে ভারত থেকে টার্কি ও আওয়াসি জাতের পাঠাসহ পাঁচটি দুম্বা কিনেছেন। এরপর পরিকল্পনা অনুয়ায়ী মাচা পদ্ধতি এ পশু পালন শুরু করেছেন জাহিদ। এরই মধ্যে পেয়েছেন ৪ টি বাচ্চাও। ইতোমধ্যে ২ টি বাচ্চা ২ লাখ ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করে লাভের মুখ দেখেছেন। আসছে কোরবানী ঈদে আরও ৪ দুম্বা বিক্রির জন্য প্রস্তুত রখেছেন। এ অবস্থায় ধীরে ধীরে খামার সম্প্রাসরাণ হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এ থেকে নিজে স্বাবলম্বী হওয়াসহ অন্যদেরও কর্মসংস্থানের আশা করছেন এই উদ্যোক্তা জাহিদ মন্ডল।

স্থানীয়রা বলছেন, দুম্বা মরু অঞ্চলের প্রাণী হলেও বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন শুরু হয়েছে। এরই ধারবাহিকতায় বছর খানেক আগে পাঁচটি দিয়ে খামার শুরু করেছেন জাহিদ মন্ডল। এখানে প্রতিদিন উৎসুক জনতা আসেন। এই প্রথম নিজ চোখে দুম্বা দেখতে পেয়ে অনেকটা আনন্দিত ও পালনে আগ্রহ জাগছে তাদের।

ফয়জার রহমান নামের স্থানীয় এক ব্যক্তি বলেন, আমরা জানি দেশের বাহিরে মরু অঞ্চলে দুম্বা পালন করা হয়। আর দুম্বার নাম অনেক শুনেছি কিন্তু বাস্তবে দেখার সযোগ করে দিয়েছে উদ্যোক্তা জাহিদ। প্রায়ই এই খামারটি দেখতে আসি। চিন্তা করছি আগামীতে আমিও দুম্বার খামার দিব।

এ বিষয়ে উদ্যোক্তা জাহিদের ছোট ভাই জিন্না মন্ডল বলেন, দুম্বাকে পুষ্টিকর খাদ্য সরবরাহ করতে খাবারের ব্যবস্থাপনা জরুরি। প্রতিদিন দুম্বাগুলোকে নেপিয়ার ঘাস, খরকাটা, ভুসি প্রভৃতি পরিমাণভাবে দিনে ৩ বার খাবার দিতে হয়। তবে গরু- ছাগলের চেয়ে সহজে দুম্বা পালন করা যায়।

এই উদ্যোক্তা জাহিরুল ইসলাম জাহিদ বলেন, শখ ছিল যে আমি আনকমন কিছু একটা করবো। আমি যদি বাংলাদেশের প্রত্যান্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে দিতে পারি তাহলে সবাই এ দুম্বা কিনে কোরবানি ঈদে কোরবানি দিতে পারবে। যেহেতু এটা সুন্নতি প্রাণি, এ উদ্দেশ্য নিয়ে আমার যাত্রা শুরু করা। এবার কোরবানি ঈদে ৪ দুম্বা বিক্রি করব। তবে ঝুঁকি ছাড়াই দুম্বা পালন অত্যান্ত লাভজনক।

সাদুল্লাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম বলেন, দুম্বা পালন বেশ লাভজনক। জাহিদ নামের যুবক দুম্বার খামার করে সফল হয়েছেন। আমরা তাকে সর্বাত্নকভাবে সহযোগিতা করছি।