শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

পদ হারিয়ে আল্লার কাছে বিচার চেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি আ.লীগ নেতার

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে সম্মেলন শুরু করেছে দলটি। তবে, সম্মেলনগুলোতে পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালের নির্দেশে বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিটে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সম্মেলন শুরু হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলকুচি পৌরসভার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের পর অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে জামায়াত বিএনপির লোক দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি করা হয়েছে।

বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মণ্ডলের সমর্থকেরা প্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কার বলেন, ‘দীর্ঘ পঁচিশ বছর হলো পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এই সম্মেলনে আমি আবার সভাপতি হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে বর্তমান সাংসদ আব্দুল মোমিন মণ্ডল ও জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন” তিনি আরও বলেন, যখন জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন কারা নির্যাতিত হয়েছি, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছি। আজ আমার মতো পরীক্ষিত আওয়ামী পরিবারের সন্তানদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো জামায়াত বিএনপির লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হলো। দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা দিলে তার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাটিতে গড়াগড়ি দিতে দিতে তিনি আল্লার কাছে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার চান। তার আর্তনাদে নেতা-কর্মীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার পরিবার, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পরিবার। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার প্রত্যাশা করছি।

একইভাবে পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডেরও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আমি জানি না, বেলকুচি উপজেলা আ. লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিষয়টি শুনব। এ বিষয়ে জানতে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করলে, তারা রিসিভ করেননি, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

জনপ্রিয়

পদ হারিয়ে আল্লার কাছে বিচার চেয়ে মাটিতে গড়াগড়ি আ.লীগ নেতার

প্রকাশের সময়: ১০:৩৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২২

সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে সামনে রেখে প্রতিটি উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ডে সম্মেলন শুরু করেছে দলটি। তবে, সম্মেলনগুলোতে পরীক্ষিতদের বাদ দিয়ে কমিটি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজশাহী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত দলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম কামালের নির্দেশে বেলকুচিতে আওয়ামী লীগের প্রতিটি ইউনিটে গত ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে সম্মেলন শুরু হয়েছে।

এই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বেলকুচি পৌরসভার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাউন্সিলের পর অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত আওয়ামী পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিল করতে জামায়াত বিএনপির লোক দিয়ে পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটি করা হয়েছে।

বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভিন্ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের কারণ জানতে চাইলে, জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস এবং সংসদ সদস্য আব্দুল মোমিন মণ্ডলের সমর্থকেরা প্রার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে বেলকুচি পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু বক্কার বলেন, ‘দীর্ঘ পঁচিশ বছর হলো পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছি। এই সম্মেলনে আমি আবার সভাপতি হিসেবে প্রার্থিতা ঘোষণা করলে বর্তমান সাংসদ আব্দুল মোমিন মণ্ডল ও জেলা আওয়ামী লীগের অব্যাহতি প্রাপ্ত সাবেক সভাপতি আব্দুল লতিফ বিশ্বাস আমার প্রার্থিতা বাতিল করেন” তিনি আরও বলেন, যখন জামায়াত-বিএনপি ক্ষমতায় ছিল তখন কারা নির্যাতিত হয়েছি, অত্যাচার নির্যাতন সহ্য করেছি। আজ আমার মতো পরীক্ষিত আওয়ামী পরিবারের সন্তানদের বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দমতো জামায়াত বিএনপির লোক দিয়ে কমিটি গঠন করা হলো। দুই নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক, সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা ঘোষণা দিলে তার প্রার্থিতাও বাতিল করা হয়। এ সময় তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। মাটিতে গড়াগড়ি দিতে দিতে তিনি আল্লার কাছে তার সঙ্গে হওয়া অন্যায়ের বিচার চান। তার আর্তনাদে নেতা-কর্মীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়েন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমার পরিবার, আওয়ামী লীগের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পরিবার। উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে আমার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এর বিচার প্রত্যাশা করছি।

একইভাবে পৌরসভার অন্য ওয়ার্ডেরও সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এই বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সামাদ তালুকদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কী কারণে তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে, আমি জানি না, বেলকুচি উপজেলা আ. লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে বিষয়টি শুনব। এ বিষয়ে জানতে বেলকুচি উপজেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে একাধিকবার ফোন করলে, তারা রিসিভ করেননি, ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।