শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপনের অভিযোগ

নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া অগভীর নলকূপ স্থাপনের দূরত্ব সঠিক না থাকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নে দুটি সেচ পাম্পের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। লাইসেন্স বাতিলের চিঠি পাওয়ার ৯দিনেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয়। লাইসেন্স পুনর্বহালসহ লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রæয়ারি উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপজেলা সেচ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ হোসেন।

সভায় বলা হয়, জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য হরিরামপুর ইউনিয়নের ক্রোড়গাছা গ্রামের আহসান হাবীব ২০১২ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি কৃষি জমিতে পানি দেওয়ার জন্য একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য লাইসেন্স পান। একই গ্রামের লাইলী বেগমও মাত্র ২০০ ফুট উত্তর পশ্চিম পাশে আরেকটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি লাইসেন্স পান। অপরদিকে একই ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের তোজাম্মেল ব্যাপারী ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি দুটি লাইসেন্স পান। একই গ্রামের দুদু মিয়াও ২০২১ সালের ২ ফেব্রæয়ারি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য একটি লাইসেন্স পান। তোজাম্মেল ব্যাপারীর দুটি সেচ পাম্প থেকে মাত্র ৪০০ ও ৩৪০ ফুট দূরে দুদু মিয়া অগভীর নলকূপটি স্থাপন করেছেন।

ফলে নীতিমালা অনুযায়ী দূরত্ব সঠিক না থাকায় লাইলী বেগম ও দুদু মিয়ার লাইসেন্স দুটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়। এই সভার নোটিশ গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয় গ্রহন করে গত ১৭ ফেব্রæয়ারি। নোটিশ গ্রহনের পর কালক্ষেপন করা হচ্ছে। ফলে এই দুটি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে কৃষি জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য অগভীর নলকূপ স্থাপনের করতে উপজেলা সেচ কমিটির কাছে আবেদন করতে হয় কৃষককে। এই উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সেই আবেদনের সত্যতা যাচাইসহ নীতিমালা মোতাবেক সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরিদর্শনের দায়িত্ব পান একজন কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে সবকিছু দেখে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপরই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লাইসেন্স প্রদান করা বা না করার বিষয়টি।

ভুক্তভোগী আহসান হাবীব ও তোজাম্মেল ব্যাপারী অভিযোগ করেন, বাতিল হওয়া লাইসেন্স দুটি পূনর্বহালের জন্য চেষ্টা করছেন লাইলী বেগম ও দুদু মিয়া। আবার তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া কার্যালয় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপন করছে। তাই লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চিঠি পাওয়ার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।

কালক্ষেপনের অভিযোগ অস্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এখন বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিনই জমিতে পানি লাগছে। তাই বিষয়টি তদন্ত না করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে আগামীকাল রোববার রিপোর্ট জমা দিবেন। রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেচ পাম্প থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ বিষয়ে আহসান হাবীব ও তোজাম্মেল ব্যাপারী বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া সেচ পাম্প দুটির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও বোরো ধানের কোন ক্ষতি হবেনা। কেননা লাইলী বেগম ও দুদু মিয়া লাইসেন্স পাওয়ার আগে আমাদের সেচ পাম্প থেকেই সেসব জমিতে পানি সেচ দেওয়া হতো।

লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও মো. আরিফ হোসেন বলেন, যে কারণে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী সেই শর্ত পূরণ করলে লাইসেন্স পুনর্বহাল হতে পারে। ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির দেওয়া প্রস্তাবনায় সেচ পাম্প দুটির লাইসেন্স বাতিল ও বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। আর তা না করা হলে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে আমরা পরবর্তী সভায় পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কমকর্তাকে ডেকে আবার সিদ্ধান্ত নেব।

জনপ্রিয়

বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৫:৩৮:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২

নীতিমালা অনুযায়ী কৃষি জমিতে সেচ দেওয়া অগভীর নলকূপ স্থাপনের দূরত্ব সঠিক না থাকায় গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নে দুটি সেচ পাম্পের লাইসেন্স স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয়। লাইসেন্স বাতিলের চিঠি পাওয়ার ৯দিনেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাঘাটা উপজেলার বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয়। লাইসেন্স পুনর্বহালসহ লাইসেন্স বাতিল হওয়া ব্যক্তিদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ ফেব্রæয়ারি উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপজেলা সেচ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফ হোসেন।

সভায় বলা হয়, জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য হরিরামপুর ইউনিয়নের ক্রোড়গাছা গ্রামের আহসান হাবীব ২০১২ সালের ৮ ফেব্রæয়ারি কৃষি জমিতে পানি দেওয়ার জন্য একটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য লাইসেন্স পান। একই গ্রামের লাইলী বেগমও মাত্র ২০০ ফুট উত্তর পশ্চিম পাশে আরেকটি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য ২০২১ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি লাইসেন্স পান। অপরদিকে একই ইউনিয়নের হরিরামপুর গ্রামের তোজাম্মেল ব্যাপারী ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং ২০১৯ সালের ২৮ ফেব্রæয়ারি দুটি লাইসেন্স পান। একই গ্রামের দুদু মিয়াও ২০২১ সালের ২ ফেব্রæয়ারি অগভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য একটি লাইসেন্স পান। তোজাম্মেল ব্যাপারীর দুটি সেচ পাম্প থেকে মাত্র ৪০০ ও ৩৪০ ফুট দূরে দুদু মিয়া অগভীর নলকূপটি স্থাপন করেছেন।

ফলে নীতিমালা অনুযায়ী দূরত্ব সঠিক না থাকায় লাইলী বেগম ও দুদু মিয়ার লাইসেন্স দুটি স্থায়ীভাবে বাতিল করা হয় ও বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় সভায়। এই সভার নোটিশ গাইবান্ধা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয় গ্রহন করে গত ১৭ ফেব্রæয়ারি। নোটিশ গ্রহনের পর কালক্ষেপন করা হচ্ছে। ফলে এই দুটি সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে কৃষি জমিতে পানি সেচ দেওয়ার জন্য অগভীর নলকূপ স্থাপনের করতে উপজেলা সেচ কমিটির কাছে আবেদন করতে হয় কৃষককে। এই উপজেলা সেচ কমিটির সভাপতি হচ্ছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। সেই আবেদনের সত্যতা যাচাইসহ নীতিমালা মোতাবেক সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা তা পরিদর্শনের দায়িত্ব পান একজন কর্মকর্তা। এই কর্মকর্তা সরেজমিনে গিয়ে সবকিছু দেখে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপরই সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় লাইসেন্স প্রদান করা বা না করার বিষয়টি।

ভুক্তভোগী আহসান হাবীব ও তোজাম্মেল ব্যাপারী অভিযোগ করেন, বাতিল হওয়া লাইসেন্স দুটি পূনর্বহালের জন্য চেষ্টা করছেন লাইলী বেগম ও দুদু মিয়া। আবার তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বোনারপাড়া কার্যালয় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে কালক্ষেপন করছে। তাই লাইসেন্স বাতিল হওয়ায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার চিঠি পাওয়ার ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়নি।

কালক্ষেপনের অভিযোগ অস্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বোনারপাড়া জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. মোস্তাক আহম্মেদ বলেন, এখন বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। প্রতিদিনই জমিতে পানি লাগছে। তাই বিষয়টি তদন্ত না করে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবেনা। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে একজন পরিদর্শককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি সরেজমিন পরিদর্শন করে আগামীকাল রোববার রিপোর্ট জমা দিবেন। রিপোর্টে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সেচ পাম্প থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে। এ বিষয়ে আহসান হাবীব ও তোজাম্মেল ব্যাপারী বলেন, লাইসেন্স বাতিল হওয়া সেচ পাম্প দুটির বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করলেও বোরো ধানের কোন ক্ষতি হবেনা। কেননা লাইলী বেগম ও দুদু মিয়া লাইসেন্স পাওয়ার আগে আমাদের সেচ পাম্প থেকেই সেসব জমিতে পানি সেচ দেওয়া হতো।

লাইসেন্স পুনর্বহালের বিষয়ে গোবিন্দগঞ্জের ইউএনও মো. আরিফ হোসেন বলেন, যে কারণে লাইসেন্স বাতিল হয়েছে নীতিমালা অনুযায়ী সেই শর্ত পূরণ করলে লাইসেন্স পুনর্বহাল হতে পারে। ইউএনও আরও বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি করা হয়। সেই কমিটির দেওয়া প্রস্তাবনায় সেচ পাম্প দুটির লাইসেন্স বাতিল ও বৈদ্যুতিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সভায়। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে পল্লী বিদ্যুত সমিতি। আর তা না করা হলে ভুক্তভোগীরা বিষয়টি লিখিতভাবে জানালে আমরা পরবর্তী সভায় পল্লী বিদ্যুতের সংশ্লিষ্ট কমকর্তাকে ডেকে আবার সিদ্ধান্ত নেব।