সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২০ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ফলোআপ: মানবতার ফেরিওয়ালা আবু জাহিদ নিউয়ের ঘর পেল সেই মা-ছেলে 

গাইবান্ধায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধ মা-ছেলের ভাসমান বসবাসের খবর পলাশবাড়ীর সাংবাদিক সোহেল রানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর প্রকাশের পর অবশেষে মানবতার ফেরিওয়ালা নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু জাহিদ নিউয়ের ঘর পেল সেই বৃদ্ধা মা-ছেলে।

বৃদ্ধা ৭২ বছর বয়সী মা কয়েদভানু ও বাক প্রতিবন্ধী ছেলের করুন অবস্থার খবর প্রকাশ হলে নজরে আসে মানবতার ফেরিওয়ালা আমেরিকা প্রবাসী ইন্জিনিয়ার আবু জাহিদ নিউয়ের। তিনি বসবাসের জন্য তাদেরকে একটি টিনসেড ঘর, টিউবওয়েল ও একটি টয়লেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাশিয়াবাড়ী গ্রামের দরিদ্র মোহম্মদ মিয়ার জায়গাতে ঘরটি নির্মান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু জাহিদ নিউয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের কর্মী রশিদুল ইসলামের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধা মা-ছেলের বসবাসের জন্য বিজয়ের মাসে উপহার হিসেবে মা-ছেলেকে সাজ সজ্জায় সাজিয়ে ভ্যানযোগে নিয়ে গিয়ে নতুন ঘরে তুলে দেন।

এছাড়াও ওই বৃদ্ধা মা-ছেলেকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে, টয়লেট, টিউবওয়েল, চৌকি, শাড়ী, ব্লউজ, ছায়া, লুঙ্গী, গেন্জী, কম্বল, জতা, হাড়ি, পাতিল, জগ,মগ,প্লেট,নগদ অর্থ। বৃদ্ধা কয়েদভানু থাকার আশ্রয় হিসেবে ঘর,টয়লেট,টিউবওয়েলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পেয়ে আনন্দে আবেগে আত্মহারা হয়ে পড়েন।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলাম, পলাশবাড়ী উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুজ্জামান প্রান্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ছাদেকুল ইসলাম,হোসেনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেত্রী লাইজু আকতার,ফরিদুল,রায়হানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।দোয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মনি মিয়া।

এব্যাপারে এলাকাবাসী জানান, মানবতার ফেরিওয়ালা আবু জাহিদ নিউয়ের মানুষের কল্যানে এধরনের কাজগুলো আগামীতেও যেন অব্যাহত থাকে।তাছাড়া আমরা তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।আমরা তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন ভাল থাকেন।

উল্লেখ্য,কয়েদভানুর বয়স প্রায় ৭২ বছর ছুঁইছুঁই। তার একমাত্র ছেলে আশকর আলী (৫২)। ছেলেটিও বাকপ্রতিবন্ধী। উত্তরাধীকার সূত্রে কোনো সহায় সম্বল না থাকায় মা-ছেলে ঠিকানাহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিল বিভিন্ন হাট-বাজারে খেয়ে না খেয়ে। সম্প্রতি,গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী আমিন মার্কেটের পাশে খোলা আকাশের নিচে বিছানাপত্র নিয়ে দেখা গেছে এই বৃদ্ধ মা-ছেলেকে। জানা যায়, ১৯৭০ সালে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আলতাব হোসেনের সঙ্গে কয়েদভানুর বিয়ে হয়। সেখানে দাম্পত্য জীবনে আশকর আলীর জন্ম হয়। এরপর বছর খানেক যেতে না যেতেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয় কয়েদভানুর। পরে কয়েদভানু সন্তানকে হাতে নিয়ে কাশিয়াবাড়ী গ্রামের তজের প্রধানের সঙ্গে আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর কল্পনা ও গোলাপী নামে ২ মেয়ের জন্মদেন।এর পর সেখানেও কয়েদভানুকে তার স্বামী ডিভোর্স দেন। কয়েদভানু সন্তানদের কথা ভেবেই রয়ে যান ওই গ্রামেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কয়েদভানু অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে চলছিল তাদের দুঃখে কষ্টের সংসার। এমনকি অর্থাভাবে পারেনা ভাল কোন খেতে,পারেনা ভাল কোন চিকিৎসা সেবা নিতে। বর্তমানে কয়েদভানু ও ছেলে আশকরের নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তাদের শরীরে। যেন বয়সের ভাঁড়ে নুয়ে পরেছেন মা-ছেলে দুজনে। স্থানীয়রা বলেন, তাদের নিজস্ব কোন ঘরবাড়ী না থাকায় দীর্ঘদিন অন্যের আশ্রয়ে থাকতেন। কিন্তু ৯ মাস পুর্বে একমাত্র থাকার সেই আশ্রয়টুকু হারিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে ভাসমান ভাবে বসবাস করছে আসছিলেন। আবার কখনও কাশিয়াবাড়ী আমিন মার্কেটের বারান্দায় আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে এই কনকনে শীতে রাত্রি যাপন করছিলেন। এছাড়াও রাস্তায় চুলা বসিয়ে খাবার রান্না করে থাকেন বৃদ্ধা কয়েদ ভানু। শুধু তাই নয়, তাদের পড়নে নেই কোন ভালো কাপড়-চোপর। নেই কোন খাবারের কোন সু-ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে সরকারী ত্রাণসামগ্রী ও বর্তমানে বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ীদের এক টাকা, দু-টাকা করে চেয়ে নিয়ে প্রতিনিয়ত দিন চলে মা-ছেলের। তাদের দেখভালের কোন আত্মীয়স্বজন না থাকায় অসহায়ত্ব জীবনে বৃদ্ধা ৭২ বছর বয়সী মা কয়েদভানু ছেলে ৫২ বছর বয়সী শারীরিক ভারসাম্যহীন আশকর এভাবেই দেখভাল করে চলেছেন।

ফলোআপ: মানবতার ফেরিওয়ালা আবু জাহিদ নিউয়ের ঘর পেল সেই মা-ছেলে 

প্রকাশের সময়: ০৪:২৩:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ জানুয়ারী ২০২১

গাইবান্ধায় প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বৃদ্ধ মা-ছেলের ভাসমান বসবাসের খবর পলাশবাড়ীর সাংবাদিক সোহেল রানা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও অনলাইন নিউজ পোর্টালে খবর প্রকাশের পর অবশেষে মানবতার ফেরিওয়ালা নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু জাহিদ নিউয়ের ঘর পেল সেই বৃদ্ধা মা-ছেলে।

বৃদ্ধা ৭২ বছর বয়সী মা কয়েদভানু ও বাক প্রতিবন্ধী ছেলের করুন অবস্থার খবর প্রকাশ হলে নজরে আসে মানবতার ফেরিওয়ালা আমেরিকা প্রবাসী ইন্জিনিয়ার আবু জাহিদ নিউয়ের। তিনি বসবাসের জন্য তাদেরকে একটি টিনসেড ঘর, টিউবওয়েল ও একটি টয়লেট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাশিয়াবাড়ী গ্রামের দরিদ্র মোহম্মদ মিয়ার জায়গাতে ঘরটি নির্মান করা হয়।

বৃহস্পতিবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেলে নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আবু জাহিদ নিউয়ের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নিউ লাইফ ফাউন্ডেশনের কর্মী রশিদুল ইসলামের মাধ্যমে ওই বৃদ্ধা মা-ছেলের বসবাসের জন্য বিজয়ের মাসে উপহার হিসেবে মা-ছেলেকে সাজ সজ্জায় সাজিয়ে ভ্যানযোগে নিয়ে গিয়ে নতুন ঘরে তুলে দেন।

এছাড়াও ওই বৃদ্ধা মা-ছেলেকে উপহার হিসেবে দেয়া হয়েছে, টয়লেট, টিউবওয়েল, চৌকি, শাড়ী, ব্লউজ, ছায়া, লুঙ্গী, গেন্জী, কম্বল, জতা, হাড়ি, পাতিল, জগ,মগ,প্লেট,নগদ অর্থ। বৃদ্ধা কয়েদভানু থাকার আশ্রয় হিসেবে ঘর,টয়লেট,টিউবওয়েলসহ অন্যান্য জিনিসপত্র পেয়ে আনন্দে আবেগে আত্মহারা হয়ে পড়েন।

ঘর হস্তান্তর অনুষ্ঠানে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন,ফাউন্ডেশনের সহ-সভাপতি লুৎফর রহমান, সাধারণ সম্পাদক রশিদুল ইসলাম, পলাশবাড়ী উপজেলা শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুজ্জামান প্রান্ত, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলহাজ্ব ছাদেকুল ইসলাম,হোসেনপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেত্রী লাইজু আকতার,ফরিদুল,রায়হানসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।দোয়া অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মনি মিয়া।

এব্যাপারে এলাকাবাসী জানান, মানবতার ফেরিওয়ালা আবু জাহিদ নিউয়ের মানুষের কল্যানে এধরনের কাজগুলো আগামীতেও যেন অব্যাহত থাকে।তাছাড়া আমরা তাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাই।আমরা তার জন্য দোয়া করি তিনি যেন ভাল থাকেন।

উল্লেখ্য,কয়েদভানুর বয়স প্রায় ৭২ বছর ছুঁইছুঁই। তার একমাত্র ছেলে আশকর আলী (৫২)। ছেলেটিও বাকপ্রতিবন্ধী। উত্তরাধীকার সূত্রে কোনো সহায় সম্বল না থাকায় মা-ছেলে ঠিকানাহীন অবস্থায় বসবাস করে আসছিল বিভিন্ন হাট-বাজারে খেয়ে না খেয়ে। সম্প্রতি,গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী আমিন মার্কেটের পাশে খোলা আকাশের নিচে বিছানাপত্র নিয়ে দেখা গেছে এই বৃদ্ধ মা-ছেলেকে। জানা যায়, ১৯৭০ সালে পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের কাশিয়াবাড়ী গ্রামের আলতাব হোসেনের সঙ্গে কয়েদভানুর বিয়ে হয়। সেখানে দাম্পত্য জীবনে আশকর আলীর জন্ম হয়। এরপর বছর খানেক যেতে না যেতেই বিবাহ বিচ্ছেদ হয় কয়েদভানুর। পরে কয়েদভানু সন্তানকে হাতে নিয়ে কাশিয়াবাড়ী গ্রামের তজের প্রধানের সঙ্গে আবারও বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুদিন পর কল্পনা ও গোলাপী নামে ২ মেয়ের জন্মদেন।এর পর সেখানেও কয়েদভানুকে তার স্বামী ডিভোর্স দেন। কয়েদভানু সন্তানদের কথা ভেবেই রয়ে যান ওই গ্রামেই। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জীবন-জীবিকার তাগিদে প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে কয়েদভানু অন্যের বাড়িতে কাজকর্ম করে চলছিল তাদের দুঃখে কষ্টের সংসার। এমনকি অর্থাভাবে পারেনা ভাল কোন খেতে,পারেনা ভাল কোন চিকিৎসা সেবা নিতে। বর্তমানে কয়েদভানু ও ছেলে আশকরের নানা রোগ বাসা বেঁধেছে তাদের শরীরে। যেন বয়সের ভাঁড়ে নুয়ে পরেছেন মা-ছেলে দুজনে। স্থানীয়রা বলেন, তাদের নিজস্ব কোন ঘরবাড়ী না থাকায় দীর্ঘদিন অন্যের আশ্রয়ে থাকতেন। কিন্তু ৯ মাস পুর্বে একমাত্র থাকার সেই আশ্রয়টুকু হারিয়ে বিভিন্ন হাট-বাজারে ভাসমান ভাবে বসবাস করছে আসছিলেন। আবার কখনও কাশিয়াবাড়ী আমিন মার্কেটের বারান্দায় আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে এই কনকনে শীতে রাত্রি যাপন করছিলেন। এছাড়াও রাস্তায় চুলা বসিয়ে খাবার রান্না করে থাকেন বৃদ্ধা কয়েদ ভানু। শুধু তাই নয়, তাদের পড়নে নেই কোন ভালো কাপড়-চোপর। নেই কোন খাবারের কোন সু-ব্যবস্থা। মাঝে মধ্যে সরকারী ত্রাণসামগ্রী ও বর্তমানে বাজারের কতিপয় ব্যবসায়ীদের এক টাকা, দু-টাকা করে চেয়ে নিয়ে প্রতিনিয়ত দিন চলে মা-ছেলের। তাদের দেখভালের কোন আত্মীয়স্বজন না থাকায় অসহায়ত্ব জীবনে বৃদ্ধা ৭২ বছর বয়সী মা কয়েদভানু ছেলে ৫২ বছর বয়সী শারীরিক ভারসাম্যহীন আশকর এভাবেই দেখভাল করে চলেছেন।