প্রযুক্তিগত সহযোগিতায় দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে আধুনিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে কৃষি। এতে লাভবান হচ্ছেন এলাকার উদ্যোমী কৃষক। ফলে দিন দিন বদল হচ্ছে কৃষকদের, কৃষি অর্থনীতির গতি সঞ্চার হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে যোগ হওয়া এমনআ এক প্রযুক্তি আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা। এতে শ্রম, স্থান, সেচ খরচও কম লাগে। ভালো মানের চারা পেতে কৃষকরা ঝুঁকছেন আদর্শ বীজতলা তৈরিতে। শীত ও কুয়াশাকে উপেক্ষা করে চিরিরবন্দর উপজেলায় বীজতলা তৈরি ও চাষে কৃষকের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ধান উৎপাদন খরচ ৩০ থেকে ৩৫ ভাগ কমে যায়। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলায় ইরি-বোরো ধান রোপনে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে আদর্শ (কমিউনিটি) বীজতলা।
এখন শীতের কবল হতে রক্ষা করতে বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। পুরনো পদ্ধতির বীজতলার পরিবর্তে এখন আদর্শ বীজতলা তৈরিতে ঝুঁকছেন কৃষকরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সনাতন পদ্ধতির চেয়ে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরিতে শ্রম, স্থান, সেচ খরচও কম লাগে এবং ভালো মানের চারা পাওয়া যায়। এতে ভালো ফলনও পাওয়া যায়। আদর্শ পদ্ধতিতে চারা উৎপাদনের জন্য প্রথমে শুকনা জমি ভালোভাবে চাষ করে জৈব ও রাসায়নিক সার দিতে হয়। জমি প্রস্তুত হলে ১ মিটার প্রস্থ, ৩ মিটার দৈর্ঘ্য এবং প্রতিটি বেডের মাঝে ৫০ সে. মি. নালা রেখে বীজতলা তৈরি করতে হবে। মানসম্মত বীজ ২৪ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সেগুলো বীজতলায় ছিঁটিয়ে দিতে হয়। বীজ ছিঁটানোর ৩৫ থেকে ৪০দিনের মধ্যে চারাগুলো রোপণের জন্য উপযুক্ত হয়।
উপজেলার নশরতপুর, সাঁইতাড়া ও আব্দুলপুর ইউনিয়নের কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা জানান, পুরোনো পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে পোকা-মাকড়ের আক্রমণ ও শীতকালীন বালাই মোকাবিলা করতে হতো। কৃষি বিভাগের পরামর্শে আদর্শ পদ্ধতিতে বীজতলা তৈরি করে এসব সমস্যা মোকাবিলা করা যায়।
উপজেলার নশরতপুর ইউনিয়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. খাদেমুল ইসলাম জানান, আদর্শ বীজতলায় স্বল্প খরচে সুস্থ-সবল চারা উৎপাদন ও কোল্ড ইনজুরির ঝুঁকা কম থাকে। আদর্শ বীজতলায় দ্রুত সেচের পানি নিষ্কাশন করা যায়। সহজে আলো-বাতাস চলাচল করে। চারার শিকড় সহজে মাটিতে প্রবেশ করে খাদ্য সংগ্রহ করে। পরিচর্যা করাও সহজ হয়। চারা সতেজ-পুষ্ট হয় এবং ফলনও ভালো হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জোহরা সুলতানা জানান, উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যে বোরো বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত হয়েছে ঊপশী ৮৮৮ হেক্টর ও হাইব্রিড ৭৪ হেক্টর জমি। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ঊপশী ৮৯৫ হেক্টর ও হাইব্রিড ৭৫ হেক্টর জমি। এছাড়াও আদর্শ বীজতলা সাড়ে ৮শ’ হেক্টর, সাধারণ ১২০ ও পলিথিন আবৃত ১০ হেক্টর জমিতে বীজতলা রয়েছে। এছাড়াও তিনি আরও জানান, সুস্থ ও সবল চারা উৎপাদন, বৈরি আবহাওয়া মোকাবিলা করতে ও কোল্ড ইনজুরি থেকে রক্ষা ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণের ঝুঁকি কম থাকায় কৃষকেরা আদর্শ বীজতলা তৈরি করছেন।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 


















