শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৪:৪০ পূর্বাহ্ন

নারীদের মডেল আরিফা

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : বৃহস্পতিবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২২

ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবল কাজে লাগিয়ে নারীরা ভিন্ন ভিন্ন পেশাকে আকড়ে ধরে এগিয়ে যাচ্ছে। এতে তারা অনেকেই সুনামও কুড়াচ্ছেন। তেমনি একজন সফল নারী উদ্যোক্তা আরিফা খাতুন। নিজের প্রতিষ্ঠান জয়িতা সেন্টার আর পরিবার সামলাতেই ব্যস্ত থাকেন আরিফা। অন্যদিকে মনযোগ দেয়ার সময় নেই তার।

উপজেলার আর দশটি সাধারণ মেয়ের মতোই এসএসসি পরীক্ষার ঠিক এক বছর আগে ২০০০ সালে আরিফা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তিনি ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৩ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরে গৃহিণী হিসেবে অতিবাহিত করে দেন অনেকটা সময়। কিন্তু ছোটবেলা থেকে ‘নিজেই কিছু একটা’ করার প্রবল ইচ্ছা হৃদয়ে লালন করতেন আরিফা। বিয়ের পরেও সেটি ছাড়েননি। অপেক্ষায় ছিলেন ভালো সময়ের। নিজের সেই ইচ্ছাকে বাস্তবে রুপদান করতে বিয়ের ৯ বছর পর ২০০৯ সালে ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সেলাইয়ের প্রশিক্ষণ নেন আরিফা। সেই প্রশিক্ষণের পর তাঁর দেবরের দেয়া একটি সেলাই মেশিন দিয়ে তিনি বাড়িতেই পারিশ্রমিকের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের পোশাক সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন। সময় যতই গড়াতে থাকে, ততই বৃদ্ধি পেতে থাকে কাজের চাপ। সে জন্য ২০১৫ সালে বাড়ির পাশে একটি দোকান ভাড়া নিয়ে আরও কিছু সেলাই মেশিন কিনে কাজের পরিসর বৃদ্ধি করেন তিনি। জয়িতা সেন্টার নামে সে দোকানে এখন কাজ করেন তিনজন কর্মচারী। এখান থেকে খরচ বাদে প্রতিমাসে তাঁর আয় হয় ১৫-২০ হাজার টাকা। এতে তার সংসারে ফিরেছে সচ্ছলতা। এলাকার সবার নিকট তিনি হয়েছেন প্রশংসিত।

সফল এই নারী উদ্যোক্তা খানসামা উপজেলার গোবিন্দপুর পানুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মোহাম্মদ আলী সিদ্দিক পেশায় একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। সেলাইয়ের কাজের পরিসর বাড়িয়েই চুপ থাকেননি আরিফা। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর থেকে বøক-বাটিক, নকশিকাঁথা এবং আবারও কিছু সেলাইয়ে প্রশিক্ষণ নেন তিনি। পরে বিভিন্ন সময়ে ৯০০ থেকে ১ হাজার নারীকে এসব প্রশিক্ষণ দিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে সহযোগিতা করেন তিনি। সেই সব নারীরাও সংসারে এনেছেন সচ্ছলতা। এসব কাজের স্বীকৃতি হিসেবে গত কয়েক বছর উপজেলা, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা হিসেবে পুরস্কৃত হন তিনি। সেলাইয়ের কাজের পাশাপাশি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিভিন্ন কাজে আরিফার রয়েছে সরব উপস্থিতি। ব্র্যাকের পল্লী সমাজ নামে একটি সংগঠনের সভাপতি হিসেবে তিনি এলাকার মানুষের বিপদ-আপদে এবং সামাজিক সমস্যায় এগিয়ে আসেন।

আরিফা খাতুনের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘সংসারের বোঝা হয়ে না থেকে কিছু একটা করার ইচ্ছা থেকে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেছিলাম। সেখান থেকে নিজেও স্বাবলম্বী হয়েছি, অন্যদেরও উৎসাহিত করছি।’ যেকোনো স্তরের সহায়তা পেলে সেলাই প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ আরও ব্যাপক পরিসরে করবেন বলে জানান তিনি।

আরিফার এই সফলতার কথা জানেন উপজেলা পরিষদের (মহিলা) ভাইস্ চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন। তিনি বলেন, ‘আরিফা উপজেলার নারীদের একজন মডেল। তাঁর এসব কাজ পৃষ্ঠপোষকতা পেলে অনেক নারীই সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন