শনিবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন

সাদুল্লাপুরে গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে গুঞ্জন, স্বজনদের ওপর হামলা

তোফায়েল হোসেন জাকির, জাগো২৪.নেট
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২১

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নিপা বেগম (২০) নামের এক গৃহবধূর মৃত্যু নিয়ে নানা গুঞ্জণের সৃষ্টি হয়েছে। কেউ বলছে এসিড নিক্ষেপে আবার কেউ বা  বলছে রোগাক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিপার পিত্রালয়ের স্বজনদের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের উত্তর ফরিদপুর (প্রধানপাড়া) গ্রামে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাজু মিয়াকে লাঞ্চিত করাসহ নিপার বাবার বাড়ির লোকজন লাঠিপেঠা ও চরথাপ্পরের শিকার হয়।

সরেজমিনে জানা যায়, সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের চিকনী গ্রামের নান্টু মিয়ার মেয়ে নিপা বেগমকে একই উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের উত্তর ফরিদপুর (প্রধানপাড়া)গ্রামের রানা মিয়ার ছেলে মোমিন মিয়ার সঙ্গে এক বছর আগে বিয়ে হয়। সংসার জীবন চলার একপর্যায়ে প্রায় ১৫ দিন আগে স্বামীর বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। এরপর নিপাকে নেওয়া হয় রংপুর মেডিকেল এণ্ড কলেজ হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসা নেয়ার পর আবার বাড়িতে আনা হয় নিপাকে। এরপর নিপার পিতা-মাতা দেখতে পায় নিপার কোমরের নিচে ঝলসে যাওয়া বিশাল ক্ষতের চিহ্ন। বাধ্য হয়ে আবার গাইবান্ধা আধুনিক সদর হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ফের রংপুর মেডিকেল এন্ড কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয় নিপাকে। এ সময় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিপা বেগমের মৃত্যু হয়। এরপর লাশ আনা হয় স্বামী মোমিনের বাড়িতে। বুধবার দুপুরে পর্যন্ত এ লাশ নিয়ে শুরু নানা গুণঞ্জণ। দুপুরের দিকে নিপার পিত্রালয়ের লোকজন মোমিনের বাড়িতে গেলে, সেখানে মারপিটের শিকার হয় তারা। সেই সঙ্গে লাশ নিয়ে চলছে দরকাষাকষি। এনিয়েও চলে উভয়পক্ষের উত্তেজনা। চলছে স্থানীয় মাতাব্বরদের রশি টানাটানি।

এদিকে, নিপার পিতা নান্টু মিয়া জানান, মেয়ের কোমরের নিচে এসিড নিক্ষেপ করে ঝলছে দিয়েছে মোমিন ও তার শ্বশুর-শাশুরী। এ ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে নিপার।

অপরদিকে, মোমিন ও তার পিতা রানা মিয়া বলেন, প্রায় ১৫ আগে বাড়ির পুকুরে গোসল করতে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয় নিপা। এরপর থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মারা যায়। তবে কোন এসিড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেনি।

এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুদ রানা বলেন, এমন খবর পেয়ে ঘটনা স্থালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরও খবর

© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | জাগো২৪.নেট

কারিগরি সহায়তায় : শাহরিয়ার হোসাইন