শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেই মোসলেম প্রধানের পাশে এক কর্মকর্তা

রোজায় একটি হ্যান্ডমাইকের আবদার মোসলেম প্রধানের- শিরোনামে সংবাদ জাগো২৪.নেট এ প্রকাশ হয়। সেটি স্থানীয় সরকারি দফতরের এক কর্মকর্তার নজরে পড়ে। অবশেষে মোসলেম প্রধানকে একটি হ্যান্ডমাইক ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান করেন এ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে মোসলেম প্রধানের হাতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, অনেকদিন ধরে দেখছি মোসলেম চাচা হ্যান্ডমাইক নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের নামাজের আহব্বান করে চলছেন। এটি খুবই একটি ভালো কাজ। কিন্তু এরই মধ্যে জাগো২৪.নেট এর খবরে দেখলাম যে তার মাইকটি নষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থির পরিত্রাণ পেতে মোসলেম চাচাকে সামান্য সহযোগীতা করা হয়।

এ বিষয়ে মোসলেম প্রধান বলেন- কোরআনে আল্লাহ বলেছেন নিজে নামাজ পড় এবং অন্যকেও নামাজ পড়তে বলো। ইসলামের এই আদর্শ মেনে হ্যান্ডমাইকে হেঁটে হেঁটে মুসলমানদের নামাজ পড়ার আহবান করছি। কিন্তু চলতি পবিত্র মাহে রমজানে এসে আমার মাইকটি নষ্ট হয়। ফলে মাইকে নামাজের দাওয়াত বন্ধ থাকে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এ অবস্থায় এক কর্মকর্তা মহোদয় আমাকে একটি হ্যান্ডমাইক কেনার টাকা দিয়েছে। এ জন্য কৃতজ্ঞ ও তার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন মানবিক এই ব্যক্তিকে মানুষের সেবাদানের তৌফিক দান করুন।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের মৃত মহিম উদ্দিন প্রধানের ছেলে মোসলেম প্রধান। ছেলে-মেয়েসহ ৭ সন্তানের জনক তিনি বয়স যখন ৪০, তখন পাটের ব্যবসা করে চলছিলো তার সংসার। এরই মধ্যে এ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালাতেন। সেখানে তাকে নামাজের তাগিদ দিতেন মসজিদের মুসল্লিরা। এরপর শুরুকরেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ। সেই থেকে আর কখনো নামাজ বাদ করেন না। ধীরে ধীরে আল্লাহ ভক্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারবাহিকতায় ১১ বছরে আগে ঢাকা ছেড়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। নিজের টাকায় কেনেন একটি ব্যাগ ও হ্যান্ডমাইক। প্রত্যেক দিন সকালে বেড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন শহর ও হাট-বাজারে। পায়ে যেন তার বাহন। হেঁটে চলেন এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তরে। কাজ একটাই, নামাজের জন্য সবাইকে দাওয়াত দেওয়া।

 

জনপ্রিয়

সেই মোসলেম প্রধানের পাশে এক কর্মকর্তা

প্রকাশের সময়: ০৩:৫১:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

রোজায় একটি হ্যান্ডমাইকের আবদার মোসলেম প্রধানের- শিরোনামে সংবাদ জাগো২৪.নেট এ প্রকাশ হয়। সেটি স্থানীয় সরকারি দফতরের এক কর্মকর্তার নজরে পড়ে। অবশেষে মোসলেম প্রধানকে একটি হ্যান্ডমাইক ক্রয়ের জন্য অর্থ প্রদান করেন এ কর্মকর্তা।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) দুপুর ২ টার দিকে ওই কর্মকর্তার কার্যালয়ে মোসলেম প্রধানের হাতে নগদ অর্থ দেওয়া হয়।

নামপ্রকাশের অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, অনেকদিন ধরে দেখছি মোসলেম চাচা হ্যান্ডমাইক নিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষদের নামাজের আহব্বান করে চলছেন। এটি খুবই একটি ভালো কাজ। কিন্তু এরই মধ্যে জাগো২৪.নেট এর খবরে দেখলাম যে তার মাইকটি নষ্ট হয়েছে। এ পরিস্থির পরিত্রাণ পেতে মোসলেম চাচাকে সামান্য সহযোগীতা করা হয়।

এ বিষয়ে মোসলেম প্রধান বলেন- কোরআনে আল্লাহ বলেছেন নিজে নামাজ পড় এবং অন্যকেও নামাজ পড়তে বলো। ইসলামের এই আদর্শ মেনে হ্যান্ডমাইকে হেঁটে হেঁটে মুসলমানদের নামাজ পড়ার আহবান করছি। কিন্তু চলতি পবিত্র মাহে রমজানে এসে আমার মাইকটি নষ্ট হয়। ফলে মাইকে নামাজের দাওয়াত বন্ধ থাকে। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ি। এ অবস্থায় এক কর্মকর্তা মহোদয় আমাকে একটি হ্যান্ডমাইক কেনার টাকা দিয়েছে। এ জন্য কৃতজ্ঞ ও তার জন্য দোয়া করি। আল্লাহ যেন মানবিক এই ব্যক্তিকে মানুষের সেবাদানের তৌফিক দান করুন।

উল্লেখ্য, গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের মৃত মহিম উদ্দিন প্রধানের ছেলে মোসলেম প্রধান। ছেলে-মেয়েসহ ৭ সন্তানের জনক তিনি বয়স যখন ৪০, তখন পাটের ব্যবসা করে চলছিলো তার সংসার। এরই মধ্যে এ ব্যবসায় ক্ষতিগ্রস্ত হন। এরপর জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালাতেন। সেখানে তাকে নামাজের তাগিদ দিতেন মসজিদের মুসল্লিরা। এরপর শুরুকরেন ৫ ওয়াক্ত নামাজ। সেই থেকে আর কখনো নামাজ বাদ করেন না। ধীরে ধীরে আল্লাহ ভক্ত হয়ে ওঠেন। এরই ধারবাহিকতায় ১১ বছরে আগে ঢাকা ছেড়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। নিজের টাকায় কেনেন একটি ব্যাগ ও হ্যান্ডমাইক। প্রত্যেক দিন সকালে বেড়িয়ে পড়েন বিভিন্ন শহর ও হাট-বাজারে। পায়ে যেন তার বাহন। হেঁটে চলেন এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তরে। কাজ একটাই, নামাজের জন্য সবাইকে দাওয়াত দেওয়া।