শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আত্রাই নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি

মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের জয়গঞ্জ ডাঙ্গাপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও আজও এই জায়গায় নির্মাণ হয়নি সেতু। নির্বাচন আসলে নেতাকর্মীরা এ স্থানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও এলাকাবাসীর আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হয়নি। এ স্থানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকাই চলাচলের একমাত্র ভরসা অত্রাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে দিনাজপুরের খানসামা, বীরগঞ্জ, নিলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করছেন। একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি এখানে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা না হওয়ায় মানুষের অপেক্ষার পালাও আর শেষ হয়নি।

জানা গেছে, দিনাজপুরের খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। বর্ষা মৌসুমে খরস্রোতা হয়ে ওঠে এ নদী। শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর বেশির ভাগ অংশই শুকিয়ে গেছে। তবে নদীর যে অংশে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তার ওপর অন্তত ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে।

খানসামা উপজেলার জয়গঞ্জ ঘাটের ইজারাদার মো. আনোয়ারুল ইসলাম ওই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। এ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবি নারী-পুরুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পারাপার হচ্ছেন। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছেন। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকলে নৌকা দিয়েই চলাচল করে থাকেন। স্থানীয়রা জানান, এখানে একটি সেতুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও আজও তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

উপজেলার জয়গঞ্জ এলাকার আবুল কালাম ও দিপু বলেন, সেই ছোটকাল থেকেই দেখে আসিছু শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকায় করে মানুষ পারাপার হচে। এ্যালাও ওই রকমেই আছে। সারাবছরই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়া এ পথ দিয়া পারাপার হচে।

বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের শুকুর আলী, সুজন ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, জন্ম থেকে শুনে আসছি এ্যাইঠে সেতু নির্মাণ হবে। বিগত সরকারের এমপির নিকট সেতুর কত আন্দোলন, মানববন্ধন করেছি হামরা। জনপ্রতিনিধিরা ভোট আইলে সেতু করি দিবার কথা কয়। কিন্তু ভোটের পর আর কারো কোনো খবর থাকে না। সরকারের পতন হয়্যা গেলো কিন্তু আত্রাই নদীত আর সেতু হইলো না।

ঝাড়বাড়ি-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ জাকির হোসেন বলেন, এখানে সেতু নির্মাণ হলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নিলফামারী ও পঞ্চগড় জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সহজ হবে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের। এলাকার কৃষিখাতসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটবে। এখানে সেতুর অভাবে এলাকার লোকজন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশার ফুলঝুড়ি ছড়ালেও স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতুটি। জেলা প্রশানক, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের স্মারকলিপিসহ ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। অবশ্য খানসামা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ স্থানটি পরিদর্শন ও জরিপ করেছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আত্রাই নদীতে সেতু নির্মাণ এখন সর্বস্তরের মানুষের দাবি।

খানসামা উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। ঢাকা থেকে আমাদেরকে একটি ডিজাইনও পাঠিয়েছিল। আমরা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় ঢাকায় পাঠিয়েছি। এরপর আর কোনো নির্দেশনা আসেনি।

জনপ্রিয়

আত্রাই নদীতে সেতু নির্মাণের দাবি

প্রকাশের সময়: ০৫:০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল ২০২৫

মো. রফিকুল ইসলাম: দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার আলোকঝাড়ী ইউনিয়নের জয়গঞ্জ ডাঙ্গাপাড়ার পাশ দিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। স্বাধীনতার ৫৪ বছর অতিবাহিত হলেও আজও এই জায়গায় নির্মাণ হয়নি সেতু। নির্বাচন আসলে নেতাকর্মীরা এ স্থানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও এলাকাবাসীর আকাঙ্খার বাস্তবায়ন হয়নি। এ স্থানে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় শুষ্ক মৌসুমে ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকাই চলাচলের একমাত্র ভরসা অত্রাঞ্চলের লক্ষাধিক মানুষের। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে দিনাজপুরের খানসামা, বীরগঞ্জ, নিলফামারী, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড় জেলার লক্ষাধিক মানুষ চলাচল করছেন। একটি সেতুর অভাবে দীর্ঘদিন ধরে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন নদীর দুই পাড়ের মানুষ। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অনেক জনপ্রতিনিধি এখানে সেতু নির্মাণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা না হওয়ায় মানুষের অপেক্ষার পালাও আর শেষ হয়নি।

জানা গেছে, দিনাজপুরের খানসামা ও বীরগঞ্জ উপজেলার মধ্যদিয়ে বয়ে গেছে আত্রাই নদী। বর্ষা মৌসুমে খরস্রোতা হয়ে ওঠে এ নদী। শুষ্ক মৌসুমে এ নদীর বেশির ভাগ অংশই শুকিয়ে গেছে। তবে নদীর যে অংশে পানি প্রবাহিত হচ্ছে তার ওপর অন্তত ৫০০ ফুট দৈর্ঘ্যের একটি বাঁশের সাঁকো রয়েছে।

খানসামা উপজেলার জয়গঞ্জ ঘাটের ইজারাদার মো. আনোয়ারুল ইসলাম ওই বাঁশের সাঁকোটি নির্মাণ করেছেন। এ বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়েই প্রতিদিন হাজার হাজার কৃষক, শ্রমিক, কর্মজীবি নারী-পুরুষ, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী পারাপার হচ্ছেন। অনেকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রিকশাভ্যান ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করছেন। তবে বর্ষার ভরা মৌসুমে নদীতে পানি বেশি থাকলে নৌকা দিয়েই চলাচল করে থাকেন। স্থানীয়রা জানান, এখানে একটি সেতুর জন্য সংশ্লিষ্টদের নিকট অনেকবার আবেদন করা হয়েছে। নির্বাচনের পূর্বে প্রার্থীরা সেতু নির্মাণের আশ্বাস দিলেও আজও তা বাস্তবায়নের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

উপজেলার জয়গঞ্জ এলাকার আবুল কালাম ও দিপু বলেন, সেই ছোটকাল থেকেই দেখে আসিছু শুষ্ক মৌসুমে নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো আর বর্ষায় নৌকায় করে মানুষ পারাপার হচে। এ্যালাও ওই রকমেই আছে। সারাবছরই মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়া এ পথ দিয়া পারাপার হচে।

বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের শুকুর আলী, সুজন ইসলামসহ কয়েকজন বলেন, জন্ম থেকে শুনে আসছি এ্যাইঠে সেতু নির্মাণ হবে। বিগত সরকারের এমপির নিকট সেতুর কত আন্দোলন, মানববন্ধন করেছি হামরা। জনপ্রতিনিধিরা ভোট আইলে সেতু করি দিবার কথা কয়। কিন্তু ভোটের পর আর কারো কোনো খবর থাকে না। সরকারের পতন হয়্যা গেলো কিন্তু আত্রাই নদীত আর সেতু হইলো না।

ঝাড়বাড়ি-জয়গঞ্জ খেয়াঘাট সেতু বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক শেখ জাকির হোসেন বলেন, এখানে সেতু নির্মাণ হলে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নিলফামারী ও পঞ্চগড় জেলা শহরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ সৃষ্টি হবে। এতে সহজ হবে শিক্ষা, চিকিৎসাসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের। এলাকার কৃষিখাতসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপ্লব ঘটবে। এখানে সেতুর অভাবে এলাকার লোকজন অনেক পিছিয়ে পড়েছে। পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন। নির্বাচনের পূর্বে জনপ্রতিনিধিরা সেতু নির্মাণের আশার ফুলঝুড়ি ছড়ালেও স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও নির্মিত হয়নি সেতুটি। জেলা প্রশানক, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের স্মারকলিপিসহ ধর্ণা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। অবশ্য খানসামা উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ স্থানটি পরিদর্শন ও জরিপ করেছে। জনদুর্ভোগ লাঘবে আত্রাই নদীতে সেতু নির্মাণ এখন সর্বস্তরের মানুষের দাবি।

খানসামা উপজেলা প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, এখানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছিল। ঢাকা থেকে আমাদেরকে একটি ডিজাইনও পাঠিয়েছিল। আমরা তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে পুনরায় ঢাকায় পাঠিয়েছি। এরপর আর কোনো নির্দেশনা আসেনি।