পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারের পাঁচটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে দোকান ও সিন্দুকের তালা ভেঙে অন্তত ৩০ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ৫ লক্ষ টাকা এবং পরে দোকান মালিক রতন কর্মকারের বাসায় হামলা চালিয়ে ১০ ভরি স্বর্ণ ও ১৫ লক্ষ টাকা নিয়ে যায় ডাকাত দল।
ডাকাতির সময় বাজারের নৈশ্য প্রহরীদের এবং ওই বাড়ির মালিকদের বেঁধে রেখে নির্যাতন করে ডাকাতরা। ডাকাতের সময় দোকান মালিকরা স্থানীয় ব্যক্তিদের ফোন করে সহযোগিতা চাইলেও কেউ এগিয়ে আসেনি। এ ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
সিসিটিভি ফুটেজ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার অষ্টমনিষা বাজারে অবস্থিত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রাত দশটার দিকে বন্ধ করে দোকান মালিকরা। পরে রাত দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে ১০ থেকে ১২ জনের একটি ডাকাত দল অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে নৈশ্য প্রহরীদের বেঁধে ফেলে।
এরপর পর্যায়ক্রমে উত্তম জুয়েলার্স, মধু জুয়েলার্স, মা জুয়েলার্স, ও আখি জুয়েলার্স সহ পাঁচটি স্বর্ণের দোকানের তালা ও সিন্দুকের তালা ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করতে শুরু করে। এ সময় দোকানের ভবনের দুইতলায় বসবাসকারী দোকান মালিক রতন কর্মকার ডাকাতির ঘটনায় ফোন করে স্থানীয় বাসিন্দাদের জানায়।
কিন্তু কেউ ডাকাতকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি। পরে রতন কর্মকারের বাড়িতেও হামলা চালিয়ে সবাইকে মারধর করে স্বর্ণ ও নগদ টাকা লুট করে ডাকাতরা। অবশেষে পুলিশকে ফোন দিলে ১৫ মিনিট পরে পৌঁছায় থানা পুলিশ। কিন্তু এর আগেই ডাকাত দল গুমানি নদীতে অপেক্ষারত স্পিডবোটে পালিয়ে যায়।
৫ জন দোকান মালিকের মতে ৪০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লক্ষ টাকা খোয়া গিয়েছে তাদের। এ ঘটনায় ওই এলাকায় ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে।
উল্লেখ্য, চলনবিল এলাকার রাজধানী খ্যাত ঐতিহ্যবাহী বাজার অষ্টমনিষা ও মির্জাপুর। গুমানি নদীর দুই পাড়ে দুই বাজারের অবস্থান। এই বাজারে স্বর্ণ ও ধান ব্যবসায়ী সহ অনেক ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বসবাস করেন। অষ্টমনিষা প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি ইউনিয়ন হলেও স্বর্ণ ও ধান ব্যবসার ক্ষেত্রে উপজেলার শীর্ষ ব্যবসায়ীদের চেয়ে এই অঞ্চলের ব্যবসায়ীরা এগিয়ে।
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এছাড়া সিআইডি এই ঘটনায় তদন্ত করবে। ডাকাতের সময় দোকান মালিকরা স্থানীয় বাসিন্দাদের ফোন করে সহযোগিতা চেয়েছে। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেনি।
এলাকাবাসী চাইলে এ ঘটনা প্রতিহত করতে পারতো। পরে পুলিশকে ফোন দিলে ১৫ মিনিটে পৌঁছায়। কিন্তু এর আগেই ডাকাত পালিয়ে যায়।তিনি আরো জানান, ৪০ ভরি স্বর্ণ ও ২০ লক্ষ টাকা ডাকাতি হয়েছে বলে দোকান মালিকরা উল্লেখ করেছেন।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, পাবনা 









