সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি প্রদান

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ৪৫ বছরের বৈষম্যের অবসান, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়া বাতিল অথবা সংশোধনের দাবিতে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন লালমনিরহাট জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টাঢ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েন লালমনিরহাট জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়- বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ নিয়ন্ত্রিত, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি মেডিকেল ডিপ্লোমাধারী ডিগ্রী (ডিএমএফ) মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত। বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ড সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (MATS) চালু হয়। যেখানে বর্তমানে ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি ডিপ্লেমা চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সারাদেশে বর্তমানে ১৭টি সরকারি ও ২০৯টি বেসরকারি(MATS) চালু রয়েছে। বর্তমানে ৩৫ হাজার ডিএমএফ ডিগ্রিধারী নিবন্ধিত চিকিৎসক বেকার। এছাড়াও এখনও নিবন্ধন প্রত্যাশী প্রায় ৫০ হাজার ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসক এবং প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। তারা ১৯৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ৮৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।

দীর্ঘ এই সময় ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। এরমধ্যে তাদের চারটি প্রধান বৈষম্যের কথা তুলে ধরেছেন স্মারকলিপিতে। বৈষম্যগুলো হলো- অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায় ১০ম গ্রেডে উন্নীত না করে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করে রাখা, পেশাগত পরিচয় সম্মানজনক উপাধি ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, দীর্ঘ এক যুগ (১২ বছর) এর অধিক সময় ধরে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ না দিয়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা ধ্বংস করা ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ায় ফ্যাসিবাদী কায়দায় বৈষম্য করার অপচেষ্টা।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল এসোসিয়েন লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল হক বলেন, ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সাথে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে বৈষম্য করা হচ্ছে। এরমধ্যে চারটি প্রধান বৈষম্য শনাক্ত করা হয়েয়ে। বৈষম্য বিরোধী অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বৈষম্যহীন সমতার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সারথি হিসেবে আমরা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তথা ডিপ্লোমা ডাক্তারগন প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দৃঢ় বিশ্বাস নোবেল বিজয়ী বৈষম্য বিরোধী মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কখনো হতাশ করবেন না।’

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশনের স্মারকলিপি প্রদান

প্রকাশের সময়: ০৬:২৪:১৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর ২০২৫

উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের ৪৫ বছরের বৈষম্যের অবসান, ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের ৪ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়া বাতিল অথবা সংশোধনের দাবিতে অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে স্বারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন লালমনিরহাট জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১২টাঢ ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের জাতীয় সংগঠন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েন লালমনিরহাট জেলা শাখার পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা কার্যালয়ের যুগ্ম পরিচালকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়- বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ নিয়ন্ত্রিত, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল স্বীকৃত ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি মেডিকেল ডিপ্লোমাধারী ডিগ্রী (ডিএমএফ) মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অনুমোদিত। বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক অধিকার চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ড সরকারের যৌথ উদ্যোগে ১৯৭৬ সালে মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (MATS) চালু হয়। যেখানে বর্তমানে ৪ বছর ৬ মাস মেয়াদি ডিপ্লেমা চিকিৎসা শিক্ষা কার্যক্রম চালু রয়েছে। সারাদেশে বর্তমানে ১৭টি সরকারি ও ২০৯টি বেসরকারি(MATS) চালু রয়েছে। বর্তমানে ৩৫ হাজার ডিএমএফ ডিগ্রিধারী নিবন্ধিত চিকিৎসক বেকার। এছাড়াও এখনও নিবন্ধন প্রত্যাশী প্রায় ৫০ হাজার ডিএমএফ ডিগ্রিধারী চিকিৎসক এবং প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। তারা ১৯৭৯ সাল থেকে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে অত্যন্ত সুনামের সাথে ৮৫ শতাংশ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে।

দীর্ঘ এই সময় ধরে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন তারা। এরমধ্যে তাদের চারটি প্রধান বৈষম্যের কথা তুলে ধরেছেন স্মারকলিপিতে। বৈষম্যগুলো হলো- অন্যান্য ডিপ্লোমাধারীদের ন্যায় ১০ম গ্রেডে উন্নীত না করে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করে রাখা, পেশাগত পরিচয় সম্মানজনক উপাধি ডিপ্লোমা ডাক্তার হিসেবে স্বীকৃতি না দেওয়া, দীর্ঘ এক যুগ (১২ বছর) এর অধিক সময় ধরে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদে নিয়োগ না দিয়ে গ্রামীণ স্বাস্থ্য সেবা ধ্বংস করা ও বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিল অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়ায় ফ্যাসিবাদী কায়দায় বৈষম্য করার অপচেষ্টা।

স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিকেল এসোসিয়েশন লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল হক ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুকসহ অন্যান্য সদস্য বৃন্দ।

বাংলাদেশ ডিপ্লোমা মেডিক্যাল এসোসিয়েন লালমনিরহাট জেলা শাখার সভাপতি মোঃ রেজাউল হক বলেন, ‘উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের সাথে দীর্ঘ ৪৬ বছর ধরে বৈষম্য করা হচ্ছে। এরমধ্যে চারটি প্রধান বৈষম্য শনাক্ত করা হয়েয়ে। বৈষম্য বিরোধী অন্তর্র্বতীকালীন সরকারের বৈষম্যহীন সমতার বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন সারথি হিসেবে আমরা উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার তথা ডিপ্লোমা ডাক্তারগন প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। ডিপ্লোমা চিকিৎসকদের দৃঢ় বিশ্বাস নোবেল বিজয়ী বৈষম্য বিরোধী মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা আমাদের কখনো হতাশ করবেন না।’