সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

খাবারের সন্ধানে ছুটছে মানুষ

তোফায়েল হোসেন জাকির : করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধায় চলছে লকডাউন। এর প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষেরা। ফলে তাদের ঘরে দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাব। তাই খাবার সংগ্রহে ভুক্তভোগি পরিবারগুলো ছুটছেন এদিক সেদিক।

জানা যায়, টানা ১৪ দিনের লকডাউন কার্যকর করতে বিধি-নিষেধ জারি করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।এতে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরা।যার কারণে ওইসব পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কর্মহীন হওয়া এই মানুষদের ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট। স্বাস্থ্যসেবা সহ খাদ্যাভাবে ভুগছেন তারা। ঠিকমতো খেতে পারছেন না দুমুঠো অন্ন। আবার কারও ঘরে রান্না হলেও ভাতের পাতে জুটছে না তরকারি।ফলে শুকনো ভাতে লবন ছিটিয়ে কোনমতে ক্ষুধা নিবারণ করতে হচ্ছে তাদের।

শুধু শ্রমিকই নয়, ভিক্ষুকরাও পড়েছে বিপাকে। পেটের জ্বালায় লকডাউন ভঙ্গ করে অন্যের দুয়ারে গেলেও ভরছে না ভিক্ষার ঝুলি। করোনা সংক্রমণের ভয়ে ওই ভিক্ষুককে বাড়ির উঠানে উঠতে দিচ্ছে না গৃহস্থালিরা। সার্বিক পরিস্থিতিতে দিন আনে দিন খায় পরিবারগুলো শুরু হয়েছে হাহাকার। জীবন বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকে দাদনের টাকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কেউ বা চুরি-চামারি কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করছে সচেতন সমাজ।

এদিকে, চলমান লকডাউনকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে দেখা দিয়েছে ভোজ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর অতিরিক্ত দাম। ফলে ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে কর্মহীন মানুষসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষদের। তবে স্থিথিশীলও রয়েছে কিছু পণ্যের দাম।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যেন মড়ার উপর খড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধা জেলার শ্রম বঞ্চিত মানুষদের। বর্তমানে তারা এক বেলা খাবার যোগানোর চেষ্টায় ত্রাণের খোঁজে ছুটছেন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তশীলদের দ্বারে দ্বারে। এমনি চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম মাঠে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ করছিলেন প্রশাসন। এসময় সহস্রাধিক মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ে ওইসব ত্রাণ সংগ্রহে। কিন্তু প্রশাসনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  অধিক অসহায় মানুষ ছুটে আসায় অনেক মানুষ খালি হাতে ফিরে গেছে বলে জানা গেছে।

গোবিন্দগঞ্জে গণপরিবহন শ্রমিক আজগর আলী জানান, বাসের হেলাপারি করে ৪ সদস্যের সংসার চলছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে বাস। এমতাবস্থায় অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের কাপড় দোকান কর্মচারী নয়ন মিয়া বলেন, দোকানে চাকুরি বেতনে আমার পরিবার নির্ভশীল। লকডাউনে দোকানটি বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছি। যার কারণে স্ত্রী-সন্তানে মুখে দু’বেলা আহার যোগাতে এখন দিশেহারা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, লকডাউনে শ্রমজীবি কর্মহীন মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমণ চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানোর উপহার সামগ্রী প্রকৃত সুবিধাভোগিদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।

খাবারের সন্ধানে ছুটছে মানুষ

প্রকাশের সময়: ০৩:১৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুলাই ২০২১

তোফায়েল হোসেন জাকির : করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে সারাদেশের ন্যায় গাইবান্ধায় চলছে লকডাউন। এর প্রভাবে কর্মহীন হয়ে পড়েছে শ্রমজীবি মানুষেরা। ফলে তাদের ঘরে দেখা দিয়েছে খাদ্যের অভাব। তাই খাবার সংগ্রহে ভুক্তভোগি পরিবারগুলো ছুটছেন এদিক সেদিক।

জানা যায়, টানা ১৪ দিনের লকডাউন কার্যকর করতে বিধি-নিষেধ জারি করেছে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ।এতে বন্ধ রয়েছে গণপরিবহন, শপিংমল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরা।যার কারণে ওইসব পরিবহন শ্রমিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি কর্মহীন হওয়া এই মানুষদের ঘরে ঘরে দেখা দিয়েছে অর্থ সংকট। স্বাস্থ্যসেবা সহ খাদ্যাভাবে ভুগছেন তারা। ঠিকমতো খেতে পারছেন না দুমুঠো অন্ন। আবার কারও ঘরে রান্না হলেও ভাতের পাতে জুটছে না তরকারি।ফলে শুকনো ভাতে লবন ছিটিয়ে কোনমতে ক্ষুধা নিবারণ করতে হচ্ছে তাদের।

শুধু শ্রমিকই নয়, ভিক্ষুকরাও পড়েছে বিপাকে। পেটের জ্বালায় লকডাউন ভঙ্গ করে অন্যের দুয়ারে গেলেও ভরছে না ভিক্ষার ঝুলি। করোনা সংক্রমণের ভয়ে ওই ভিক্ষুককে বাড়ির উঠানে উঠতে দিচ্ছে না গৃহস্থালিরা। সার্বিক পরিস্থিতিতে দিন আনে দিন খায় পরিবারগুলো শুরু হয়েছে হাহাকার। জীবন বাঁচার তাগিদে বাধ্য হয়ে অনেকে দাদনের টাকা নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। কেউ বা চুরি-চামারি কাজে জড়িয়ে পড়ছে বলে ধারণা করছে সচেতন সমাজ।

এদিকে, চলমান লকডাউনকে পুঁজি করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নিত্যপণ্যের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। এতে দেখা দিয়েছে ভোজ্যপণ্যসহ অন্যান্য পণ্যসামগ্রীর অতিরিক্ত দাম। ফলে ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে কর্মহীন মানুষসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষদের। তবে স্থিথিশীলও রয়েছে কিছু পণ্যের দাম।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে যেন মড়ার উপর খড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে গাইবান্ধা জেলার শ্রম বঞ্চিত মানুষদের। বর্তমানে তারা এক বেলা খাবার যোগানোর চেষ্টায় ত্রাণের খোঁজে ছুটছেন প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও বিত্তশীলদের দ্বারে দ্বারে। এমনি চিত্র দেখা গেছে গাইবান্ধা জেলা স্টেডিয়াম মাঠে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর পাঠানো উপহার সামগ্রী বিতরণ করছিলেন প্রশাসন। এসময় সহস্রাধিক মানুষ হুমরি খেয়ে পড়ে ওইসব ত্রাণ সংগ্রহে। কিন্তু প্রশাসনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে  অধিক অসহায় মানুষ ছুটে আসায় অনেক মানুষ খালি হাতে ফিরে গেছে বলে জানা গেছে।

গোবিন্দগঞ্জে গণপরিবহন শ্রমিক আজগর আলী জানান, বাসের হেলাপারি করে ৪ সদস্যের সংসার চলছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে বন্ধ রয়েছে বাস। এমতাবস্থায় অর্থাভাবে পরিবার-পরিজন নিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা শহরের কাপড় দোকান কর্মচারী নয়ন মিয়া বলেন, দোকানে চাকুরি বেতনে আমার পরিবার নির্ভশীল। লকডাউনে দোকানটি বন্ধ হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছি। যার কারণে স্ত্রী-সন্তানে মুখে দু’বেলা আহার যোগাতে এখন দিশেহারা।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক আবদুল মতিন জানান, লকডাউনে শ্রমজীবি কর্মহীন মানুষদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমণ চলমান রয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পাঠানোর উপহার সামগ্রী প্রকৃত সুবিধাভোগিদের মাঝে সুষ্ঠুভাবে বিতরণ করা হচ্ছে।