টেপরেকর্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর কারণে আনসার ব্যাটালিয়ন থেকে চাকরিচ্যুত গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের সফিউল আলমের দিন কাটছে হা-হুতাশ করে।
সফিউল উপজেলার তারাপুর গ্রামের মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। সফিউল ২০০৪ সালে ২৪ আনসার ব্যাটালিয়ন, রেজিঃ নং-১৬৯২৪, শিলছড়ি, কাপ্তাই, রাঙ্গামাটিতে কর্মরত ছিলেন । সেখানে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় এক দিন ব্যারাকে টেপ রেকর্ডারে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ বাজানোর কারণে ওই ক্যাম্পের অধিনায়ক হিরা মিয়া তার প্রতি রাগান্বিত হন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেন। এরপর হঠাৎ ২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর একটি চিঠি মারফত (যার স্বারক নং অপাঃ/ব্যাটাঃ/৬৪০/অঅংগীঃ/২০০৪/ ২৩৬৩ আনস) শৃঙ্খলা জনিত কারণ দেখিয়ে সফিউলকে চাকুরিচ্যুত করেন। এরপর সফিউল ১৯৯৫ সালের আনসার ব্যাটালিয়ন আইনের ১৬ ধারা মোতাবেক আনসার মহা-পরিচালক বরাবর আপীল করেন। কিন্তু অদ্যাবধি আপীলের কোন জবা প্রদান না করায় তিনি ক্ষতির মুখে পড়ে যান।

এ ঘটনায় গত ২৮ ডিসেম্বর সফিউল সুন্দরগঞ্জ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন। এ সংবাদটি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশ হলে আনসার সদর দপ্তর থেকে মনিটরিং সেল সফিউলের বাড়িতে পেঁৗছে তার সকল কাগজ-পত্র ও তথ্যাদি সংগ্রহ করেন। কিন্তু এক মাসেও কোন সুরাহা হয়নি। সফিউল আলম জানান, সংবাদ সম্মেলন করার ৩/৪ দিন পর মনিটরিং সেলের সদস্য আমার কাছে এসে সকল তথ্য ও কাগজপত্র নিয়ে যান। এখন পর্যন্ত কোন
তার কোন সুরাহা হয়নি। তিনি দাবি করে বলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে
এদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছে। সেই বঙ্গবন্ধুর ভাষণ টেপ রেকর্ডারে বাজানো কি আমার
অপরাধ। আর সেই অপরাধে আমাকে চাকুরিচ্যুত করায় আমি এখন হা-হুতাশ করে মরছি।
এব্যাপারে উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ গোলাম রব্বানী জানান, মনিটরিং সেল আনসার সদর দপ্তরের।
এখানে আমাদের করার কিছুই নেই। আনসার ভিডিপির জেলা এ্যাডজুটান্ট রেজাউল ইসলাম জানান, এবিষয়ে কি হবে তা কিছুই জানিনা।
বিপুল ইসলাম আকাশ, করেসপন্ডেন্ট জাগো২৪.নেট, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) 


















