গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার শিক্ষার্থীরা প্রথম ডোজে টিকা পেলেও দ্বিতীয় ডোজ নিতে এসে তাদের ফিরে যেতে হয়েছে বাড়িতে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যথা সময়ে টিকা সরবরাহ না থাকায় ক্ষুব্ধ মনে ফিরে গেল তারা।
সরেজমিনে (৮ ফেব্রুয়ারি) সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে দেখা গেছে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর ভির। এসময় দ্বিতীয় ডোজের টিকা না পেয়ে দুর-দুরান্তর থেকে আসা অভিভাবক-শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষুব্ধতা বিরাজ করছিল।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, করোনা ভাইরাস থেকে স্কুল-কলেজ-মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষা রাখতে তাদের কোভিড-১৯ এর টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সাদুল্লাপুর উপজেলার ১২-১৮ বছর বয়সের শিক্ষার্থীর প্রথম ডোজে টিকা প্রদান করা হয়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের ৬৬টি স্কুলের ১৯ হাজার ২৮৯ জন, ৪২টি মাদরাসার ৪ হাজার ২৬৫ জন ও ১৪টি স্কুল এণ্ড কলেজ পর্যায়ের ৯৩০ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ১২২ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৪ হাজার ২৫২ জন ছাত্র-ছাত্রী প্রথম ডোজে টিকা গ্রহন করে। এ সকল শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের টিকা নেওয়ার সময় হলেও সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) ও মঙ্গলবার (৮ ফেব্রয়ারি) সকাল থেকে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে তারা অতি আগ্রহে উপস্থিত হয়। কিন্তু এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সরবরাহ না থাকায় ধারাবাহিকভাবে ২৪ হাজার শিক্ষার্থীকে বাড়ি ফিরে যেতে হয়েছে। সময়মতে টিকা না পাওয়া ফের টিকা নিতে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে বলে একাধিক অভিভাবক ও শিক্ষার্থী জানিয়েছে।
শাপলা খাতুন নামের নমব শ্রেণির এক ছাত্রী জানায়, দ্বিতীয় ডোজের টিকা নিতে প্রায় ১৫ কিলোমিটর দুর থেকে আসা হয়। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর টিকা না পেয়ে ফেরৎ যেতে হচ্ছে। এতে করে সময় ও অর্থের অপচয় হলো। যার ফলে পুণরায় টিকা নেওয়া আগ্রহ হারিয়েছে।
জামালপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনোয়ারুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে জানান, সংশ্লিষ্টদের নির্দেশে যথা সময় দ্বিতীয় ডোজের টিকা গ্রহণের জন্য শিক্ষার্থীদের আনা হয়। কিন্তু ওই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা সরবরাহ না থাকায় ছাত্রীদের ফেরৎ পাঠানো হয়েছে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাহাবুবুল ইসলাম বলেন, প্রথম ডোজে প্রায় ২৪ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিয়েছে। দ্বিতীয় ডোজের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ফিরে গেছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে টিকা গ্রহণ করতে পারবে তারা।
শিক্ষার্থীরা টিকা না পেয়ে ফিরে যাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শাহিনুল ইসলাম মণ্ডল জাগো২৪.নেট-কে বলেন, বর্তমানে টিকা সরবরাহ পাওয়া যায়নি। এ জন্য সিভিল সার্জন অফিসে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। এসব টিকা আসামাত্রই শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজের কার্যক্রম শুরু করা হবে।

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 



















