বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৩ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো  

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টি চরাঞ্চলের নিভৃত একটি এলাকার নাম খোর্দ্দার বুড়াই। এখানকার খোর্দ্দা তিস্তার শাখা নদী উপর বুড়াইল বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন আগে স্থানীয়দের টাকায় এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হলে, ইতোমধ্যে সেটি এখন নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তবুও প্রয়োজনীয় তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে এই সাঁকো দিয়ে।

সরেজমিনে (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকলে বুড়াইল বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের চলাফেরার দৃশ্য।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বন্যার পরে এবং আগে চরবাসির একটায় চিন্তা তারাপুরের খোর্দ্দার বুড়াই সাঁকোটির উপর দিয়ে সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে চলাচল করা যাবে কিনা। আর তখনেই দাবি উঠে সাঁকোটির সংস্কার ও মেরামতের । কে মেরামত করবে তা নিয়ে ভাবনার শেষ নাই চরবাসির। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয়দের সহায়তা, স্বেচ্ছাশ্রম, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সাংসদের আর্থিক অনুদানে নির্মাণ করা হত সাঁকোটি।

এই সাঁকো দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা, চর খোদ্দা, লাঠশালা, বৈরাগী পাড়া, মন্ডলপাড়া গ্রাম ও কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার  গুনাইগাছ ইউনিয়নের দামারহাট, কালপানি, নাগড়াকুড়া ও হুকাডাঙ্গা গ্রামের কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করে। এছাড়া হাজারও স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং দুই উপজেলায় সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন সাঁকোর উপর দিয়ে।

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, সরকার দলীয় এমপি না থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া হতে বঞ্চিত উপজেলাবাসী। প্রতিটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষ্যমের স্বীকার । সে কারণে প্রসাশনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সরকারের নজরে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

স্থানীয় শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান, সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নড়েবড়ে সাঁকোর উপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে দুই উপজেলার কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। সাঁকো মেরামত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সাঁকোটির উপর দিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া আসা করা যাচ্ছে না। সে কারনে হাঁটু ও কোমর পানি পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাঁকোটি মেরামত একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে ব্যাপক হারে। উৎপাদিত ফসল নিয়ে প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পার হয়ে উপজেলা শহরের বাজারে যেতে হয় কৃষকদের। সে কারনে দ্রুত সাঁকাটি মেরামত প্রয়োজন।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০টি স্থানে বাঁশের সাঁকো রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ হতে সাঁকো সমূহ মেরামত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল-মারুফ জানান,  প্রতিবছর বন্যায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি ভাবে মেরামতের জন্য তেমন কোন বরাদ্দ নেই। তারপরও বিভিন্ন ভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাঁকো সমুহ মেরামত করা হচ্ছে।

 

 

২০ হাজার মানুষের ভরসা বাঁশের সাঁকো  

প্রকাশের সময়: ০৫:৪০:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২২

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীবেষ্টি চরাঞ্চলের নিভৃত একটি এলাকার নাম খোর্দ্দার বুড়াই। এখানকার খোর্দ্দা তিস্তার শাখা নদী উপর বুড়াইল বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করে প্রায় ২০ হাজার মানুষ। দীর্ঘদিন আগে স্থানীয়দের টাকায় এই সাঁকোটি নির্মাণ করা হলে, ইতোমধ্যে সেটি এখন নড়বড়ে অবস্থায় রয়েছে। তবুও প্রয়োজনীয় তাগিদে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলতে হচ্ছে এই সাঁকো দিয়ে।

সরেজমিনে (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকলে বুড়াইল বাঁশের সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে মানুষের চলাফেরার দৃশ্য।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, প্রতি বছর বন্যার পরে এবং আগে চরবাসির একটায় চিন্তা তারাপুরের খোর্দ্দার বুড়াই সাঁকোটির উপর দিয়ে সারা বছর পরিবার পরিজন নিয়ে চলাচল করা যাবে কিনা। আর তখনেই দাবি উঠে সাঁকোটির সংস্কার ও মেরামতের । কে মেরামত করবে তা নিয়ে ভাবনার শেষ নাই চরবাসির। দীর্ঘদিন থেকে স্থানীয়দের সহায়তা, স্বেচ্ছাশ্রম, ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় সাংসদের আর্থিক অনুদানে নির্মাণ করা হত সাঁকোটি।

এই সাঁকো দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের খোদ্দা, চর খোদ্দা, লাঠশালা, বৈরাগী পাড়া, মন্ডলপাড়া গ্রাম ও কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার  গুনাইগাছ ইউনিয়নের দামারহাট, কালপানি, নাগড়াকুড়া ও হুকাডাঙ্গা গ্রামের কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ প্রতিনিয়ত চলাচল করে। এছাড়া হাজারও স্কুল ও কলেজগামী শিক্ষার্থী এবং দুই উপজেলায় সরকারি বেসরকারি চাকরিজীবীরা প্রতিদিন চলাচল করে থাকেন সাঁকোর উপর দিয়ে।

উপজেলার সচেতন মহলের দাবি, সরকার দলীয় এমপি না থাকায় উন্নয়নের ছোঁয়া হতে বঞ্চিত উপজেলাবাসী। প্রতিটি বরাদ্দের ক্ষেত্রে বৈষ্যমের স্বীকার । সে কারণে প্রসাশনের মাধ্যমে বিষয়গুলো সরকারের নজরে নিয়ে আসা প্রয়োজন।

স্থানীয় শিক্ষক রেজাউল ইসলাম জানান, সাঁকোটি দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না করা চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। নড়েবড়ে সাঁকোর উপর দিয়ে ঝুকি নিয়ে দুই উপজেলার কমপক্ষে ২০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চলাচল করে। সাঁকো মেরামত করা অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আনোয়ারুল ইসলাম জানান, সাঁকোটির উপর দিয়ে মালামাল নিয়ে যাওয়া আসা করা যাচ্ছে না। সে কারনে হাঁটু ও কোমর পানি পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। সাঁকোটি মেরামত একান্ত প্রয়োজন। বর্তমানে চরাঞ্চলে বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ হচ্ছে ব্যাপক হারে। উৎপাদিত ফসল নিয়ে প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে পার হয়ে উপজেলা শহরের বাজারে যেতে হয় কৃষকদের। সে কারনে দ্রুত সাঁকাটি মেরামত প্রয়োজন।

তারাপুর ইউনিয়ন পরিষদ ( ইউপি) চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছর সাঁকোটি মেরামত করতে হয়। এ ইউনিয়নে কমপক্ষে ১০টি স্থানে বাঁশের সাঁকো রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ হতে সাঁকো সমূহ মেরামত করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আল-মারুফ জানান,  প্রতিবছর বন্যায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারি ভাবে মেরামতের জন্য তেমন কোন বরাদ্দ নেই। তারপরও বিভিন্ন ভাবে জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে সাঁকো সমুহ মেরামত করা হচ্ছে।