মো. রফিকুল ইসলাম: স্কোয়াশ একটি পুষ্টিকর ও চাহিদাসম্পন্ন সবজি। শহর কিংবা গ্রামের বাজারে এর দাম ভালো থাকে। দিনাজপুরের খানসামায় বিদেশি সবজি স্কোয়াশ চাষ করে সফলতা পেয়েছেন কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের বাসিন্দা। গ্রামের এক কোণে সবুজ লতায় ছেয়ে থাকা ক্ষেত এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিদেশি সবজি স্কোয়াশ ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশ চাষ করে তিনি নতুন স্বপ্নের দুয়ার খুলে দিয়েছেন। সাথে আশপাশের অনেক কৃষকের চোখও খুলে দিয়েছেন।
দিনাজপুর অঞ্চলের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদন প্রদর্শনী হিসেবে রফিকুল ইসলাম তার নিজস্ব মাত্র ২০ শতক জমিতে শুরু করেন এই স্কোয়াশ চাষ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ শুরু করার কিছুদিনের মধ্যেই ক্ষেতে ফলন আসতে শুরু করে। এ পর্যন্ত দুই দফায় ফসল উত্তোলন করেছেন তিনি। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তার ক্ষেত থেকে গড়ে ৬০০ থেকে ৭০০ পিস স্কোয়াশ সংগ্রহ করা হচ্ছে। স্থানীয় বাজারে এসব স্কোয়াশ বিক্রি করে প্রতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। স্বল্প জমিতে এমন আয় দেখে অনেকেই অবাক। কারণ এ অঞ্চলের প্রচলিত সবজি চাষে এত কম জমি থেকে এত আয় সাধারণত কল্পনাতীত।
রফিকুল ইসলাম জানান, কৃষি বিভাগের পরামর্শ ও প্রকল্পের সহায়তায় স্কোয়াশ চাষ শুরু করেছি। এতে আমার খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে প্রায় ৩৫ হাজার টাকার স্কোয়াশ বিক্রি করেছি। গাছে এখনো অনেক ফল আছে। তিনি হাসিমুখে বলেন, সামনে আরও ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি। নিয়মিত সেচ, সময়মতো সার প্রয়োগ ও রোগবালাই দমনে সতর্ক থাকার কথাও জানান তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শ. ম. জাহেদুল ইসলাম জাহিদ বলেন, রফিকুল ইসলামের জমিতে ‘এক্স এল সুপার’ জাতের স্কোয়াশের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক। উন্নত জাতের বীজ, সঠিক সার ও সেচ ব্যবস্থাপনা এবং নিবিড় পরিচর্যার কারণেই এই সাফল্য এসেছে। এই জাত তুলনামূলকভাবে রোগ সহনশীল এবং ফলনকালও দীর্ঘ।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ইয়াসমিন আক্তার জানান, দিনাজপুর অঞ্চলে টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের মূল লক্ষ্যই হলো কৃষকদের আয় বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি বলেন, অল্প জমিতে বেশি উৎপাদন সম্ভব-এটাই এ প্রকল্পের বড় শক্তি। স্কোয়াশের মতো উচ্চমূল্যের ফসল চাষে কৃষকরা আগ্রহী হলে পুরো অঞ্চলের সবজি উৎপাদন ও আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।
তিনি আরও জানান, কৃষি অফিস থেকে রফিকুল ইসলামকে বীজ, সার, মালচিং, জৈব বালাইনাশক, আন্তঃপরিচর্যার অর্থ প্রদান করা হয়। এছাড়াও এই উপজেলায় দিনদিন উচ্চ মূল্য নিরাপদ সবজি উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাচ্ছে। রফিকুল ইসলামের স্কোয়াশ ক্ষেত এখন শুধু একটি জমি নয়, হয়ে উঠেছে ‘শিক্ষণক্ষেত’। আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, শিক্ষার্থী ও আগ্রহী মানুষ এখানে ভিড় করছেন। জানতে চাইছেন চাষ পদ্ধতি, সার ব্যবস্থাপনা ও বাজারজাতকরণের কৌশল।
সংশ্লিষ্টদের আশা, নেউলা গ্রামের এই সাফল্যের গল্প আরও দূরে ছড়িয়ে পড়বে। রফিকুল ইসলামের মতো আরও অনেক কৃষক আধুনিক ও লাভজনক ফসল চাষে আগ্রহী হবেন। এতে বদলে যাবে গ্রামের কৃষির চিত্র, বদলাবে কৃষকের জীবনের গল্প।
মো. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 








