বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেই ইট-রড ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে খুলে নিয়ে যাওয়া সেই সেতুর ইট ও লোহা বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল।

এরপরে নিলামে দিয়েছেন শূন্যে ঝুলে থাকা পুরোনো সেই সেতু ও ইউপি চেয়ারম্যানের বসতবাড়িতে রাখা ইট ও রডগুলো।

মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মন্ডলের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক। আর তিনিই যদি এ ধরনের দূর্নীতি করেন, তাহলে আমরা যাবো কোথায়। ইউপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তোলেন এ সময় তারা।

পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত বিকল্প রাস্তা নির্মাণ ও ঝুলন্ত পুরোনো সেতুটি অপসারণের দাবি জানান।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও নিলাম কমিটির প্রধান মো. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, “এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে সেতু সংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের বাড়ির উঠানে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

পিআইও আরও জানান, “স্টিমিট অনুযায়ী এ সেতুতে ১৭ হাজার ৩৭৫ টি ইট এবং রড ১০৭৩.৮৮ কেজি থাকার কথা রয়েছে। সেতু থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া ইট ও রডগুলো ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান সাহেব ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন। স্টিমিট অনুযায়ী মালামাল বুঝে দিবেন মর্মে লিখিত কাগজও নেয়া হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমানের নিকট থেকে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ওই চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ইট ও লোহা তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমরাও জানতাম না। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানি। এরপরে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাই। আইনগত ভাবে কাজটি উনি ঠিক করেননি। সে কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। জবাব সন্তোষ জনক না হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ হবে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বলেও জানান ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি।

উল্লেখ্য, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন একটি সেতু ছিলো। পুরাতন হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু মাস খানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে ইট ও লোহাগুলো চেয়ারম্যান তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সেতুটি শূন্যে ঝুলে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়কও। সে কারণে চার গ্রামের প্রায় বিশ হাজার লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন।

 

সেই ইট-রড ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান

প্রকাশের সময়: ০৮:২৬:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কারণ দর্শানোর নোটিশ পেয়ে খুলে নিয়ে যাওয়া সেই সেতুর ইট ও লোহা বাড়ি থেকে ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল।

এরপরে নিলামে দিয়েছেন শূন্যে ঝুলে থাকা পুরোনো সেই সেতু ও ইউপি চেয়ারম্যানের বসতবাড়িতে রাখা ইট ও রডগুলো।

মো. মোকলেছুর রহমান মন্ডল উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ওই ইউনিয়নের বজরা হলদিয়া গ্রামের মৃত নুরুল হক মন্ডলের ছেলে।

উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, চেয়ারম্যান আমাদের অভিভাবক। আর তিনিই যদি এ ধরনের দূর্নীতি করেন, তাহলে আমরা যাবো কোথায়। ইউপি চেয়ারম্যানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিও তোলেন এ সময় তারা।

পাশাপাশি জনসাধারণের চলাচলের সুবিধার্থে দ্রুত বিকল্প রাস্তা নির্মাণ ও ঝুলন্ত পুরোনো সেতুটি অপসারণের দাবি জানান।

বুধবার দুপুর ১২ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও নিলাম কমিটির প্রধান মো. মশিউর রহমান।

তিনি বলেন, “এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুর ১২ টার দিকে সেতু সংলগ্ন নাজিম উদ্দিনের বাড়ির উঠানে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।

পিআইও আরও জানান, “স্টিমিট অনুযায়ী এ সেতুতে ১৭ হাজার ৩৭৫ টি ইট এবং রড ১০৭৩.৮৮ কেজি থাকার কথা রয়েছে। সেতু থেকে খুলে নিয়ে যাওয়া ইট ও রডগুলো ইতোমধ্যে চেয়ারম্যান সাহেব ইউনিয়ন পরিষদে পৌঁছে দিয়েছেন। স্টিমিট অনুযায়ী মালামাল বুঝে দিবেন মর্মে লিখিত কাগজও নেয়া হয়েছে ইউপি চেয়ারম্যান মো. মোকলেছুর রহমানের নিকট থেকে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ওই চেয়ারম্যান টেন্ডার ছাড়াই পুরোনো সেতু ভেঙ্গে ইট ও লোহা তার বাড়িতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি আমরাও জানতাম না। পরে গণমাধ্যমে বিষয়টি জানি। এরপরে খোঁজ নিয়ে সত্যতা পাই। আইনগত ভাবে কাজটি উনি ঠিক করেননি। সে কারণে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে। জবাব সন্তোষ জনক না হলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ হবে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বলেও জানান ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি।

উল্লেখ্য, ওই ইউনিয়নের দক্ষিণ রাজীবপুর গ্রামের উত্তর পাড়ার আলম মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন একটি সেতু ছিলো। পুরাতন হলেও ওই সেতু দিয়ে মানুষ ও যানবাহন চলাচল করতো। কিন্তু মাস খানেক আগে টেন্ডার ছাড়াই ওই সেতুর অর্ধেকের বেশি অংশ ভেঙ্গে ইট ও লোহাগুলো চেয়ারম্যান তার বাড়িতে নিয়ে আসেন। বর্তমানে সেতুটি শূন্যে ঝুলে থাকায় মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। করা হয়নি কোনো সংযোগ সড়কও। সে কারণে চার গ্রামের প্রায় বিশ হাজার লোকের যাতায়াতে দুর্ভোগ হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করা হলে নড়েচড়ে বসেন উপজেলা প্রশাসন।