পাবনা জেলার সর্বাধিক পেঁয়াজ উৎপাদনকারী এলাকা হিসেবে পরিচিত সাঁথিয়ার কৃষকেরা এবারও ব্যাপকভাবে মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজের আবাদ করেছিলেন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় পেঁয়াজ চাষ লাভজনক হওয়ায় কৃষকেরা পেঁয়াজ চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। যথাসময়ে সেচ ও সারের পর্যাপ্ত সরবারহ এবং অনুকুল আবহাওয়া বিরাজ করায় চলতি মৌসুমে এ এলাকায় পেঁয়াজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে কৃষকেরা জানান। উপজেলার কিছু কিছু এলাকায় ইতোমধ্যে পেঁয়াজ তোলা, কাটা ও বাছাই শুরু হয়েছে। ফলে পেঁয়াজ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন কৃষক ও কিষাণবধূরা। এক-দুই সপ্তাহের মধ্যেই উপজেলার সর্বত্রই পুরোদমে শুরু হবে পেঁয়াজ তোলার কাজ।
সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,চলতি রবি মৌসুমে সাঁথিয়া উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মসলা জাতীয় ফসল পেঁয়াজ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৫ হাজার ৭৫০ হেক্টর জমিতে। আবাদ হয়েছে ১৫ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমিতে। এবার বারি পেঁয়াজ-১,তাহেরপুরী,লালতীর ও ইউনাইটেড জাতের পেঁয়াজের আবাদ করা হয়েছিল। পেঁয়াজ উৎপাদনের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৩১২ মেট্রিকটন। এ ব্যাপারে সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার গোস্বামী জানান,গত বছরের তুলনায় চলতি মৌসুমে চারা পেঁয়াজ নতুন এবং উন্নতজাত ইউনাইটেড ও লালতীর আবাদ হয়েছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা প্রতিনিয়ত ্এলাকাভিত্তিক মাঠ পরিদর্শন,মাঠ দিবস,কৃষক সমাবেশ করে চাষীদের সঠিক পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া কৃষকদের আবাদে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারে তাদেরকে উৎসাহিত করা হয়েছে । আমাদের কৃষকরা যদি যতœ নেয় তাহলে এবার প্রতি হেক্টরে ১২ মেট্রিকটন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে বলে আশ করছি।উপজেলার চকপাট্ট্রা গ্রামের পেঁয়াজ চাষী আফতাব মন্ডল, গৌরীগ্রামের আলমগীর হোসেন,ধাতালপুর আব্দুল মান্নান,কালাইচারার আঃ আলীম,খানমামুদপুরের বেলাল প্রাংসহ বিভিন্ন গ্রামের কৃষকেরা জানান, প্রতি বিঘা জমিতে পেঁয়াজের চাষ করতে খরচ হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। কৃষকেরা আরও জানান, প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৪০ মণ পেঁয়াজ উৎপাদন হয় এবং মৌসুমের শুরুতে প্রতি মণ পেঁয়াজ এক হাজার থেকে এক হাজার ৪’শ টাকায় বিক্রি হলেও পরবর্তী সময়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ২ হাজার থেকে ৩/৪ হাজার টাকায় বিক্রি হয়।

মনসুর আলম খোকন, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, সাঁথিয়া (পাবনা) 












