বাঙালির মহানায়ক, হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০২ তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২০ সালের এই দিনে তদানীন্তন ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার নিভৃত পল্লী টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন জাতির এই সূর্যসন্তান। পরাধীনতার নিকষ অন্ধকারে নিমজ্জিত বাঙালি জাতির ভাগ্যাকাশে মুক্তির দূত রূপে জন্ম নেওয়া ‘খোকা’ নামের সেই শিশুটি শিক্ষা-দীক্ষা মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি, মহত্তম জীবনবোধ সততা, সাহস, দক্ষতা ও দূরদর্শী নেতৃত্বে হয়ে ওঠেন বাংলাদেশ নামক স্বাধীন-সার্বভৌম জাতি-রাষ্ট্রের মহান স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। এই দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে পালন করা হয়। সে ধারাবাহিকতায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ^বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানাবিধ কর্মসূচীর মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন ও জাতীয় শিশুদিবস।
সকালে শিশুদের জন্য গাহি সাম্যের গান মঞ্চে চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে থেকে শোভাযাত্রাসহকারে গিয়ে বিশ^বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়। বিশ^বিদ্যালয় পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর প্রথমে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপরে ডীন অফিস, বিভাগীয় অফিস, হল প্রশাসন, শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু নীল দল, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ, কর্মকর্তা পরিষদ, কর্মচারী সমিতি (১১-১৬ গ্রেড), কর্মচারী ইউনিয়ন (১৭-২০ গ্রেড), বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ, কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় স্কুলসহ অন্যান্যরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সেখানে বঙ্গবন্ধুর ১০২ তম জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশুদিবস উপলক্ষ্যে কেককাটা, বেলুন ওড়ানো, পায়রা অবমুক্তকরণ ও শিশু সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এরপর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও কর্মবিষয়ক আর্ট ক্যাম্প ও বঙ্গবন্ধু কর্ণারের লাইব্রেরি কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির বঙ্গবন্ধু কর্ণারে লাইব্রেরি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর। লাইব্রেরিতে বঙ্গবন্ধুর জীবনী ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক তিনশতাধিক বই স্থান পেয়েছে। বাদ যোহর বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল হয়। বিকেল চারটায় গাহি সাম্যের গান মঞ্চে শুরু হয় আলোচনা সভা।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. সৌমিত্র শেখর বলেন, বঙ্গবন্ধু হলেন বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি স্বাধীনতার আগেই ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ কেমন হবে তার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাঁর পরিকল্পনা অনুসারে বঙ্গবন্ধু তনয়া জননেত্রী শেখ হাসিনা ক্ষুধামুক্ত, উন্নত,সামাজিক ও উদার বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ করছেন। আমরা সেই অভিযাত্রায় কর্মীর ভ‚মিকায় আছি।
জাতীয় শিশু দিবসের মাহাত্ন তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু সবসময় শিশুদের নিয়ে তাঁর জন্মদিন উদযাপন করতেন। তিনি ছিলেন শিশু অন্ত:প্রাণ। খুব সহজ ও সরল ভাবে শিশুদের সাথে মিশে যেতে পারতেন। আজকের শিশু আগামি দিনের রাষ্ট্রনায়ক। তাই শিশুদের মধ্যে বঙ্গবন্ধুর চেতনার বীজ বপণের এখনই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তারাই আমাদেরকে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠান আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. আহমেদুল বারীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিশ^বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নজরুল ইসলাম, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. মো. তুহিনুর রহমান, বঙ্গবন্ধু-নীল দলের সভাপতি ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান, কর্মকর্তা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রামিম আল করিম, কর্মচারী সমিতি (১১-১৬ গ্রেড) সাধারণ সম্পাদক নাজমুল ইসলাম, কর্মচারী ইউনিয়নের (১৭-২০ গ্রেড) সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বাবু, সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল হাসান রাকিবসহ অন্যান্যরা। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ^বিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হুমায়ুন কবীর। এর সন্ধ্যা ছয়টায় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সন্ধ্যা সাতটায় বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার মধ্যদিয়ে দিবসটির সমাপ্তি হয়।

স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, বার্তা২৪.নেট 

















