শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাবাকে আর গান শোনানো হবেনা নয়নের, ফিরবে না সকাল

গিটার বাজিয়ে বাবাকে আর কখনোই গান শোনানো হবেনা নয়নের। শুক্রবার (১৮মার্চ) দুপুরে যমুনা নদীতে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যায় নয়ন আর সকাল। হোলির রং খেলে শহরের গোশালা মহল্লার নয়ন, সকাল সহ নয়জন যুমনা নদীর চরে গোসল করতে যায়। সাথে নিয়ে যায় প্রিয় গিটার, কিন্তু গান শুরু করার আগেই পানিতে নামে সবাই।

পানির গভীরতা না বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে সবাই। সাতজন পাড়ে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানা নয়ন আর সকালের খোঁজ মেলেনা। ভয়ে সাতজনই চর থেকে ফিরে খবর দেয় স্বজনদের, আর তখনই যমুনা নদীর পাড়ে শুরু হয় আহাজারী, ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কিন্তু সিরাজগঞ্জে ডুবুরী দল না থাকায়, উদ্ধার কাজ থমকে থাকে। নয়নের বাবা উজ্জল কর্মকার জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই ছেলেকে বারণ করেছেন, নদীতে না যাবার জন্য। কিন্তু বিগত সময়ে নানা বারন শুনলেও আজ আর কোন কথাই শোনেনি নয়ন। কথা ছিলো শবে বরাতের দিনে দরগায় শিন্নি দিয়ে দিনের কাজ শুরু করবে নয়ন। কিন্তু আজ সে কাজটিও করেনি সে। নদীর পাড়ে পড়ে থাকা নয়নের গিটার দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন উজ্জল। বার বার বিলাপ করছিলেন, আর কখনোই গিটার বাজিয়ে গান শোনাবেনা নয়ন, গিটারটি রয়েই গেলো কিন্তু নয়ন আর থাকলোনা।

এদিকে সকালের বাবা কালু সূত্রধর নদীর পাড়ে বসে এক ধ্যানে চেয়ে আছেন যমুনা নদীর পানির দিকে। প্রিয় সন্তান সকাল এই পানিতেই ডুবে আছে। কিন্তু দেখা বা তোলার কোন সাধ্য তার নেই। যাকে দেখছেন তাকেই বারবার অনুরোধ তার সন্তানকে তার কাছে এনে দেবার জন্য, দশম শ্রেণীতে পড়তো সকাল। বন্ধুদের সাথে মজা করতে নদীতে এলেও আর বাড়ি ফেরা হলোনা সকালের। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়েই তাদের একটি দল চরে পৌঁছেছেন। তবে সিরাজগঞ্জ স্টেশনে ডুবুরী দল না থাকায় কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। রাজশাহীর ডুবুরী দল ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে, তারা এলেই কাজ শুরু হবে। নদীর পাড়ে নিখোঁজদের স্বজন আর প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে প্রায়শই নৌকাডুবি, পানি ডুবে যাওয়া সহ নানা ঘটনা ঘটলেও সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি না থাকায় তারা হতাশ। খবর দেবার দীর্ঘ সময় পর ডুবুরী এলেও তড়িৎ কোন উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়না। দ্রত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার দাবী তাদেরর।

জনপ্রিয়

বাবাকে আর গান শোনানো হবেনা নয়নের, ফিরবে না সকাল

প্রকাশের সময়: ০৬:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ মার্চ ২০২২

গিটার বাজিয়ে বাবাকে আর কখনোই গান শোনানো হবেনা নয়নের। শুক্রবার (১৮মার্চ) দুপুরে যমুনা নদীতে বন্ধুদের সাথে গোসল করতে গিয়ে স্রোতের তোড়ে হারিয়ে যায় নয়ন আর সকাল। হোলির রং খেলে শহরের গোশালা মহল্লার নয়ন, সকাল সহ নয়জন যুমনা নদীর চরে গোসল করতে যায়। সাথে নিয়ে যায় প্রিয় গিটার, কিন্তু গান শুরু করার আগেই পানিতে নামে সবাই।

পানির গভীরতা না বুঝে ঝাপিয়ে পড়ে সবাই। সাতজন পাড়ে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানা নয়ন আর সকালের খোঁজ মেলেনা। ভয়ে সাতজনই চর থেকে ফিরে খবর দেয় স্বজনদের, আর তখনই যমুনা নদীর পাড়ে শুরু হয় আহাজারী, ঘটনাস্থলে আসে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। কিন্তু সিরাজগঞ্জে ডুবুরী দল না থাকায়, উদ্ধার কাজ থমকে থাকে। নয়নের বাবা উজ্জল কর্মকার জানান, বৃহস্পতিবার রাতেই ছেলেকে বারণ করেছেন, নদীতে না যাবার জন্য। কিন্তু বিগত সময়ে নানা বারন শুনলেও আজ আর কোন কথাই শোনেনি নয়ন। কথা ছিলো শবে বরাতের দিনে দরগায় শিন্নি দিয়ে দিনের কাজ শুরু করবে নয়ন। কিন্তু আজ সে কাজটিও করেনি সে। নদীর পাড়ে পড়ে থাকা নয়নের গিটার দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন উজ্জল। বার বার বিলাপ করছিলেন, আর কখনোই গিটার বাজিয়ে গান শোনাবেনা নয়ন, গিটারটি রয়েই গেলো কিন্তু নয়ন আর থাকলোনা।

এদিকে সকালের বাবা কালু সূত্রধর নদীর পাড়ে বসে এক ধ্যানে চেয়ে আছেন যমুনা নদীর পানির দিকে। প্রিয় সন্তান সকাল এই পানিতেই ডুবে আছে। কিন্তু দেখা বা তোলার কোন সাধ্য তার নেই। যাকে দেখছেন তাকেই বারবার অনুরোধ তার সন্তানকে তার কাছে এনে দেবার জন্য, দশম শ্রেণীতে পড়তো সকাল। বন্ধুদের সাথে মজা করতে নদীতে এলেও আর বাড়ি ফেরা হলোনা সকালের। ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আতাউর রহমান জানান, খবর পেয়েই তাদের একটি দল চরে পৌঁছেছেন। তবে সিরাজগঞ্জ স্টেশনে ডুবুরী দল না থাকায় কাজ শুরু করতে একটু বিলম্ব হচ্ছে। রাজশাহীর ডুবুরী দল ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে, তারা এলেই কাজ শুরু হবে। নদীর পাড়ে নিখোঁজদের স্বজন আর প্রত্যক্ষদর্শীরা ক্ষোভের সাথে বলেন, সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে প্রায়শই নৌকাডুবি, পানি ডুবে যাওয়া সহ নানা ঘটনা ঘটলেও সিরাজগঞ্জ ফায়ার স্টেশনে ডুবুরি না থাকায় তারা হতাশ। খবর দেবার দীর্ঘ সময় পর ডুবুরী এলেও তড়িৎ কোন উদ্ধার কাজ শুরু করা যায়না। দ্রত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেবার দাবী তাদেরর।