দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় অস্থায়ী বাঁশের বেড়ায় মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেছে শহীদ পরিবার, খানসামা ডিগ্রি কলেজ ও উপজেলা শাখা ছাত্রলীগ। দীর্ঘ ৮ বছর যাবৎ ২৫ মার্চ খানসামা ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে ইছামতী নদীর তীরে অসংরক্ষিত বধ্যভূমিতে গণহত্যা দিবসে শহীদের স্মরণ করা হয়।
শুক্রবার সকালে অস্থায়ী বাঁশের বেড়ার স্মৃতিস্তম্ভে খানসামা ডিগ্রি কলেজ ও উপজেলা ছাত্রলীগ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করে। খানসামা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক রশিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় বক্তব্য রাখেন খানসামা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) সাইফুল ইসলাম, শহীদ অমিয় কুমার গুহের দৌহিত্র ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ গুহ।
জানা যায়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে খানসামা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সংগ্রাম কমিটির সদস্য ও মুক্তিবাহিনীর সদস্য বাবু অমিয় কুমার গুহকে ১৯৭১ সালের ১ জুন গভীর রাতে তৎকালীন আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাড. জহিরউদ্দিনের বাড়ি থেকে আটক করে এবং পাকিস্তানি দালালরা ২ জুন তাকে খানসামা থানায় আটকে রাখে। পরদিন পাকবাহিনীকে খবর দিয়ে রাজাকাররা বাবু অমিয় কুমার গুহকে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। এরপরে পাক সেনাবাহিনী সাইকেলে রশি দিয়ে বেঁধে নিয়ে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী ও খানসামা উপজেলার সংযোগস্থল পুলহাট নামক স্থানে ইছামতী নদীর তীরে গুলি করে ও বেয়োনেট দিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায়। ওইস্থানে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসাসেবা দেয়া টেডি ডাক্তার ও মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগী খ্ট্টুু মিয়াকে হত্যা করে পাকবাহিনী। পরে স্থানীয় তরনী কান্ত, নজরুল ইসলামসহ অনেকে তাদের মরদেহ নদী থেকে তুলে কবরস্থ করেন।
দেশ স্বাধীন হওয়ার ও শহীদদের মৃত্যুর ৫০ বছর অতিবাহিত হলেও এসব পরিবার শহীদ পরিবার হিসেবে আজও স্বীকৃতি পায়নি। শুধু অমিয় কুমার গুহর নামে একটি রাস্তার নামকরণ ও উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিভিন্ন দিবসে খেলাধুলার নামকরণ ছাড়া আজ পর্যন্ত কোন সাহায্য-সহযোগিতা পায়নি পরিবারগুলো।
গণকবরের প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় নজরুল ইসলাম বলেন, ‘অমানবিকভাবে নির্যাতন করে অমিয় বাবুসহ কয়েকজনকে এখানে হত্যা করা হয়েছে। সেই স্মৃতি আজও আমাদের চোখে ভাসে। কিন্তু এই স্মৃতিময় স্থান সংরক্ষণে কোন উদ্যোগ নেই। যা আমাদের জন্য কষ্টদায়ক। গণকবরগুলো সংরক্ষণ করা না হলে নদীতে বিলিন হয়ে যাবে।’
অমিয় কুমার গুহর দৌহিত্র্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রাকেশ গুহ বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার স্বার্থে আমার দাদু মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আপোষ করেননি। গণকবর সংরক্ষণ ও শহীদ পরিবার হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি জোর অনুরোধ করেন।’
খানসামা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শহীদদের জন্যই আমরা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি৷ তাই তাদের স্মৃতি ধরে রাখতে গণকবর সংরক্ষনের জোর দাবি জানাচ্ছি।

মো. রফিকুল ইসলাম, করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) 

















