মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঁথিয়ায় সড়কনির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার

পাবনার সাঁথিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় এক কিঃ মিঃ সড়ক এইচবিবিকরণ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অনিয়মের কারণে বেশ কয়েকবার কাজে বাধা দিলেও কোনরুপ তোয়াক্কা না করেই নি¤œমানের সামগ্রী ও নামকাওয়াস্তে বালি দিয়ে কাজ করে চলেছেন ঠিকাদার,এ অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ যেন দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারী না থাকায় এ রকম অনিয়ম করে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ।

সাঁথিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ধোপাদহ ইউনিয়নের খানমামুদপুর হতে দৌলতপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত এক কিঃ মিঃ সড়ক নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান জহুরা ট্রেডার্স। কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ব্যবহার, বালি ৬ ইঞ্চি দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে দেয়া হচ্ছে দুই থেকে তিন ইঞ্চি। এসব বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আবদুল্লাহ আল জাবিরের মধ্যস্থতায় সিডিউল মেনে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে আবার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু কে শোনে কার কথা? যে ইট এলাকাবাসীর বাধায় তুলে ফেলা হলো সেই ইট ফেরৎ না পাঠিয়ে ওই সড়কেই পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সরজমিন গতকাল সকালে ওই সড়কে দেখা যায়, রাস্তাটির প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও রাস্তার বেশিরভাগই নিম্œমানের মিঠা ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ৬ ইঞ্চি বালি ধরা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি বালি। এ সময় ওইু এলাকার সাবেক মেম্বর আব্দুল ওয়াদুদ ঠা›ন্টু অভিযোগ করে বলেন, এলাকাবাসী নিম্নমানের ইট ও বালি কম দেয়ায় কাজে বাধা দেয়। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এসে নি¤œমানের ইট ফেরৎ নিতে বললেও তা তারা ফেরত দেন নাই। এ সময় তিনি নিজেই রাস্তা খুদাই করে সাংবাদিককে দেখিয়ে বলেন ৬ ইঞ্চি বালির জায়গায় দেয়া হয়েছে ২/৩ ইঞ্চি। এ দিকে ফেরৎ নেয়া ইটের বিষয়ে ওই সাইটের লেবার সর্দারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এখান থেকে কোন ইট ফেরৎ নেয়া হয় নাই। সব ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভাটায় থেকে ২/১ মন্দ ইট আসে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দায়িত্বরত প্রকৌশলী আবু সাইদ জাগো২৪.নেট-কে জানান, সড়ক নির্মাণে কোনরুপ অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। আমি মাত্র কয়েকদিন ছিলাম না। আজ এলাম। তিনি বলেন, নিম্নমানের ইট আনতে তাদের নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। ২/১ টা যা আসছে তা ভাটা থেকে। তবে তাকে বালি ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে ২-৩ ইঞ্চি দেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।

 

সাঁথিয়ায় সড়কনির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার

প্রকাশের সময়: ০৬:২৮:৫৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ এপ্রিল ২০২২

পাবনার সাঁথিয়ায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে প্রায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় এক কিঃ মিঃ সড়ক এইচবিবিকরণ নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। অনিয়মের কারণে বেশ কয়েকবার কাজে বাধা দিলেও কোনরুপ তোয়াক্কা না করেই নি¤œমানের সামগ্রী ও নামকাওয়াস্তে বালি দিয়ে কাজ করে চলেছেন ঠিকাদার,এ অভিযোগ এলাকাবাসীর। এ যেন দেখার কেউ নেই। স্থানীয়রা বলছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঠিক নজরদারী না থাকায় এ রকম অনিয়ম করে যাচ্ছে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ।

সাঁথিয়া প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের অধীনে এইচবিবি প্রকল্পের আওতায় ৯৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ধোপাদহ ইউনিয়নের খানমামুদপুর হতে দৌলতপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানের বাড়ি পর্যন্ত এক কিঃ মিঃ সড়ক নির্মাণকাজের দায়িত্ব পান ঠিকারদারী প্রতিষ্ঠান জহুরা ট্রেডার্স। কাজের শুরুতেই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের ইট ব্যবহার, বালি ৬ ইঞ্চি দেয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে দেয়া হচ্ছে দুই থেকে তিন ইঞ্চি। এসব বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে কাজ বন্ধ করে দেন এলাকাবাসী। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোহেল রানা খোকন ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার আবদুল্লাহ আল জাবিরের মধ্যস্থতায় সিডিউল মেনে কাজ করার প্রত্যয় নিয়ে আবার কাজ শুরু করেন ঠিকাদার। কিন্তু কে শোনে কার কথা? যে ইট এলাকাবাসীর বাধায় তুলে ফেলা হলো সেই ইট ফেরৎ না পাঠিয়ে ওই সড়কেই পুনরায় ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসী।

সরজমিন গতকাল সকালে ওই সড়কে দেখা যায়, রাস্তাটির প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হলেও রাস্তার বেশিরভাগই নিম্œমানের মিঠা ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সেখানে ৬ ইঞ্চি বালি ধরা থাকলেও ব্যবহার করা হচ্ছে ২ থেকে ৩ ইঞ্চি বালি। এ সময় ওইু এলাকার সাবেক মেম্বর আব্দুল ওয়াদুদ ঠা›ন্টু অভিযোগ করে বলেন, এলাকাবাসী নিম্নমানের ইট ও বালি কম দেয়ায় কাজে বাধা দেয়। পরে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার এসে নি¤œমানের ইট ফেরৎ নিতে বললেও তা তারা ফেরত দেন নাই। এ সময় তিনি নিজেই রাস্তা খুদাই করে সাংবাদিককে দেখিয়ে বলেন ৬ ইঞ্চি বালির জায়গায় দেয়া হয়েছে ২/৩ ইঞ্চি। এ দিকে ফেরৎ নেয়া ইটের বিষয়ে ওই সাইটের লেবার সর্দারকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, এখান থেকে কোন ইট ফেরৎ নেয়া হয় নাই। সব ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ভাটায় থেকে ২/১ মন্দ ইট আসে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের দায়িত্বরত প্রকৌশলী আবু সাইদ জাগো২৪.নেট-কে জানান, সড়ক নির্মাণে কোনরুপ অনিয়ম মেনে নেয়া হবে না। আমি মাত্র কয়েকদিন ছিলাম না। আজ এলাম। তিনি বলেন, নিম্নমানের ইট আনতে তাদের নিষেধ করে দেয়া হয়েছে। ২/১ টা যা আসছে তা ভাটা থেকে। তবে তাকে বালি ৬ ইঞ্চির পরিবর্তে ২-৩ ইঞ্চি দেয়ার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি কোন উত্তর দিতে পারেননি।