বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

 ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান শিক্ষার্থীরা শঙ্কায়

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। যেকোন সময় বড়ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সর্বদা থাকেন আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যে। কখন কী হয়। আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যদিয়েই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি যাত্রা শুরু করে। তিনটি মাটিরঘর নিয়ে যাত্রা করে এ মাদ্রাসাটি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলে আরো তিনটি টিনসেডের শ্রেণিকক্ষ করা হয়। মাদ্রাসাটি পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। টানা ক’বছর ধরে শতভাগ শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হওয়ায় আরো শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে শিক্ষার্র্থীদের বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় মাদ্রাসার উত্তরদিকে তিনটি পাকা শ্রেণিকক্ষ ‍নির্মাণ করা হয়। সেখানেও চলছে পাঠদান। বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৩০০ জন। ইতিমধ্যে ২০১৯ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে। ঝুঁকিপূর্ণ মাটিরঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। জরাজীর্ণ মাটিরঘর আর ফুটো টিনসেডের ঘরগুলোতে ক্লাশ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে টিনের ফুটো দিয়ে টিপটিপ করে পানি ঝড়ে পড়ে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের বইখাতা পানি দিয়ে ভিজে যায়। কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা নিজেরাও ভিজে যান। ঝড়ের সময় শিক্ষার্থীদের বুক কাপতে থাকে। আবার গরমের সময় টিনসেডের ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও ফ্যান না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অসহ্য ভোগান্তিতে হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। পড়তে হয় চরম বিপাকে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চলছে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম।

মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন বলেন, আমি ৫ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছি। মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষও ক্লাস করার উপযোগী নয়। বৃষ্টির সময় ক্লাস করতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। ভাঙ্গা টিনের ফুটো দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়তে থাকে। আমাদের বইখাতা ভিজে যায়। এভাবে চলতে থাকলে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। কমে যাবে পড়ালেখার মানও।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে মাটিরঘরে ক্লাস করতে হয়। মাটিরঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। কখন যেন ভেঙ্গে পড়ে। আমরা ভয়ে ঠিকমত ক্লাস করতে পারি না। আকাশে কালোমেঘ জমলে বা একটু বৃষ্টি হলেই আমার অনেক সহপাঠি শ্রেণিকক্ষে ভয়ে ঢুকতে চায় না। অনেকেই আবার সেদিন মাদ্রাসাতেই আসে না। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলে মাটির ঘরের জীর্ণ টিনসেড দিয়ে পানি পড়ে। ঘরগুলোর দেয়ালে ফাটল ধরেছে। টিনসেডও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক গোলাম রাব্বানী বলেন, মাটির আর টিনসেড ঘর কখন যে ভেঙে পড়বে তা বলা যাবে না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী আমাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। জরাজীর্ণ অবস্থায় মাদ্রাসাটিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু মাদ্রাসায় একটা ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার ভয়-ভীতি, শঙ্কামুক্ত এবং সুন্দর পরিবেশে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

মাদ্রাসার সুপার রফিকুল্লাহ সরকার জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর ৭ বছর পর পাঠদানের অনুমতি পায়। শুরুতে তিনটি মাটির শ্রেণিকক্ষ ছিল। লেখাপড়ার মানোন্নয়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদ্রাসায় আরো ‍তিনটি পাকা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালে ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবার আবেদন করা হয়। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে নতুন ভবন না থাকায় এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে পড়ালেখা করছে।

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলাল সরকার বলেন, নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী বলেন, মাদ্রাসাটিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস করছেন। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিতে আমরা চেষ্টা করছি। শুধু এ মাদ্রাসাটিই নয় উপজেলার শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকা সব প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হবে।

 ঝুঁকিপূর্ণ কক্ষে পাঠদান শিক্ষার্থীরা শঙ্কায়

প্রকাশের সময়: ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ এপ্রিল ২০২২

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে চলছে পাঠদান। যেকোন সময় বড়ধরণের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সর্বদা থাকেন আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যে। কখন কী হয়। আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যদিয়েই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যাহত রেখেছেন।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালে উপজেলার অমরপুর ইউনিয়নে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটি যাত্রা শুরু করে। তিনটি মাটিরঘর নিয়ে যাত্রা করে এ মাদ্রাসাটি। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি হলে আরো তিনটি টিনসেডের শ্রেণিকক্ষ করা হয়। মাদ্রাসাটি পাবলিক পরীক্ষায় ফলাফল ভালো করায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকে। টানা ক’বছর ধরে শতভাগ শিক্ষার্থী উর্ত্তীণ হওয়ায় আরো শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে শিক্ষার্র্থীদের বসার স্থান সংকুলান না হওয়ায় মাদ্রাসার উত্তরদিকে তিনটি পাকা শ্রেণিকক্ষ ‍নির্মাণ করা হয়। সেখানেও চলছে পাঠদান। বর্তমানে মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা অন্তত ৩০০ জন। ইতিমধ্যে ২০১৯ সালে মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। এমপিওভুক্ত হওয়ার পর থেকে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু বিপত্তি বেঁধেছে মাদ্রাসায় শ্রেণিকক্ষ সংকট নিয়ে। ঝুঁকিপূর্ণ মাটিরঘরে ক্লাস করতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। জরাজীর্ণ মাটিরঘর আর ফুটো টিনসেডের ঘরগুলোতে ক্লাশ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা মৌসুমে টিনের ফুটো দিয়ে টিপটিপ করে পানি ঝড়ে পড়ে। ঝড়বৃষ্টি শুরু হলে শ্রেণিকক্ষে থাকা শিক্ষার্থীদের বইখাতা পানি দিয়ে ভিজে যায়। কখনো কখনো শিক্ষার্থীরা নিজেরাও ভিজে যান। ঝড়ের সময় শিক্ষার্থীদের বুক কাপতে থাকে। আবার গরমের সময় টিনসেডের ঘরগুলোতে বিদ্যুৎ ও ফ্যান না থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের অসহ্য ভোগান্তিতে হাঁপিয়ে উঠতে হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। পড়তে হয় চরম বিপাকে। এভাবেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকৃতির সাথে লড়াই করে চলছে বাসুদেবপুর হাইউল উলুম দাখিল মাদ্রাসাটির শিক্ষা কার্যক্রম।

মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া খাতুন বলেন, আমি ৫ বছর ধরে এ প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছি। মাদ্রাসার একটি শ্রেণিকক্ষও ক্লাস করার উপযোগী নয়। বৃষ্টির সময় ক্লাস করতে আমাদের খুবই কষ্ট হয়। ভাঙ্গা টিনের ফুটো দিয়ে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়তে থাকে। আমাদের বইখাতা ভিজে যায়। এভাবে চলতে থাকলে মাদ্রাসাটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাবে। কমে যাবে পড়ালেখার মানও।

অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ফরিদুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে মাটিরঘরে ক্লাস করতে হয়। মাটিরঘরের দেয়ালে ফাটল ধরেছে। কখন যেন ভেঙ্গে পড়ে। আমরা ভয়ে ঠিকমত ক্লাস করতে পারি না। আকাশে কালোমেঘ জমলে বা একটু বৃষ্টি হলেই আমার অনেক সহপাঠি শ্রেণিকক্ষে ভয়ে ঢুকতে চায় না। অনেকেই আবার সেদিন মাদ্রাসাতেই আসে না। সামান্য ঝড়বৃষ্টি হলে মাটির ঘরের জীর্ণ টিনসেড দিয়ে পানি পড়ে। ঘরগুলোর দেয়ালে ফাটল ধরেছে। টিনসেডও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম।

মাদ্রাসার সহকারি শিক্ষক গোলাম রাব্বানী বলেন, মাটির আর টিনসেড ঘর কখন যে ভেঙে পড়বে তা বলা যাবে না। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুযায়ী আমাদের শ্রেণিকক্ষের সংকট দীর্ঘদিনের। জরাজীর্ণ অবস্থায় মাদ্রাসাটিতে শিক্ষা কার্যক্রম চলছে। শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর ভালো ফলাফল করছে। কিন্তু মাদ্রাসায় একটা ভবনের অভাবে শিক্ষার্থীদের সকল প্রকার ভয়-ভীতি, শঙ্কামুক্ত এবং সুন্দর পরিবেশে পাঠদান করা সম্ভব হচ্ছে না।

মাদ্রাসার সুপার রফিকুল্লাহ সরকার জানান, মাদ্রাসাটি ১৯৯৮ সালে যাত্রা শুরু করে। যাত্রা শুরুর ৭ বছর পর পাঠদানের অনুমতি পায়। শুরুতে তিনটি মাটির শ্রেণিকক্ষ ছিল। লেখাপড়ার মানোন্নয়ন হওয়ায় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় মাদ্রাসায় আরো ‍তিনটি পাকা শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ করা হয়। ২০১৬ সালে ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য বরাবার আবেদন করা হয়। তিনি আরো বলেন, ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হয়। বর্তমানে নতুন ভবন না থাকায় এবং শ্রেণিকক্ষ সংকটের কারণে শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে পড়ালেখা করছে।

মাদ্রাসা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও অমরপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হেলাল সরকার বলেন, নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হয়েছে। ভবন নির্মাণের জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ফজলে এলাহী বলেন, মাদ্রাসাটিতে শ্রেণিকক্ষের সংকট রয়েছে। শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়েই ক্লাস করছেন। তবে নতুন ভবন নির্মাণ করে দিতে আমরা চেষ্টা করছি। শুধু এ মাদ্রাসাটিই নয় উপজেলার শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকা সব প্রতিষ্ঠানে নতুন ভবন নির্মাণের জন্য চাহিদা পাঠানো হবে।