সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর কিয়ামত উল্যাহ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জনস্বার্থে এবিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে সুমন মন্ডল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে, জানাযায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খসরু ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা এমন কী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী/ অভিভাবকদের অবগত না করে গোপনে তফসিল ঘোষণা করে প্রধান শিক্ষক তার মনোনীত ব্যক্তিকে দিয়ে গোপনে ৪টি মনোনয়ন পত্র ক্রয় করে জমা দেওয়ান। সংরক্ষিত মহিলা পদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। স্থানীয় আব্দুর রশীদ নামে এক অভিভাবক তফসিল ঘোষণার বিষয়টি অন্য মাধ্যমে জানতে পেরে অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করে জমা দিতে গেলে তার মনোনয়ন পত্রটি জমা না নিয়ে তাকে মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের ৫ হাজার টাকা ফেরৎ দেন। যা প্রবিধান মালা বহির্ভূত।

শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান মালা প্রবিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮০ দিন আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে বলা হলেও এই প্রতিষ্ঠানে কোনটিই মানা হয়নি।

সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারিয়াপুর কিয়ামত উল্যাহ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। যে প্রতিষ্ঠানটিতে চার ইউনিয়নের প্রায় ৮’শতাধিক ছাত্রী লেখা-পড়া করে। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে নির্বাচিত কোন ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় বিদ্যালয়টির উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়েছে। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক দুলা মিয়া বলেন, আমার মেয়ের স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ঘোষণা করেছে তা আমি কিছুই জানিনা। জানলে আমি নিজেও নির্বাচনে অংশ নিতাম। অপর এক অভিভাবক গোলাম মিয়া বলেন অনেক দিন থেকে ভাবছি মেয়ের স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন করবো কিন্তু আমি জানতেই পারিনি। এতো বড় একটি স্কুলে যদি এমন হয় তাহলে বোঝায় যায়, স্কুলটিতে লুট-পাট শুরু হয়েছে।

৯ম শ্রেণির একছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়টিতে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশে তেমন কোন প্রচার-প্রচারোনা ছিলো না। তাই অনেকেই জানতে পারেনি। মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দানের শেষ তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল’২২। এর তিন দিন আগেই নোটিশ বোর্ডে তা টাংগিয়ে দেয়া হয়। ৮ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রী জানান আমরা তো ওসব বুঝি না স্যাররা কি করেছে ওনারাই ভালো জানেন।

মনোনয়ন সংগ্রহকারী আব্দুর রশীদ জানান, আমি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু জমা দিতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তা গ্রহন করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমার টাকা আমাকে ফেরত দিয়েছে। আমি আর এর মধ্যে নেই। মনোনয়নের টাকা তো ফেরত দেওয়ার কথা না। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সেটা আমি জানিনা ওটা তাদের বিষয়।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ম্যানেজিং কমিটি নিয়মানুযায়ী হয়েছে। একটি মহল আমাকে ফাসানোর জন্য এমন করছে। মনোনয়ন পত্রের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বেলেন, রশীদ খুব দরিদ্র মানুষ। তাই মানবিক কারণেই টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান অভিযোগপত্র প্রাপ্তীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গোপনে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ

প্রকাশের সময়: ০৭:২১:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৭ এপ্রিল ২০২২

গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর কিয়ামত উল্যাহ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গোপনে নির্বাচনি তফসিল ঘোষণা করে মনোনীত ব্যক্তিদের নিয়ে ম্যানেজিং কমিটি গঠনের অভিযোগ উঠেছে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। জনস্বার্থে এবিষয়ে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করে সুমন মন্ডল নামে এক ব্যক্তি।

অভিযোগ সূত্রে, জানাযায়, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলাম খসরু ম্যানেজিং কমিটি গঠনের লক্ষ্যে কোন প্রকার প্রচার-প্রচারণা এমন কী বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী/ অভিভাবকদের অবগত না করে গোপনে তফসিল ঘোষণা করে প্রধান শিক্ষক তার মনোনীত ব্যক্তিকে দিয়ে গোপনে ৪টি মনোনয়ন পত্র ক্রয় করে জমা দেওয়ান। সংরক্ষিত মহিলা পদের ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। স্থানীয় আব্দুর রশীদ নামে এক অভিভাবক তফসিল ঘোষণার বিষয়টি অন্য মাধ্যমে জানতে পেরে অভিভাবক সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন পত্র ক্রয় করে জমা দিতে গেলে তার মনোনয়ন পত্রটি জমা না নিয়ে তাকে মনোনয়ন পত্র ক্রয়ের ৫ হাজার টাকা ফেরৎ দেন। যা প্রবিধান মালা বহির্ভূত।

শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধান মালা প্রবিধি মোতাবেক ম্যানেজিং কমিটি গঠনের জন্য বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৮০ দিন আগেই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে হবে। আর মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যেই নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে বলা হলেও এই প্রতিষ্ঠানে কোনটিই মানা হয়নি।

সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারিয়াপুর কিয়ামত উল্যাহ মেমোরিয়াল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। যে প্রতিষ্ঠানটিতে চার ইউনিয়নের প্রায় ৮’শতাধিক ছাত্রী লেখা-পড়া করে। কিন্তু বিদ্যালয়টিতে দীর্ঘ ৬/৭ বছর ধরে নির্বাচিত কোন ম্যানেজিং কমিটি না থাকায় বিদ্যালয়টির উন্নয়ন মুখ থুবরে পড়েছে। ফলে এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

বিদ্যালয়ের অভিভাবক দুলা মিয়া বলেন, আমার মেয়ের স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন ঘোষণা করেছে তা আমি কিছুই জানিনা। জানলে আমি নিজেও নির্বাচনে অংশ নিতাম। অপর এক অভিভাবক গোলাম মিয়া বলেন অনেক দিন থেকে ভাবছি মেয়ের স্কুলে ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন করবো কিন্তু আমি জানতেই পারিনি। এতো বড় একটি স্কুলে যদি এমন হয় তাহলে বোঝায় যায়, স্কুলটিতে লুট-পাট শুরু হয়েছে।

৯ম শ্রেণির একছাত্রী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়টিতে নির্বাচনের তফসিল প্রকাশে তেমন কোন প্রচার-প্রচারোনা ছিলো না। তাই অনেকেই জানতে পারেনি। মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ ও জমা দানের শেষ তারিখ ছিল ১১ এপ্রিল’২২। এর তিন দিন আগেই নোটিশ বোর্ডে তা টাংগিয়ে দেয়া হয়। ৮ম শ্রেণির একাধিক ছাত্রী জানান আমরা তো ওসব বুঝি না স্যাররা কি করেছে ওনারাই ভালো জানেন।

মনোনয়ন সংগ্রহকারী আব্দুর রশীদ জানান, আমি মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছিলাম। কিন্তু জমা দিতে গেলে বিভিন্ন অজুহাতে তা গ্রহন করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ। আমার টাকা আমাকে ফেরত দিয়েছে। আমি আর এর মধ্যে নেই। মনোনয়নের টাকা তো ফেরত দেওয়ার কথা না। এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন সেটা আমি জানিনা ওটা তাদের বিষয়।

এবিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তৌহিদুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ম্যানেজিং কমিটি নিয়মানুযায়ী হয়েছে। একটি মহল আমাকে ফাসানোর জন্য এমন করছে। মনোনয়ন পত্রের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে তিনি বেলেন, রশীদ খুব দরিদ্র মানুষ। তাই মানবিক কারণেই টাকাটা ফেরত দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান অভিযোগপত্র প্রাপ্তীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।