সোমবার, ২৩ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইছামতি নদীতে কচুরিপানার জনগণের ভোগান্তি

পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতী নদীর কচুরিপানা মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোগান্তি চরমে উঠলেও যেন দেখার কেউ নেই। সাঁথিয়ার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বেড়া পাউবো’র প্রধান সেচখাল ইছামতি নদীটি দেখলে যেন চেনাই যায় না। কচুরিপানায় ভরপুর এ নদীটি যেন তার ঐতিহ্য হারিয়ে এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে কচুরিপানার কারণে নদীটির পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অনুপোাযোগী হয়ে পড়েছে এলকাবাসীর। ফলে পানিবাহিত নানা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এ এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে পাউবো ইছামতী নদীর ৪২ কিলোমিটার অংশ পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রধান সেচখালে রুপান্তরিত করে। সেচখালে পরিণত হওয়ার পরেও এর দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষ সেচ ও গৃহস্থলির কাজে এর পানি ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু নদীটির বুকে ঘন কচুরিপানা জন্মানোয় গৃহস্থলি কাজে এর পানি এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এছাড়া নৌ-চলাচলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কচুরিপানা সাফ না করায় অনেক এলাকাতেই সেগুলো পচে পরিবেশ দুষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার মাধপুর থেকে বেড়া পাম্প ষ্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিঃমিঃ এই প্রধান সেচ খালের বেশির ভাগ অংশই কচুিরপানায় ছেয়ে থাকে সারা বছর। দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ না হওয়ায় এর উপর দিয়ে অনেক লতাপাতাসহ বিভিন্ প্রজাতির উদ্ভিদে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা নদীতে । দেখে মনে হয়, বহু পুরোনো কোন পচা,ডুবা, নালা।

চেনাই যায় না ইছামতি নামের এ নদীটিকে। প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়ে গেছে ইছামতি নদীর পানি। গোসল থেকে শুরু করে গৃহাস্থলী কাজের অনুপযোগী এখন এ নদীর পানি। সরজমিনে নদী ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় কচুরিপানা পচে যাওয়ায় পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। মশার উপদ্রব এতই বেড়ে গেছে যে নদীপাড়ে বসে থাকা তো দুরে থাক দাঁড়ানোই যায় না।

মশা এসে ছেয়ে যায় সারা শরীর। অথচ এমন অবস্থাতেও এলাকার লোকজন সেই পানিতেই গোসলসহ অন্যান্য গৃহস্থলির কাজ করছে।স্থানীয়রা জানান, গোছল করতে গেলে বা অজু করতে গেলে ভুলবশত একটু পানি খেয়ে ফেললে তা থেকে ডায়রিয়া, আমাশা ও চর্মরোগ দেখা দেয়। কোমলমতি শিশুরা অনেকে ডায়রিয়া,চর্মসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সাঁথিয়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ কচুরিপানার কারণে নদীর পানি পঁচা দুর্গন্ধ হয়ে থাকলে তা থেকে ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণে শরীরে সমস্যা হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ জাগো২৪.নেট-কে বলেন, কচুরিপানার কারণে নদীটি তার নিজস্বতা হারিয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ। দূষিত হচ্ছে পানি। এটাকে অপসারণ করা জরুরি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দেখবো।বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ কুমার সরকার জানান, আমি এখানে যোগদান করেই কচুরি পানার জন্য নোটসীট দিয়েছি। বরাদ্দ এলে এটি অপসারণের ব্যবস্থা নিব।

ইছামতি নদীতে কচুরিপানার জনগণের ভোগান্তি

প্রকাশের সময়: ১২:২৪:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ এপ্রিল ২০২২

পাবনার সাঁথিয়ায় ইছামতী নদীর কচুরিপানা মানুষের জীবনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। জনগণের ভোগান্তি চরমে উঠলেও যেন দেখার কেউ নেই। সাঁথিয়ার মাঝখান দিয়ে বয়ে যাওয়া বেড়া পাউবো’র প্রধান সেচখাল ইছামতি নদীটি দেখলে যেন চেনাই যায় না। কচুরিপানায় ভরপুর এ নদীটি যেন তার ঐতিহ্য হারিয়ে এখন ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। সেই সাথে কচুরিপানার কারণে নদীটির পঁচা দুর্গন্ধযুক্ত পানি ব্যবহারের অনুপোাযোগী হয়ে পড়েছে এলকাবাসীর। ফলে পানিবাহিত নানা সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে এ এলাকার মানুষ।

জানা গেছে, ১৯৯০ সালে পাউবো ইছামতী নদীর ৪২ কিলোমিটার অংশ পাবনা সেচ ও পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রধান সেচখালে রুপান্তরিত করে। সেচখালে পরিণত হওয়ার পরেও এর দুই পাড়ের অসংখ্য মানুষ সেচ ও গৃহস্থলির কাজে এর পানি ব্যবহার করে আসছিল। কিন্তু নদীটির বুকে ঘন কচুরিপানা জন্মানোয় গৃহস্থলি কাজে এর পানি এখন আর ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

এছাড়া নৌ-চলাচলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। কচুরিপানা সাফ না করায় অনেক এলাকাতেই সেগুলো পচে পরিবেশ দুষণের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। উপজেলার মাধপুর থেকে বেড়া পাম্প ষ্টেশন পর্যন্ত প্রায় ৪২ কিঃমিঃ এই প্রধান সেচ খালের বেশির ভাগ অংশই কচুিরপানায় ছেয়ে থাকে সারা বছর। দীর্ঘদিন ধরে অপসারণ না হওয়ায় এর উপর দিয়ে অনেক লতাপাতাসহ বিভিন্ প্রজাতির উদ্ভিদে ছড়িয়ে পড়েছে গোটা নদীতে । দেখে মনে হয়, বহু পুরোনো কোন পচা,ডুবা, নালা।

চেনাই যায় না ইছামতি নামের এ নদীটিকে। প্রচন্ড দুর্গন্ধ হয়ে গেছে ইছামতি নদীর পানি। গোসল থেকে শুরু করে গৃহাস্থলী কাজের অনুপযোগী এখন এ নদীর পানি। সরজমিনে নদী ঘুরে দেখা গেছে, কিছু কিছু এলাকায় কচুরিপানা পচে যাওয়ায় পানি কালো বর্ণ ধারণ করেছে এবং সেখান থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। মশার উপদ্রব এতই বেড়ে গেছে যে নদীপাড়ে বসে থাকা তো দুরে থাক দাঁড়ানোই যায় না।

মশা এসে ছেয়ে যায় সারা শরীর। অথচ এমন অবস্থাতেও এলাকার লোকজন সেই পানিতেই গোসলসহ অন্যান্য গৃহস্থলির কাজ করছে।স্থানীয়রা জানান, গোছল করতে গেলে বা অজু করতে গেলে ভুলবশত একটু পানি খেয়ে ফেললে তা থেকে ডায়রিয়া, আমাশা ও চর্মরোগ দেখা দেয়। কোমলমতি শিশুরা অনেকে ডায়রিয়া,চর্মসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

সাঁথিয়া হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জাগো২৪.নেট-কে জানান, এ কচুরিপানার কারণে নদীর পানি পঁচা দুর্গন্ধ হয়ে থাকলে তা থেকে ডায়রিয়া ও চর্মরোগসহ বিভিন্ন ধরণের পানিবাহিত সংক্রামক ব্যাধির আক্রমণে শরীরে সমস্যা হতে পারে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ জাগো২৪.নেট-কে বলেন, কচুরিপানার কারণে নদীটি তার নিজস্বতা হারিয়েছে। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে পানির প্রবাহ। দূষিত হচ্ছে পানি। এটাকে অপসারণ করা জরুরি। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে দেখবো।বেড়া পাউবো’র নির্বাহী প্রকৌশলী সুধাংশ কুমার সরকার জানান, আমি এখানে যোগদান করেই কচুরি পানার জন্য নোটসীট দিয়েছি। বরাদ্দ এলে এটি অপসারণের ব্যবস্থা নিব।