গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সবজি ভাণ্ডার খ্যাত ধাপেরহাট ও ইদিলপুর এলাকায়। কৃষকরা নানা ধরণের সবজি চাষাবাদের পাশাপাশি আবাদ করেছে শসা। ফলনও হয়েছে বাম্পার। কিন্তু হাসি নেই কৃষকের । আশানুরূপ দাম না পেয়ে ক্ষতির শঙ্কায় ভুগছে তারা।
জানা যায়, জনপ্রিয় সবজিগুলোর মধ্যে অন্যতম শসা।, তাই পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে প্রতি বছরেই এ এলাকার কৃষকরা শসা চাষ করে থাকেন। এবারেও তার ব্যতিক্রম ছিলোনা। আবহাওয়া প্রতিকুলে থাকায় শসার ফলন বাড়লেও বাজারে দাম না থাকায় উৎপাদন খরচ তুলেতে হিমশিম খাচ্ছে কৃষকরা।
ধাপেরহাট বাজার ঘুরে দেখা যায়, কৃষক তাদের উৎপাদিত শসা বিক্রি করতে না পেরে রাস্তার পাশে বা ড্রেনে ফেলে যাচ্ছে। গত দুইদিনে বাজারে প্রতি কেজি শসা ২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে উৎপাদন খরচ দুরের কথা প্রতিদিনের খরচ মেটানোই দায়।
এ বিষয়ে পাইকারী ক্রেতারা জানায়, মোকামে চাহিদা না থাকায় ও বাজারে আমদানী বেশি হওয়ায় আমরা শসা ক্রয় করতে ভয় পাচ্ছি। তাছাড়া গত একমাসে ব্যবসায় প্রচুর পরিমানে লোকসান গুনতে হয়েছে। ধাপেরহাট বাজার থেকে অন্তত দিনে ২০-২৫টি ট্রাক বোঝাই শসা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলেও গত দুইদিনে ৪-৫ ট্রাকের বেশি শসা পাঠানো সম্ভব হয়নি।
ধাপেরহাটের ছাইগাড়ী গ্রামের কৃষক আব্দুস ছাত্তার জাগো২৪.নেট-কে বলেন আমি এ বছর ৬০ শতক জমিতে শসা চাষ করেছি। তাতে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা খরচ হলেও শসা বিক্রি করে এ পর্যন্ত ২০ হাজার টাকাও তুলতে পারিনি। আমি প্রতিদিন উক্ত জমি থেকে ৬-৭ মণ শসা বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে আসি। যা ৫০-৬০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছি। তা দিয়ে পরিবহন খরচই হচ্ছেনা। ৪০-৫০ টাকা মণ দরে শসা বিক্রি করেও কপালে দেখা দিয়েছে দুশ্চিন্তার ভাঁজ। এলাকার অনেক কৃষকেই বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বর্গা চাষি হিসাবে শসা চাষ করে দাম না থাকায় পড়েছে বিপাকে।
সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মতিউল আলম জাগো২৪.নেট-কে জানান, কাঁচা সবজির উৎপাদন বাড়লে দাম কিছুটা কমবে। সম্প্রতি শসা চাষি দাম কম পেলেও কিছুদিন আগে দাম ভালো পেয়েছেন তারা। সামনের দিকে এর দাম বাড়তে পারে।
আমিনুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 

















