গাইবান্ধার ফুলছড়িতে এক দিনের টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা। পাশাপাশি ধান কাটার শ্রমিক না পাওয়ায় তলিয়ে যাওয়া ধান ক্ষেতেই পচে নষ্ট হচ্ছে। জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ বুড়াইল গ্রামের কৃষক শরিফ উদ্দিন (৬০)। ক্ষেতে তলিয়ে যাওয়া ধান কাঁচি দিয়ে টেনে টেনে তুলে কাটছেন আর আক্ষেপ করছেন। তিনি বলেন, ঈদের আগেই যদি ধানগুলো কাটা হতো, তাহলে হয়ত ক্ষতির মুখে পড়তে হতো না।
জানা গেছে, উপজেলায় এ বছর বোরো ধানের আবাদ ভালো হলেও ঘুর্ণিঝড় অশনির প্রভাবে বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলে ধানের ক্ষতি হয়েছে। টানা বৃষ্টি হওয়ায় ক্ষেতে পানি জমে ধান তলিয়ে গেছে। এ ছাড়া ধান কাটতে শ্রমিক প্রতি গুনতে হচ্ছে ৯০০-১০০০ টাকা। আর বাজারে ধানের দাম ৭০০-৮০০ টাকা মণ। ফলে এক মণ ধানের বিনিময়ে শ্রমিক পাচ্ছে না কৃষকরা। বুড়াইল গ্রামের কৃষক খাজা মিয়া বলেন, গেল রোজার শেষের দিকে জমির ধান ৭০ ভাগ পেকেছিল।ধান কাটবো কাটবো করে আর কাটা হয়নি। এর মধ্যে টানা বৃষ্টি শুরু হয়ে ক্ষেতে হাঁটু পানি জমে ধান তলিয়ে গেছে। দ্রুত যে ধান কাটব সে উপায় নেই। ফুলছড়ি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ মিন্টু মিয়া বলেন, উপজেলায় ইতোমধ্যে ৪৫ শতাংশ জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকি ধান কাটার অপেক্ষায় ছিল। তবে দুই দিনের বৃষ্টি আর অশনির প্রভাবে কিছু ধান শুয়ে পড়েছে। কিন্তু ধানের কোনো ক্ষতি হয়নি। তারপরও ধান কাটা অব্যাহত রয়েছে। আবহাওয়া ভালো হওয়ার পাশাপাশি কৃষকরা বৃষ্টি উপেক্ষা করে যদি ধান কাটতে পারে, তাহলে আগামী ১০-১২ দিনের মধ্যে ধান কাটা,ছাটা শেষ হবে।
করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 

















