গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি তথ্য পাওয়া গেছে। পাওয়া তথ্যে এ পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণে এগিয়ে আছে পল্লী বিদ্যুৎ। এ ছাড়াও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। পানিবন্দী হয়েছে পড়েছে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের মাঠ। বিভিন্ন এলাকায় কারেন্টের খুঁটি উপড়ে পড়ায় বন্ধ আছে বিদ্যুৎ। বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ায় বন্ধ আছে যাতায়াত।
সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা ও উপজেলার ১৫ ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, যাতায়াতের বিভিন্ন সড়কে বড়বড় গাছ ও কারেন্টের খুঁটি উপড়ে আবার কোথাও ভেঙ্গে পড়ে আছে। সে কারণে সেই সড়কগুলো ধরে যানবাহন চলাচলে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চালে গাছ ভেঙ্গে পড়েছে। আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানের ঘরের চাল উপরে গেছে। সে কারণে সেই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ আছে। এছাড়াও ধানসহ বিভিন্ন ফসল পানিবন্দী হয়েছে।
সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক ক. জ. ম. হাবিবা বেগম বলেন, রাত সাড়ে ৩ টার দিকে আমি নাইটগার্ডকে ফোন করি। এরপরে ও আবার আমাকে ফোন দিয়ে জানান পাইকরের গাছটা পড়ে গেছে স্কুলের উপর। পরে ভোর ৬ টার দিকে স্কুলে এসেছি আমি।
তিনি আরও বলেন, গাছটি ঝড়ে উপড়ে পাড়ায় দুটি অফিস কক্ষ ও তিনটা ক্লাসরুম নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে একট কক্ষে মাধ্যমিক অফিসের বই রাখা আছে। সেগুলো সব ভিজে গেছে। এছাড়াও আমার স্কুলের বই, কাগজপত্র ও আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুল জুড়ে একটি মাত্র কম্পিউটার সেটিও নষ্ট হয়ে গেছে। এ ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো, বেলাল হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় পুরো উপজেলার খবর নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের সংবাদ পেয়েছি। এরমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়। ইতোমধ্যে এ প্রতিষ্ঠানটি ইউএনও স্যারসহ পরিদর্শন করেছি। বাকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কি অবস্থায় আছে সেটিও খোঁজ নেয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, এ বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত দুটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পেয়েছি। এরমধ্যে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিবরাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ফোন না ধারায় বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা সম্ভব হয়নি।
রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ সুন্দরগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, গত রাতের ঝড়ে আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ লাইনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে খুঁটি ভেঙ্গেছে ১২টি। হেলে পড়েছে ছয়টি। প্রায় ৩০ টি স্পটে তার ছিড়ে পড়ে রয়েছে। ১০০টির এর অধিক জায়গায় গাছ ভেঙে পড়েছে। ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়েছে ছয়টি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সুন্দরগঞ্জ অফিসসহ অন্যান্য অফিসের মোট ২১টি টিম একযোগে কাজ করছেন। সদর দপ্তর হতে জিএম মহোদয়ের নির্দেশনায় টেকনিক্যাল টিমও ইতিমধ্যে সুন্দরগঞ্জে উপস্থিত হয়েছেন। ঠিকাদারের লোকজন সদর দপ্তর থেকে খুটি নিয়ে আসতেছেন। যেহেতু ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, সেহেতু কখন লাইন চালু হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। তবে সকল লোকবল আপ্রাণ চেষ্টা করছেন বলেও জানান ডিজিএম।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ৩ হেক্টরের মতো আউশের বীজতলা ও কিছু তীল আছে এই মূহুর্তে পানির নীচে। আর বোরো ধান কর্তন চলছে। এ পর্যন্ত সেভেনটি সেভেন পার্সেন্ট কর্তন হয়েছে। বাকীটা পানিবন্দি আছে। সেটার পরিমাণ এগারোশ পঁচিশ হেক্টর। তবে নতুন করে যদি আর কোনো ঝড় বা বৃষ্টি না হয় তাহলে আক্রান্ত এ ফসলগুলোকে সারিয়ে তোলা যাবে ইন্শ আল্লাহ। এ বিষয়ে কৃষি অফিসের লোকজন মাঠে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, কালবৈশাখী ঝড়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারি দপ্তরের সকল কর্মকর্তা ও ১৫ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের নিয়ে এক জরুরি সভা করেছি। সেখানে বিষয়গুলো ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তালিকা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। পেলেই সহায়তা জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট জানানো হবে।
তিনি আরও বলেন, এছাড়াও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি।
জাহিদ, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 












