গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে সরকারি খাদ্য গুদামে অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ- ২০২৬ মৌসুমের আওতায় ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এ গুদামে সরাসরি ধান দিতে পেরে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন কৃষকেরা। তবে উৎপাদন খরচের সঙ্গে বর্তমান বাজার পরিস্থিতির সমন্বয় করে ধানের সরকারি ক্রয়মূল্য আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
কৃষকেরা জানান, সরকারি খাদ্য গুদামে সরাসরি ধান বিক্রির সুযোগ থাকায় মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরতা কিছুটা কমেছে। নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় ধান সরবরাহ করে মূল্য পাওয়ায় অনেক কৃষক সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। খাদ্য অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী, কৃষকের আবেদন, অনুমোদন ও গুদামে ধান সরবরাহের বিভিন্ন ধাপ অনলাইনে পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, সার, বীজ, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদনে তাদের ব্যয়ও বেড়েছে। ফলে বর্তমান সরকারি ক্রয়মূল্যে কাঙ্ক্ষিত লাভ হচ্ছে না। তাদের দাবি, উৎপাদন খরচ বিবেচনায় নিয়ে ধানের সরকারি মূল্য আরও বাড়ানো হলে কৃষকেরা বেশি লাভবান হবেন এবং ধান চাষে আগ্রহও বাড়বে।
সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে- চলতি বোরো মৌসুমী সাদুল্লাপুর খাদ্য গুদামে বোরো সিদ্ধ চাল লক্ষমাত্রা ৩ হাজার ৬৩৯ মেট্রিক টন। এর মধ্যে অর্জন হয়েছে ৩ হাজার ২৭০ মেট্রিক টন। একইসঙ্গে আতপ চালের লক্ষমাত্রা ১৮৮ মেট্রিক টন। যার অর্জন ১২০ মেটি টন এবং ধান ৭৪৪ মেট্রিক টন লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হলে তা শতভাগ অর্জন হয়েছে।
বোরো ধান ও চাল সংগ্রহকালীন সময়ের অনুমোদিত বাজার দরের নিরিখে সিদ্ধ চাল প্রতি কেজি ৪৯ টাকা, আতপ চাল প্রতি কেজি ৪৮ টাকা এবং প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকা নির্ধারণপূর্বক সংগ্রহ করা হয়। তবে বাজারের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেশি হওয়ায় কৃষকের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
কৃষক নয়ন চন্দ্র সাহা বলেন, চালের মূল্য কিছুটা স্থীতিশীল হলেও প্রতি কেজি ধান ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় যদি সরকার ক্রয় করতেন তাহলে সাধারণ প্রান্তিক কৃষক আরও বেশি উপকৃত হতেন।
আরেক কৃষক মাহাবুর রহমান বলেন, আগে খাদ্য গুদামে ধান দিতে কিছুটা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তবে এখন আর সেই হয়রানি নেই। সরকারি বিধি মেনে সহজে ধান দিতে পেরে আমরা অত্যান্ত খুশি।
নলডাঙ্গা খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খাইরুল হাসান জানান, নির্ধারিত তারিখের মধ্যে ধান-চালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। যথা নিয়মে কৃষকরা ধান দিতে পেরে তারা উচ্ছ্বসিত।
সাদুল্লাপুর খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিহাবুন সাকিব জানান, আমরা প্রান্তীক কৃষকদের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করে থাকি। আমাদের সরকার সবসময় কৃষকদের পাশে থাকেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে একাত্বতা পোষণ করে আমরাও কৃষকদের সহযোগীতা অব্যাহত রেখেছি। ইতোমধ্যে কৃষকদের মধ্যে চঞ্চলতা দেখা দিয়েছে। তারা গুদামে ধান দিতে পেরে খুশি।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















