মোঃ শাহজাহান সাজু: সকাল-সন্ধ্যার কুয়াশা জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। এরই মধ্যে লালমনিরহাটের মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে শীতকালীন আগাম সবজির আবাদ। সবুজে ছেয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি। ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, বেগুন, লাউ, মুলা, শসা, গাজর, পালংশাক ও বরবটিসহ নানা ধরনের সবজি পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা।
শীতের মূল মৌসুম শুরু হতে আরও কিছুটা সময় বাকি থাকলেও আগাম জাতের সবজি ইতোমধ্যে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। তুলনামূলক বেশি দাম পাওয়ায় আগাম সবজি চাষে লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার উৎপাদন ও মুনাফা দুটোই বাড়বে বলে মনে করছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় ৪ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৭৩ হাজার ৩৭৫ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভোর থেকেই কৃষকেরা মাঠে নেমে পড়ছেন। কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ সেচ দিচ্ছেন, আবার কেউ কীটনাশক প্রয়োগ করছেন। অনেক কৃষক এখনো আগাম জাতের সবজির চারা রোপণ ও জমি প্রস্তুতের কাজে ব্যস্ত।
কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরুতে বাজারে আগাম সবজির চাহিদা ও দাম তুলনামূলক বেশি থাকে। ফলে স্বাভাবিক মৌসুমের তুলনায় আগাম সবজি চাষে লাভের সম্ভাবনাও বেশি। উৎপাদন খরচ ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে স্বল্প সময়ে ভালো আয় করা সম্ভব।
আদিতমারী উপজেলার কমলাবাড়ী ইউনিয়নের কুমরির হাট গ্রামের কৃষক মাসুদ ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে ট্রপিক্যাল কুইন জাতের বাঁধাকপি এবং মাস্টার-৪৫ ও ক্যাপ্টেন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। পাশাপাশি কিছু জমিতে শিমের আবাদ করেছেন তিনি।
মাসুদ ইসলাম বলেন, এসব সবজি চাষে তাঁর প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া ও বাজারদর অনুকূলে থাকলে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন। আর ২০ থেকে ২৫ দিনের মধ্যে জমি থেকে সবজি তোলা শুরু হবে বলেও জানান তিনি।
সদর উপজেলার মোগলহাট ইউনিয়নের ফুলগাছ গ্রামের কৃষক নাজির উদ্দিন বলেন, সারা বছরই তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। শীতকালীন আগাম সবজির মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতা চাষ করছেন। এসব সবজির চাহিদা ও দাম ভালো থাকায় আগাম আবাদে তুলনামূলক বেশি লাভ পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা সাইখুল আরেফিন বলেন, আগাম জাতের সবজি চাষ করে কৃষকেরা অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। এ কারণে জেলায় আগাম সবজির আবাদ বাড়ছে। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।
মোঃ শাহজাহান সাজু. করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, লালমনিরহাট 























