শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তিন দফা বদলির পর সাদুল্লাপুর ছাড়লেন এসিল্যান্ড জসিম

দফায় দফায় বদলির আদেশ হলেও দীর্ঘদিন কর্মস্থল ছাড়েননি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ বদলির আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি সাদুল্লাপুরের কর্মস্থল ছেড়েছেন। বিষয়টি শুক্রবার নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল জসিম উদ্দিনের সাদুল্লাপুরে শেষ কর্মদিবস। তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদানের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল তাঁকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। ওই আদেশ কার্যকর না হওয়ায় তিনি সাদুল্লাপুরেই ছিলেন। পরে ১৮ জুন দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তও হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জুন তাঁকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে সেই আদেশও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এর পরই সাদুল্লাপুরে তাঁর দায়িত্ব পালনের অবসান ঘটে।

জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে খাস জমি, নামজারি, মিসকেস, অর্পিত সম্পত্তি এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ওঠে।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে। গত ১৮ জুন অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে যান সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। এ আচারণের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এসিল্যাণ্ড সাদুল্লাপুর অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে একাত্তর টিভি প্রতিনিধি তোফায়েল হোসেন জাকিরকে ব্লক দিয়েছেন এই এসিল্যাণ্ড।

এই সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় জসিম উদ্দিন তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত হয়।

এর পর ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক আদেশে তাঁকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বদলি করা হয়। আদেশে বদলিটি জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে সাদুল্লাপুরে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং অভিযানে জব্দ করা ড্রেজারের মালামাল নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কোনোটির বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিক বলেন, একাধিক বদলির আদেশের পরও একজন কর্মকর্তার আগের কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় থাকা এবং পরে আদেশ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, বদলির আদেশ কেন বারবার কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা থাকা উচিত। একই সঙ্গে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জনপ্রিয়

তিন দফা বদলির পর সাদুল্লাপুর ছাড়লেন এসিল্যান্ড জসিম

প্রকাশের সময়: ০৭:৫৫:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দফায় দফায় বদলির আদেশ হলেও দীর্ঘদিন কর্মস্থল ছাড়েননি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন। শেষ পর্যন্ত সর্বশেষ বদলির আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) তিনি সাদুল্লাপুরের কর্মস্থল ছেড়েছেন। বিষয়টি শুক্রবার নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার ছিল জসিম উদ্দিনের সাদুল্লাপুরে শেষ কর্মদিবস। তিনি দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে যোগদানের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করেন।

এর আগে চলতি বছরের ২০ এপ্রিল তাঁকে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। ওই আদেশ কার্যকর না হওয়ায় তিনি সাদুল্লাপুরেই ছিলেন। পরে ১৮ জুন দুই সাংবাদিকের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি নিয়ে তদন্তও হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২৪ জুন তাঁকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বদলি করা হয়। তবে সেই আদেশও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়নি বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সর্বশেষ ২ সেপ্টেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয়ের আদেশে তাঁকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। এর পরই সাদুল্লাপুরে তাঁর দায়িত্ব পালনের অবসান ঘটে।

জসিম উদ্দিন ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর সাদুল্লাপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগ দেন। দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বিরুদ্ধে খাস জমি, নামজারি, মিসকেস, অর্পিত সম্পত্তি এবং সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে আচরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে অভিযোগ ওঠে।

তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি ছিল সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে। গত ১৮ জুন অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে তথ্য ও বক্তব্য জানতে তাঁর কার্যালয়ে যান সময় টিভির সাংবাদিক হেদায়েতুল ইসলাম বাবু ও যমুনা টেলিভিশনের সাংবাদিক জিল্লুর রহমান মণ্ডল পলাশ। এ আচারণের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় এসিল্যাণ্ড সাদুল্লাপুর অফিসিয়াল ফেসবুক আইডি থেকে একাত্তর টিভি প্রতিনিধি তোফায়েল হোসেন জাকিরকে ব্লক দিয়েছেন এই এসিল্যাণ্ড।

এই সাংবাদিকদের অভিযোগ, এ সময় জসিম উদ্দিন তাঁদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত হয়।

এর পর ২৪ জুন রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক আদেশে তাঁকে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় বদলি করা হয়। আদেশে বদলিটি জনস্বার্থে এবং অবিলম্বে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল।

এদিকে সাদুল্লাপুরে দায়িত্ব পালনের সময় সরকারি খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে অনিয়ম, বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি কর্মী নিয়োগে অনিয়ম, সরকারি গাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং অভিযানে জব্দ করা ড্রেজারের মালামাল নিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগের কোনোটির বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাই অভিযোগগুলোর স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

স্থানীয় কয়েকজন সেবাপ্রার্থী ও সচেতন নাগরিক বলেন, একাধিক বদলির আদেশের পরও একজন কর্মকর্তার আগের কর্মস্থলে দীর্ঘ সময় থাকা এবং পরে আদেশ কার্যকর হওয়ার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, বদলির আদেশ কেন বারবার কার্যকর হয়নি, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা থাকা উচিত। একই সঙ্গে জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. জসিম উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।