গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিক মামলার ঘটনায় হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। প্রতিপক্ষের দায়ের করা এসব মামলাকে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ দাবি করে সংবাদ সম্মেলন করেছেন কামরুল হাসান নামের এক ব্যক্তি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের মরুয়াদহ এলাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান দাবি করেন, ছাবেদ আলীর পৈতৃক সম্পত্তির অংশ থেকে তার প্রথম স্ত্রী রমিছা বেগমকে ১৯৮৮ সালের ১ অক্টোবর দলিলের মাধ্যমে ৭১ শতক জমি হেবাবিল এওয়াজ হিসেবে দেওয়া হয়। পরে রমিছা বেগম দীর্ঘদিন ওই জমি ভোগদখলে রাখেন।
তিনি জানান, রমিছা বেগম ২০০০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর তার মেয়ে মাকছুদা বেগমকে হেবাবিল এওয়াজের মাধ্যমে ৪১ শতক জমি দেন। পরবর্তীতে মাকছুদা বেগম ওই জমি খারিজ করে ভোগদখলে থাকেন। এরই একপর্যায়ে অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর মাকছুদা বেগম স্থানীয় সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের কাছে সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ১৭ দশমিক ৫০ শতক জমি বিক্রি করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। পরে ক্রেতারা জমিটি খারিজ করে সেখানে সীমানাপ্রাচীর, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে বসবাস করে আসছেন বলে জানানো হয়।
কামরুল হাসানের লিখিত বক্তব্য অনুযায়ী, একই দাগের জমি নিয়ে এর আগে ছাবেদ আলী ১৯৯৫ সালে আজিজার রহমানের কাছে ২৮ শতক এবং ১৯৯৬ সালে আনিছার রহমানের কাছে ৮ শতক জমি বিক্রি করেন।
তার দাবি, পরবর্তীতে ১৯৯০ সালের এসএ রেকর্ডে ভুলবশত এক পক্ষের ভোগদখলীয় জমি অন্য পক্ষের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়। এই রেকর্ড সংশোধন নিয়ে বর্তমানে আদালতে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, রেকর্ড সংশোধনের দাবিতে মাকছুদা বেগমের পক্ষ থেকে ৫৩/২৩ নম্বর ঘোষণার মামলা এবং আনিছার রহমানের ছেলে আমিনুল ইসলামের পক্ষ থেকে ৫০/২৪ নম্বর ঘোষণার মামলা চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারার একটি মামলায় বিরোধপূর্ণ জমিতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে নিজ নিজ অবস্থানে ভোগদখল বজায় রাখার নির্দেশনা আদালত দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান বলেন, তিনি বিরোধপূর্ণ জমির ক্রেতা কিংবা বিক্রেতা কোনো পক্ষই নন। তবে সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের মামা হওয়ায় তাদের অভিভাবক হিসেবে বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা করে আসছেন। তবুও মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে একাধিক মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। নিষিদ্ধ কার্যক্রম আওয়ামী লীগের সমর্থক আজিজার রহমান গংরা হয়রানি করছে আসছে বলেও তিনি জানান।
এছাড়া ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার বিরুদ্ধেও ভূমি-সংক্রান্ত আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। ওই মামলাগুলো বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
কামরুল হাসানের অভিযোগ, গত ২০ আগস্ট সাদেকুল ইসলাম ও কাজিরন বেগমের ভোগদখলীয় জমিতে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উদ্যোগে একটি টিউবওয়েলের গোড়া পাকা করার কাজ চলছিল। এ সময় আজিজার রহমানসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে টিনের বাউন্ডারি ভেঙে টিউবওয়েলের গোড়া পাকা করার কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রী ভাঙচুর করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় তার ভাগিনা শাহাদত হোসেন বাদী হয়ে ২০ আগস্ট থানায় এজাহার দায়ের করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। পরে ২৭ আগস্ট ওই অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান আরও অভিযোগ করেন, ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার কার্যক্রম থেকে রেহাই পাওয়ার উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করার চেষ্টা করছে।
তার দাবি, গত ২৬ আগস্ট পারিবারিক কলহের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ও তার পক্ষের লোকজনের ওপর আজিজার গংরা ক্ষিপ্ত হয়ে মামলা-মোকদ্দমার ভয় দেখানো হয়। পরে মামলায় ফাঁসানোর জন্য আরিফ মিয়ার স্ত্রী জরিনা বেগমকে নিজেরাই মাথা ও কান কেটে দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করান। এরপর ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে থানায় মামলা রেকর্ড করাতে তদবির করা হচ্ছে বলে দাবি করেন কামরুল হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে কামরুল হাসান আরও বলেন, জমির মালিকানা ও রেকর্ড নিয়ে বিরোধ থাকলে তা আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু বিরোধের জেরে একের পর এক মামলা হওয়ায় তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও এলাকার সুধীজনের প্রতি ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সাদুল্লাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, ভাঙচুর অভিযোগে শাহাদত হোসেন নামের এক ব্যক্তি বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। সেটি তদান্তাধীন রয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 












