গাইবান্ধার বিভিন্ন স্থানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে শিয়াল। বাড়ির উঠান কিংবা রাস্তায় থাকা মানুষও রেহাই পাচ্ছেন না। কোথাও আবার বেওয়ারিশ বা দলছুট কুকুর ছুটে গিয়ে কামড় দিচ্ছে শিশু, নারী ও পুরুষকে।
সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে কুকুর ও শিয়ালের ধারাবাহিক আক্রমণের ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ইতোমধ্যে পৃথক ঘটনায় অন্তত ২৪ জন মানুষ কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণের শিকার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাদুল্লাপুরে কুকুরের কামড়ে সাত বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ২৩ জন। এর মধ্যে সুন্দরগঞ্জে ৯ জনকে কামড়ানো একটি শিয়ালের নমুনায় র্যাবিস ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।
ঘটনাগুলোর শুরু ১৫ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের জামুডাঙ্গা গ্রামের সোনারপাড়ায়। এখানে লোকালয়ে ঢুকে একটি শিয়াল এক দম্পতিসহ পাঁচজনকে কামড় ও আঁচড় দিয়ে আহত করে। দিনের বেলায় বসতবাড়ির কাছাকাছি শিয়ালের এমন আক্রমণে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
এর কয়েক দিন পর ২০ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের জিগাবাড়ী ও তালুক বেলকা এলাকায় একটি শিয়ালের হামলায় নারী ও শিশুসহ নয়জন আহত হন। আহতদের মধ্যে চারজন শিশু। শিয়ালের আক্রমণে দুটি গরুও আহত হয়।
পরে প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে শিয়ালটির মাথা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। ওই নমুনায় র্যাবিস ভাইরাস শনাক্ত হয়। শিয়ালের হামলার কয়েক দিনের মধ্যেই ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার উত্তর হাটবামুনী গ্রামে কুকুরের কামড়ে সাত বছরের শিশু সিনথিয়া আক্তারের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মাজহারুল মাজেদ বাবু জানান, একটি কুকুর শিশুটির গলায় কামড় দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। একই কুকুরের কামড়ে রাকিব হোসেন নামে আরও একজন আহত হন।
ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা এলাকা পরিদর্শন করেন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব বিভাগের পর্যবেক্ষণ টিমও ঘটনাটি নিয়ে মাঠপর্যায়ে কাজ করে।
এদিকে ২৬ সেপ্টেম্বর সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের তিনটি গ্রামে একটি কুকুরের আক্রমণে শিশুসহ আরও আটজন আহত হন। একই ঘটনায় দুটি গরু ও চারটি ছাগলও আক্রান্ত হয়। পরে স্থানীয়রা কুকুরটিকে মেরে ফেলেন।
স্থানীয়রা বলছেন, সাদুল্লাপুর ও সুন্দরগঞ্জে কুকুর-শিয়ালের আক্রমণে এ পর্যন্ত মোট ২৪ জন মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে সাদুল্লাপুরে পাঁচজন ও সুন্দরগঞ্জে নয়জন শিয়ালের হামলায় এবং কুকুরের হামলায় সাদুল্লাপুরে দুজন ও সুন্দরগঞ্জে আটজন আক্রান্ত হন। সাদুল্লাপুরের ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, কুকুর ও শিয়ালের কামড়ের ঘটনায় সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্যঝুঁকির একটি হলো জলাতঙ্ক বা র্যাবিস। সুন্দরগঞ্জে নয়জনকে কামড়ানো শিয়ালের নমুনায় র্যাবিস ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় উদ্বেগ সৃষ্ঠি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্য ও প্রাণীকল্যাণ বিবেচনায় নিয়ে কুকুরের টিকাদান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিতকরণ, জনসচেতনতা এবং নিয়মিত নজরদারির মতো কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, কুকুর বা শিয়াল অস্বাভাবিক আচরণ করলে তার কাছে যাওয়া, ধরার চেষ্টা করা বা তাড়া করা থেকে বিরত থাকতে হবে। শিশুদের এ বিষয়ে বিশেষভাবে সতর্ক করা প্রয়োজন। কামড়, আঁচড় কিংবা আক্রান্ত প্রাণীর লালা ক্ষতস্থানে লাগার মতো ঘটনা ঘটলে অবহেলা না করে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হবে।
গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, জেলার যেসব এলাকায় কুকুর ও শিয়ালের আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে, সেসব তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জনসাধারণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার এবং আক্রান্ত হলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট 


















