মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভুয়া সমিতির নামে কোটি  টাকা নিয়ে লাপাত্তা আয়নাল  

আকিনা, আম্বিয়া আর ছকিনাদের ভিক্ষার ঝুলিতে তিল তিল করে জমানো টাকা গুলো আত্নসাৎ করে  দির্ঘদিন যাবৎ গা ঢাকা দিয়ে আছে নব্য কোটিপতি আয়নাল।

ভৃক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপের হাট ছাইগাড়ী গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা আয়নাল হক বন্দরের পল্টন মোড় নামকস্থানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সমিতি গঠন করে লোভনীয় অফারে সদস্য সংগ্রহ করে। বিগত ২০১৬ সালে ১২০ জন সদস্যকে দ্বিগুন অর্থ ফেরৎ দেয় ১ লাখ টাকা জমা করে  দু বছর পর ২ লাখ টাকা পেয়েছে অনেকেই।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে  আবারো নতুন করে সমিতি গঠন করে ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে সুচতুর ধুরন্দর আয়নাল। নিয়ম একটু পরিবর্তন করে এবার করেছিলো  ৩ বছর। আর পুর্বের ন্যায় জমানো সঞ্চয় টাকার দ্বিগুন ফেরৎ দেবে মর্মে, অধিক মুনাফার আশায়, চা দোকানী, সেলুনের নরসুন্দর, খিলিপান বিক্রেতা এমনকি ভিক্ষাবৃত্তি করে তারাসহ কিছু শিক্ষিত লোকজন তার ঐ সমিতির সদস্য হয়ে প্রতিমাসের ১ তারিখে মাসিক সঞ্চয় জমানো শুরু করে। গত বারের চেয়ে তার সমিতিতে যুক্ত হয় প্রায় দ্বিগুন সদস্য। যার সংখ্যা ৩৩৫ জন। প্রতিমাসে মাথা পিছু ৫০০ টাকা হারে ৩ বছরে সদস্যরা আয়নালকে জমা দেয় প্রায় কোটি । মেয়াদ ৩ বছর পুর্ন  হয়েছে গত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। আর তখন থেকেই আয়নাল লাপাত্তা। লাভ তো দূরের কথা আসল টাকার খবর নেই। এখন হন্য হয়ে খুঁজছে সদস্যরা তাকে।

এলাকার লোকজন জানান, গরীব মানুষের টাকা আত্নসাৎ করে সামান্য খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা আয়নাল রাতারাতি বড়লোক হয়ে যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ সেজেছে। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছে বিশাল অট্রলিকা। ধাপের হাট পল্টন মোড়ে নিজের নামে অর্ধ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছে। এমন কি গ্রামেও আবাদি জমিও ক্রয় করেছে প্রায় ২ বিঘা।

সমিতির সদস্য ভূক্তভোগী ছাইগাড়ী গ্রামের ভিক্ষুক আম্বিয়া ও আকিনা জানান, বাবা হামরা পরের বাড়ী থেকে চেয়ে চিন্তে বা ঝি এর কাজ করে গত তিন বছরে ২ বোন ৭২ হাজার টাকা জমা দিয়েছি আয়নালকে। ফেরৎ পাবো লাভসহ ডাবল ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এখন তার কিছুই নেই। লাভ তো দূরে আসলটা পেলেও বাচলাম হয়।

একই অভিযেগ পান দোকানি উজ্জল, সেলুন ব্যাবসায়ী দিপক, চা দোকানী সুদর্শন, হাসান পাড়ার চম্পারানী, হিংগার পাড়ার মোজাম্মেল, গোবিন্দপুরের জরিনা, আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ছাইগাড়ীর উপিয়া বেগম, ছাইগাড়ীর ওমর ফারুকসহ শত শত নারী-পুরুষের সবাই এখন আয়নালকে খুঁজছে। স্থানীয়ভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা  করেও লাভ হয়নি অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানান তারা।

এলাকার ভূক্তভোগীসহ শত শত মানুষের দাবী ধুরন্দর আয়নালকে গ্রেফতার করে গরীব-দুখি মানুষের টাকাগুলো উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী প্রয়োজন।

আয়নালের খোঁজ নিতে তার বিশাল অট্রলিকা ছাইগাড়ী গ্রামে গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে জানা যায়, আয়নাল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকেন বাড়ীতে আসেন না। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গোবিন্দপুর গ্রামের ভূক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনেক আগে একটা লিখিত অভিযোগ থানায় দিয়েছি পরে আর খোঁজ করিনি।

ধাপের হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সেরাজুল হক বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ নেই। আগে হয়ে থাকলে সেটা আমার জানা নেই।

ভুয়া সমিতির নামে কোটি  টাকা নিয়ে লাপাত্তা আয়নাল  

প্রকাশের সময়: ০৮:৪৫:৩২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৫ মে ২০২২

আকিনা, আম্বিয়া আর ছকিনাদের ভিক্ষার ঝুলিতে তিল তিল করে জমানো টাকা গুলো আত্নসাৎ করে  দির্ঘদিন যাবৎ গা ঢাকা দিয়ে আছে নব্য কোটিপতি আয়নাল।

ভৃক্তভোগী ও এলাকাবাসীরা জানান, সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপের হাট ছাইগাড়ী গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত রইচ উদ্দিনের ছেলে খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা আয়নাল হক বন্দরের পল্টন মোড় নামকস্থানে একটি বাসা ভাড়া নিয়ে সমিতি গঠন করে লোভনীয় অফারে সদস্য সংগ্রহ করে। বিগত ২০১৬ সালে ১২০ জন সদস্যকে দ্বিগুন অর্থ ফেরৎ দেয় ১ লাখ টাকা জমা করে  দু বছর পর ২ লাখ টাকা পেয়েছে অনেকেই।

এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে  আবারো নতুন করে সমিতি গঠন করে ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে সুচতুর ধুরন্দর আয়নাল। নিয়ম একটু পরিবর্তন করে এবার করেছিলো  ৩ বছর। আর পুর্বের ন্যায় জমানো সঞ্চয় টাকার দ্বিগুন ফেরৎ দেবে মর্মে, অধিক মুনাফার আশায়, চা দোকানী, সেলুনের নরসুন্দর, খিলিপান বিক্রেতা এমনকি ভিক্ষাবৃত্তি করে তারাসহ কিছু শিক্ষিত লোকজন তার ঐ সমিতির সদস্য হয়ে প্রতিমাসের ১ তারিখে মাসিক সঞ্চয় জমানো শুরু করে। গত বারের চেয়ে তার সমিতিতে যুক্ত হয় প্রায় দ্বিগুন সদস্য। যার সংখ্যা ৩৩৫ জন। প্রতিমাসে মাথা পিছু ৫০০ টাকা হারে ৩ বছরে সদস্যরা আয়নালকে জমা দেয় প্রায় কোটি । মেয়াদ ৩ বছর পুর্ন  হয়েছে গত ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। আর তখন থেকেই আয়নাল লাপাত্তা। লাভ তো দূরের কথা আসল টাকার খবর নেই। এখন হন্য হয়ে খুঁজছে সদস্যরা তাকে।

এলাকার লোকজন জানান, গরীব মানুষের টাকা আত্নসাৎ করে সামান্য খুচরা কাঁচামাল বিক্রেতা আয়নাল রাতারাতি বড়লোক হয়ে যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ সেজেছে। নিজ বাড়িতে গড়ে তুলেছে বিশাল অট্রলিকা। ধাপের হাট পল্টন মোড়ে নিজের নামে অর্ধ কোটি টাকার জমি ক্রয় করেছে। এমন কি গ্রামেও আবাদি জমিও ক্রয় করেছে প্রায় ২ বিঘা।

সমিতির সদস্য ভূক্তভোগী ছাইগাড়ী গ্রামের ভিক্ষুক আম্বিয়া ও আকিনা জানান, বাবা হামরা পরের বাড়ী থেকে চেয়ে চিন্তে বা ঝি এর কাজ করে গত তিন বছরে ২ বোন ৭২ হাজার টাকা জমা দিয়েছি আয়নালকে। ফেরৎ পাবো লাভসহ ডাবল ১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা। এখন তার কিছুই নেই। লাভ তো দূরে আসলটা পেলেও বাচলাম হয়।

একই অভিযেগ পান দোকানি উজ্জল, সেলুন ব্যাবসায়ী দিপক, চা দোকানী সুদর্শন, হাসান পাড়ার চম্পারানী, হিংগার পাড়ার মোজাম্মেল, গোবিন্দপুরের জরিনা, আশ্রায়ণ প্রকল্পের ঘরে থাকা ছাইগাড়ীর উপিয়া বেগম, ছাইগাড়ীর ওমর ফারুকসহ শত শত নারী-পুরুষের সবাই এখন আয়নালকে খুঁজছে। স্থানীয়ভাবে টাকা আদায়ের চেষ্টা  করেও লাভ হয়নি অবশেষে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে বলে জানান তারা।

এলাকার ভূক্তভোগীসহ শত শত মানুষের দাবী ধুরন্দর আয়নালকে গ্রেফতার করে গরীব-দুখি মানুষের টাকাগুলো উদ্ধার করে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরী প্রয়োজন।

আয়নালের খোঁজ নিতে তার বিশাল অট্রলিকা ছাইগাড়ী গ্রামে গিয়ে তার স্ত্রীর কাছে জানা যায়, আয়নাল দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় থাকেন বাড়ীতে আসেন না। ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

গোবিন্দপুর গ্রামের ভূক্তভোগী আব্দুর রাজ্জাক জানান, অনেক আগে একটা লিখিত অভিযোগ থানায় দিয়েছি পরে আর খোঁজ করিনি।

ধাপের হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) সেরাজুল হক বলেন, আমার কাছে লিখিত অভিযোগ নেই। আগে হয়ে থাকলে সেটা আমার জানা নেই।