মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আবাদযোগ্য দেখিয়ে খেলার মাঠ লিজ, ক্ষুব্ধ জনগণ

গাইবান্ধার সাঘাটার ভরখালী রেলওয়ে কলোনী। এখানে রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। আর এই মাঠটি আবাদযোগ্য পতিত জমি দেখিয়ে লিজ নিয়েছে একটি প্রভাবশালী পরিবার। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বাড়ছে তাদের ক্ষুব্ধতা। মাঠ উদ্ধারে চলছে নানা আন্দোলন।

সম্প্রতি ভরতখালীর উল্ল্যাবাজারে ওই খেলার মাঠের কথিত লিজ বাতিল করাসহ মাঠটি উদ্ধারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। এখন পর্যন্ত রয়েছে তাদের ক্ষুব্ধ। আবারও বৃহত আন্দোলনে নামতে পারে তারা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১৯০৪ সালে ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশনটি নির্মাণ হয়। তৎসময়ে ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাটটি ভরতখালী স্টেশন থেকে অল্প কিছু দূরে হওয়ায় মেরিন স্টাফদের থাকার জন্য ভরতখালী স্টেশন সংলগ্ন কলোনীতে স্টাফ কোয়াটার তৈরী করা হয়। যা নিউ ও বাবু কলোনী নামে সর্বজন পরিচিত। এখানে সহস্রাধিক রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের পদচারণায় মুখরিত ছিল। স্টাফসহ তাদের সন্তান ও এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের বিনোদনের জন্য লর্ড বারিংটেনের তত্তাবধানে বি হক ইন্সটিটিউট ও (বজলুল হক ইন্সটিটিউট) ভরতখালী রেলওয়ে কলোনী খেলার মাঠটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

জনশ্রুতি আছে তৎসময়ে ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াররা প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণ করতেন এই মাঠে। কালের বিবর্তনে ১৯৪৮ ও ১৯৭১ সালের রক্তঝড়া দিনগুলো পাড়ি দিয়ে কাটা তারের বেষ্টুনী ও নানা  সৌন্দর্য হারিয়ে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা দ্বারা সৃষ্ট খানা-খন্দ বুকে ধারণ করে মাঠটি। এরই মধ্যে স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের লোলুপ দৃষ্টি পরে মাঠটির ওপর। একপর্যায়ে রেল কলোনীর পাশের এক পরিবার লালমনিরহাট ষ্ট্রেট অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তির জোগসাজসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ঐতিহ্যবাহী ওই খেলার মাঠটি আবাদযোগ্য পতিত জমি দেখিয়ে লিজ নেয়।

এদিকে, সম্প্রতি এই লিজকে কেন্দ্র করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিজটিকে বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার ২৬ মে সকাল ১০টার দিকে ঘন্টাব্যাপী এলাকার আপামোর জনসাধারণের সমন্বয়ে এক মানববন্ধন কর্মূসূচী পালিত হয়।

খেলার মাঠটি লিজ নেয়ার বিষয়ে ভরখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)  চেয়ারম্যান  ফারুক হোসেন মণ্ডল জানান, ব্যক্তিস্বার্থে খেলার মাঠটি লিজ নেওয়া-দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। তাই লিজটি বাতিল করে বর্তমান প্রজন্মসহ আগামী প্রজন্মের বিনোদনের জন্য মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা (ভূ-সম্পত্তি) পুর্ণেন্দু দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।

আবাদযোগ্য দেখিয়ে খেলার মাঠ লিজ, ক্ষুব্ধ জনগণ

প্রকাশের সময়: ০৩:৫৮:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ মে ২০২২

গাইবান্ধার সাঘাটার ভরখালী রেলওয়ে কলোনী। এখানে রয়েছে বিশাল একটি খেলার মাঠ। আর এই মাঠটি আবাদযোগ্য পতিত জমি দেখিয়ে লিজ নিয়েছে একটি প্রভাবশালী পরিবার। এঘটনাকে কেন্দ্র করে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী। বাড়ছে তাদের ক্ষুব্ধতা। মাঠ উদ্ধারে চলছে নানা আন্দোলন।

সম্প্রতি ভরতখালীর উল্ল্যাবাজারে ওই খেলার মাঠের কথিত লিজ বাতিল করাসহ মাঠটি উদ্ধারের দাবিতে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে এলাকাবাসী। এখন পর্যন্ত রয়েছে তাদের ক্ষুব্ধ। আবারও বৃহত আন্দোলনে নামতে পারে তারা।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১৯০৪ সালে ভরতখালী রেলওয়ে স্টেশনটি নির্মাণ হয়। তৎসময়ে ফুলছড়ি তিস্তামুখ ঘাটটি ভরতখালী স্টেশন থেকে অল্প কিছু দূরে হওয়ায় মেরিন স্টাফদের থাকার জন্য ভরতখালী স্টেশন সংলগ্ন কলোনীতে স্টাফ কোয়াটার তৈরী করা হয়। যা নিউ ও বাবু কলোনী নামে সর্বজন পরিচিত। এখানে সহস্রাধিক রেলওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের পদচারণায় মুখরিত ছিল। স্টাফসহ তাদের সন্তান ও এলাকার সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দের বিনোদনের জন্য লর্ড বারিংটেনের তত্তাবধানে বি হক ইন্সটিটিউট ও (বজলুল হক ইন্সটিটিউট) ভরতখালী রেলওয়ে কলোনী খেলার মাঠটি প্রতিষ্ঠিত হয়।

জনশ্রুতি আছে তৎসময়ে ভারত উপমহাদেশের প্রখ্যাত ফুটবল খেলোয়াররা প্রতিযোগিতামূলক খেলায় অংশগ্রহণ করতেন এই মাঠে। কালের বিবর্তনে ১৯৪৮ ও ১৯৭১ সালের রক্তঝড়া দিনগুলো পাড়ি দিয়ে কাটা তারের বেষ্টুনী ও নানা  সৌন্দর্য হারিয়ে ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যা দ্বারা সৃষ্ট খানা-খন্দ বুকে ধারণ করে মাঠটি। এরই মধ্যে স্থানীয় এক প্রভাবশালী পরিবারের লোলুপ দৃষ্টি পরে মাঠটির ওপর। একপর্যায়ে রেল কলোনীর পাশের এক পরিবার লালমনিরহাট ষ্ট্রেট অফিসে কর্মরত এক ব্যক্তির জোগসাজসে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ঐতিহ্যবাহী ওই খেলার মাঠটি আবাদযোগ্য পতিত জমি দেখিয়ে লিজ নেয়।

এদিকে, সম্প্রতি এই লিজকে কেন্দ্র করে এলাকার আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। লিজটিকে বাতিলের দাবিতে বৃহস্পতিবার ২৬ মে সকাল ১০টার দিকে ঘন্টাব্যাপী এলাকার আপামোর জনসাধারণের সমন্বয়ে এক মানববন্ধন কর্মূসূচী পালিত হয়।

খেলার মাঠটি লিজ নেয়ার বিষয়ে ভরখালী ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি)  চেয়ারম্যান  ফারুক হোসেন মণ্ডল জানান, ব্যক্তিস্বার্থে খেলার মাঠটি লিজ নেওয়া-দেওয়া মোটেও ঠিক হয়নি। তাই লিজটি বাতিল করে বর্তমান প্রজন্মসহ আগামী প্রজন্মের বিনোদনের জন্য মাঠ ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে রেলওয়ে বিভাগীয় কর্মকর্তা (ভূ-সম্পত্তি) পুর্ণেন্দু দেবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।