বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাঁথিয়ায় জাল দলিল ও আদালতের ভুয়া রায় তৈরী করে জমি খারিজ  

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) অনুপস্থিতিজনিত সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ দায়িত্ব থাকাকালীন অনেক খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে খারিজ হয়েছে। এতে জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা মামলা মোকদ্দমা সর্বোপরি দীর্ঘমেয়াদি অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন একাধিক ঘটনার মধ্যে অন্যতম, আদালতের একটি ভুয়া রায় তৈরী করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত রিয়াজ শেখের ছেলে মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার প্রমাণও পেয়েছেন ভূমি কর্মকর্তা।

মামলার আইনজীবী বলছেন, যেহেতু আদালতের রায় জালিয়াতি করার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রিয়াজ উদ্দিন শেখের ছেলে মনসুর আলম ও তার ভাই আদালতের রায় জালিয়াতি করে গ্রামের অন্তত দশ ব্যক্তির সাড়ে ১৮ বিঘা জমি দখলের অপচেষ্টা করেছেন।

মামলা সূত্র মতে, ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর পাবনা যুগ্ম জজ-২য় আদালতে ওই গ্রামের কয়েকজন সহ সরকারি বেশকিছু জমিতে নিজের স্বত্ত দাবি করে মামলা করেন মনসুর আলমের পিতা রিয়াজ উদ্দিন শেখ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে মারা যান রিয়াজ উদ্দিন। তদবিরের অভাবে ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। অথচ একই মামলার বিষয়ে ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মনসুর আলমদের পক্ষে আদালত ডিগ্রি দিয়েছে উল্লেখ করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া রায় তৈরী করেন মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসান। ২০২১ সালের ২০ জুন সাঁথিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করে জমি খারিজের আবেদন করেন মনসুর আলম গং। যেখানে বিবাদীদের অনেকের নাম আগের ওই মামলায় ছিল না, তাদের নামও ওই ভুয়া রায়ে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতের ওই ভুয়া রায় দেখে সেটি যাচাই বাছাই না করেই ২০২১ সালের ৩১ মে মনসুর আলম ও মাহমুদ এ হাসান গংদের পক্ষে জমি খারিজের নির্দেশ দেন তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসি ল্যান্ড ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ।

এমন পরিস্থিতিতে জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেরে জমির মালিকরা ভূমি কর্মকর্তার কাছে মনসুর আলমের খারিজ বাতিলের আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামান চলতি বছরের ১০ ফেব্রæয়ারি পাবনা আদালতের সরকারি কৌশুলীর কাছে রায়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেন। ১৪ মার্চ সরকারি কৌশুলী ওই চিঠির জবাবে জানান, ২০০৮ সালে এমন কোনো মামলার রায় হয়ইনি। বরং ওই মামলাটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে এবং তদ্বিরের অভাবে খারিজ হয়ে যায় মনসুর গংদের বিপক্ষে। আদালতের নথি যাচাই বাছাই ও তদন্তে মনুসর আলমদের দাখিল করা আদালতের রায়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন এসি ল্যান্ড। তিনি মূলত জমি দখল করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩০ মার্চ মনসুর গংদের খারিজ বাতিল করে প্রতিবেদন দেন ভূমি কর্মকর্তা।

গ্রামের মৃত আছাব আলীর স্ত্রী তহুরা বেগম বলেন, মনসুররা ছোট থাকতে আমার স্বামী তাদের বসবাস করার জন্য জমি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সে কি না আমাদের জমি জালিয়াতি করে নিতে চাচ্ছে। আমি এর বিচার চাই। তহুরা বেগমের দুই ছেলে শাহাদৎ হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু আমাদের জমিই নয়, এই গ্রামের অন্তত দশ থেকে এগারোজনের সবমিলিয়ে সাড়ে ১৮ বিঘা জমি দখল করতে অপচেষ্টা করছেন মনসুর ও তার ভাই মাহমদ এ হাসান। আদালতের ভুয়া রায় তৈরী করেও ধরা পড়েছে।

একই গ্রামের আজিজ ফকিরের ৩৪ শতক, নজরুল ইসলামের ৬৩ শতক, আজাহারুল ইসলামের ১৬ শতক, আব্দুল কাদেরের ১২ শতক জমি নেয়ার অপচেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রায় জালিয়াতি করে আদালতকেও অবমাননা করেছেন। তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মনসুর আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসানকে পাওয়া যায়নি। তার মা ফাতেমা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, তার শ^শুড় এ বাড়িতে তাদের রেখে গেছেন। তারপরও ছেলে ভুল করে থাকতে পারে। মানুষেরই তো ভুল হয়। ভুল হলে মাফ করা লাগবি।

তবে, মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় মনসুর আলমের সাথে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আদালতের রায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে তারপরও কেন অস্বীকার করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা কথা, আমি কোনো ভুয়া রায় তৈরী করিনি। কে করেছে তাও জানি না। এখানে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ ইকবাল লিটন বলেন, মনসুর আলম-মাহমুদ এ হাসান গং একটি চক্র। তারা জালিয়াতি করে এলাকার নিরীহ মানুষদের হয়রানী করেছেন। ইতিমধ্যে আদালত থেকে প্রমাণিত হয়েছে পুরো ঘটনা। আদালতের রায় জালিয়াতি সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জালিয়াতির ঘটনা ধরা পরার পর মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসানের বিরুদ্ধে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৫ এ একটি মামলা করেছেন সাখাওয়াত হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগী। এ মামলায় তার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদন্ড হবে বলে মনে করেন আইনজীবি।

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, মনুসর আলী গংদের খারিজ বাতিলের আবেদন পাওয়ার পর আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখতে পাই তার মধ্যে সরকারি বেশকিছু জমিও রয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মনসুর পক্ষ ২০০৮ সালের একটি ভুয়া রায় দাখিল করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আদালতের রায় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর তার খারিজ বাতিল করা হয়েছে। চূড়ান্ত শুনানীর দিন মনসুর পক্ষ উপস্থিত ছিলেন না। তহুরা বেগম পক্ষের দাবি সঠিক প্রমাণিত হয়। পরে মনসুর, মাহমুদ গংদের বিরুদ্ধে তহুরা বেগমের পক্ষে তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন একটি প্রতারণার মামলা করেছেন। সেকারণে সরকার পক্ষে মামলা করা হয়নি।

সহকারি ভূমি কমিশনার এর অনুপস্থিতির সময়ে এভাবে আরও বেশ কিছু খারিজের আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ। তার সময়ে খারিজ হওয়া মিসকেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্তের দাবি উঠেছে।

সাঁথিয়ায় জাল দলিল ও আদালতের ভুয়া রায় তৈরী করে জমি খারিজ  

প্রকাশের সময়: ০৩:২৫:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০২২

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনারের (ভূমি) অনুপস্থিতিজনিত সময়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ দায়িত্ব থাকাকালীন অনেক খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে খারিজ হয়েছে। এতে জমিজমা সংক্রান্ত জটিলতা মামলা মোকদ্দমা সর্বোপরি দীর্ঘমেয়াদি অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এমন একাধিক ঘটনার মধ্যে অন্যতম, আদালতের একটি ভুয়া রায় তৈরী করে জমি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত রিয়াজ শেখের ছেলে মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ হাসানের বিরুদ্ধে। অভিযোগ তদন্ত করে ঘটনার প্রমাণও পেয়েছেন ভূমি কর্মকর্তা।

মামলার আইনজীবী বলছেন, যেহেতু আদালতের রায় জালিয়াতি করার ঘটনা প্রমাণিত হয়েছে।

অভিযোগ, তদন্ত প্রতিবেদন, এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার গোপালপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত রিয়াজ উদ্দিন শেখের ছেলে মনসুর আলম ও তার ভাই আদালতের রায় জালিয়াতি করে গ্রামের অন্তত দশ ব্যক্তির সাড়ে ১৮ বিঘা জমি দখলের অপচেষ্টা করেছেন।

মামলা সূত্র মতে, ২০০৫ সালের ৩১ অক্টোবর পাবনা যুগ্ম জজ-২য় আদালতে ওই গ্রামের কয়েকজন সহ সরকারি বেশকিছু জমিতে নিজের স্বত্ত দাবি করে মামলা করেন মনসুর আলমের পিতা রিয়াজ উদ্দিন শেখ। ২০১৬ সালের শেষের দিকে মারা যান রিয়াজ উদ্দিন। তদবিরের অভাবে ২০১৩ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মামলাটি খারিজ করে দেন আদালত। অথচ একই মামলার বিষয়ে ২০০৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর মনসুর আলমদের পক্ষে আদালত ডিগ্রি দিয়েছে উল্লেখ করে মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে একটি ভুয়া রায় তৈরী করেন মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসান। ২০২১ সালের ২০ জুন সাঁথিয়া উপজেলা ভূমি অফিসে দাখিল করে জমি খারিজের আবেদন করেন মনসুর আলম গং। যেখানে বিবাদীদের অনেকের নাম আগের ওই মামলায় ছিল না, তাদের নামও ওই ভুয়া রায়ে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেন। আদালতের ওই ভুয়া রায় দেখে সেটি যাচাই বাছাই না করেই ২০২১ সালের ৩১ মে মনসুর আলম ও মাহমুদ এ হাসান গংদের পক্ষে জমি খারিজের নির্দেশ দেন তৎকালীন অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত এসি ল্যান্ড ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম জামাল আহমেদ।

এমন পরিস্থিতিতে জালিয়াতির ঘটনা জানতে পেরে জমির মালিকরা ভূমি কর্মকর্তার কাছে মনসুর আলমের খারিজ বাতিলের আবেদন করেন। তার প্রেক্ষিতে সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মনিরুজ্জামান চলতি বছরের ১০ ফেব্রæয়ারি পাবনা আদালতের সরকারি কৌশুলীর কাছে রায়ের বিষয়ে মতামত চেয়ে চিঠি দেন। ১৪ মার্চ সরকারি কৌশুলী ওই চিঠির জবাবে জানান, ২০০৮ সালে এমন কোনো মামলার রায় হয়ইনি। বরং ওই মামলাটি ২০১৩ সাল পর্যন্ত চলমান থাকে এবং তদ্বিরের অভাবে খারিজ হয়ে যায় মনসুর গংদের বিপক্ষে। আদালতের নথি যাচাই বাছাই ও তদন্তে মনুসর আলমদের দাখিল করা আদালতের রায়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত হন এসি ল্যান্ড। তিনি মূলত জমি দখল করতে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩০ মার্চ মনসুর গংদের খারিজ বাতিল করে প্রতিবেদন দেন ভূমি কর্মকর্তা।

গ্রামের মৃত আছাব আলীর স্ত্রী তহুরা বেগম বলেন, মনসুররা ছোট থাকতে আমার স্বামী তাদের বসবাস করার জন্য জমি দিয়েছিল। কিন্তু এখন সে কি না আমাদের জমি জালিয়াতি করে নিতে চাচ্ছে। আমি এর বিচার চাই। তহুরা বেগমের দুই ছেলে শাহাদৎ হোসেন ও সাখাওয়াত হোসেন বলেন, শুধু আমাদের জমিই নয়, এই গ্রামের অন্তত দশ থেকে এগারোজনের সবমিলিয়ে সাড়ে ১৮ বিঘা জমি দখল করতে অপচেষ্টা করছেন মনসুর ও তার ভাই মাহমদ এ হাসান। আদালতের ভুয়া রায় তৈরী করেও ধরা পড়েছে।

একই গ্রামের আজিজ ফকিরের ৩৪ শতক, নজরুল ইসলামের ৬৩ শতক, আজাহারুল ইসলামের ১৬ শতক, আব্দুল কাদেরের ১২ শতক জমি নেয়ার অপচেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। রায় জালিয়াতি করে আদালতকেও অবমাননা করেছেন। তার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে মনসুর আলমের বাড়িতে গিয়ে তাকে ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসানকে পাওয়া যায়নি। তার মা ফাতেমা বেগম এ প্রতিবেদককে বলেন, তার শ^শুড় এ বাড়িতে তাদের রেখে গেছেন। তারপরও ছেলে ভুল করে থাকতে পারে। মানুষেরই তো ভুল হয়। ভুল হলে মাফ করা লাগবি।

তবে, মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় মনসুর আলমের সাথে। তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তদন্ত প্রতিবেদনে আদালতের রায় জালিয়াতির প্রমাণ মিলেছে তারপরও কেন অস্বীকার করছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব মিথ্যা কথা, আমি কোনো ভুয়া রায় তৈরী করিনি। কে করেছে তাও জানি না। এখানে একটি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছে।

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাজ্জাদ ইকবাল লিটন বলেন, মনসুর আলম-মাহমুদ এ হাসান গং একটি চক্র। তারা জালিয়াতি করে এলাকার নিরীহ মানুষদের হয়রানী করেছেন। ইতিমধ্যে আদালত থেকে প্রমাণিত হয়েছে পুরো ঘটনা। আদালতের রায় জালিয়াতি সবচেয়ে মারাত্মক অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জালিয়াতির ঘটনা ধরা পরার পর মনসুর আলম ও তার ভাই মাহমুদ এ হাসানের বিরুদ্ধে পাবনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালত-৫ এ একটি মামলা করেছেন সাখাওয়াত হোসেন নামের একজন ভুক্তভোগী। এ মামলায় তার সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদন্ড হবে বলে মনে করেন আইনজীবি।

সাঁথিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. মনিরুজ্জামান জাগো২৪.নেট-কে বলেন, মনুসর আলী গংদের খারিজ বাতিলের আবেদন পাওয়ার পর আমরা তদন্ত করতে গিয়ে দেখতে পাই তার মধ্যে সরকারি বেশকিছু জমিও রয়েছে। আদালতে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মনসুর পক্ষ ২০০৮ সালের একটি ভুয়া রায় দাখিল করে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আদালতের রায় জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ার পর তার খারিজ বাতিল করা হয়েছে। চূড়ান্ত শুনানীর দিন মনসুর পক্ষ উপস্থিত ছিলেন না। তহুরা বেগম পক্ষের দাবি সঠিক প্রমাণিত হয়। পরে মনসুর, মাহমুদ গংদের বিরুদ্ধে তহুরা বেগমের পক্ষে তার ছেলে সাখাওয়াত হোসেন একটি প্রতারণার মামলা করেছেন। সেকারণে সরকার পক্ষে মামলা করা হয়নি।

সহকারি ভূমি কমিশনার এর অনুপস্থিতির সময়ে এভাবে আরও বেশ কিছু খারিজের আবেদন নিষ্পত্তি করেছেন সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ। তার সময়ে খারিজ হওয়া মিসকেস নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং তদন্তের দাবি উঠেছে।