মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভোলাহাটে পাউবো’র কোটি টাকার কাজে দু’মাসেই ভাঙন   

ভোলাহাটের মহানন্দা নদীর ডান তীর ভাঙনরোধে বাঁধ নিমার্ণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এটি নিমার্ণের ২ মাসের মধ্যে বাঁধ ভেঙন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ডান তীর রক্ষার জন্য প্রায় কোটি টাকা খরচ করে গোপিনাথপুর এলাকায় ১৫০ মিটার ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্ড কোং।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। চরধরমপুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, নদীর তীরে আমার বেশ কিছু জমি রয়েছে। নদীর তীর বাঁধার সময় থেকেই প্রতিদিনই জমিতে আসা হত। ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে বালি না এনে যেখানে বাঁধ দেয়া হচ্ছে ঠিক তার তল থেকেই মাটি তুলে কিছু বস্তায় ভরে নামমাত্র  কাজ করেছে। বাঁধের গোড়ায় কোন বস্তা না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ সেরেছে আবার উপরও আপনারা দেখেন যে বস্তা নেই এবং অল্প বৃষ্টিতেই ব্লক ভেঙে নদীতে চলে গেছে। ফলে সরকারের ভাল উদ্দেশ্য নষ্ট হচ্ছে।  মধ্যখান থেকে লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার আর কর্মকতারা।

এস্তাব আলী নামে অপর বাসিন্দা জানান, বাঁধের জন্য যে ব্লক তৈরি করা হয়েছে সেগুলো দায়সারা।  কারন, ব্লকে  ব্যবহার করা হয়নি পর্যাপ্ত সিমেন্ট ও উন্নতমানের বালি। যার কারনে এখনি ব্লকের বালি ও সিমেন্ট ঝরে পড়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

ব্লক বাঁধায় করতে দুই-তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে তিনি দাবি করেন যে ডিজাইন অনুযায়ী কাজ ও পর্যপ্ত কাঁচামাল না ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করেছেন ঠিকাদার আর এমন দূর্ণীতি করতে সহযোগিতা করেছে প্রকল্পের দায়িত্ব থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকতা  সহকারী প্রকৌশলি মোঃ মাহাবুব আলম ও  এসও মোঃ আব্দুর রহমান ।

তার দাবি সরকারের বরাদ্দ প্রায় কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেক টাকাও খরচ করা হয়নি। অধিকাংশ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

স্থানীয় মাছ চাষী সাদিকুল ইসলাম,হাসান আলী ও মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নদীর ধারে যে ব্লক ফেলা হয়েছে তা অল্প বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। এছাড়া ড্রেজার মেশিন দিয়ে ওপর থেকে মাটি নিচে নামিয়ে সেখানে কোন বস্তা দেওয়া হয়নি শুধু উপর কিছু বস্তা দিয়েছে যেন কেউ প্রমাণ না করতে পারে তাদের অনিয়ম ও দূর্নীতি। যার কারণে নদীর ধার যে কোন মুহুর্তে বসে যাবে। কিছু অংশ দু’মাস যেতে না যেতেই ভেঙে গেছে। ৯০ লাখ টাকা খরচ করে যে কারনে বাঁধ দেয়া হল তা এক বর্ষা মৌসুমে টিকবে কিনা-সন্দেহ তাদের।

সেলিম রেজা নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, কাজের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মামলা ও হামলার ভয় দেখায় ঠিকাদার আকবর খান সোহেল ও তার লোক জন। এমনকি যাদের জমি লীজ নিয়ে ব্লক তৈরি করা হয়েছিল তাদের টাকা পরিশোধ না করেই ঠিকাদার লাপাত্তা রয়েছে।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ শাহানাজ খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ তদারকি করার দায়িত্ব থেকে খোঁজ-খবর নিতে যায়। সেই সুবাদে কাজ চলার সময় সরজমিন গেলে কাজের ব্যাপক অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম। এ সময় ঠিকাদার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। ম্যানেজ চেষ্টা ব্যার্থ হলে আমার নামে আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে হয়রানিতে ফেলেছেন। উচ্চ আদালত থেকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে মুক্ত হই।

এদিকে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার আকবর খান সোহেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্লক তৈরির কাজ করেছিল ঢাকার ডলি কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা ছেড়ে চলে যাবার পরে আমরা সিডিউল অনুসারেই কাজ করেছি। অল্প বৃষ্টিতেই বাঁধের ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের জমির মালিক বাঁধ দিয়ে দেওয়ায় বাঁধের ভাঙণ সৃষ্টি হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে শেষ হয়ে যাবে দ্রুত।

ঠিকাদারের কাজের স্বচ্ছতা দাবী করলেও খোদ সাইডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) মোঃ আব্দুর রহমান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজের কিছু অনিয়মের কথা বলতে শুনা গেলেও এখন তিনি অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুখলেসুর রহমান বলেন, নদীর তীর ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম নেই। তবে বৃষ্টির পানিতে বাঁধ ভেঙে গেছে এর মেরামত চলছে। ২-১দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, আরো ভাঙন দেখা দিলে এক বছরের মধ্যে ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে ঠিক করে দিতে হবে।

ভোলাহাটে পাউবো’র কোটি টাকার কাজে দু’মাসেই ভাঙন   

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৭:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুন ২০২২

ভোলাহাটের মহানন্দা নদীর ডান তীর ভাঙনরোধে বাঁধ নিমার্ণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এটি নিমার্ণের ২ মাসের মধ্যে বাঁধ ভেঙন দেখা দিয়েছে। এনিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে চাপা ক্ষোভ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর ডান তীর রক্ষার জন্য প্রায় কোটি টাকা খরচ করে গোপিনাথপুর এলাকায় ১৫০ মিটার ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কাজটি বাস্তবায়ন করছে বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আমিন এন্ড কোং।

সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়েও স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। চরধরমপুর এলাকার বাসিন্দা মজিবুর রহমান বলেন, নদীর তীরে আমার বেশ কিছু জমি রয়েছে। নদীর তীর বাঁধার সময় থেকেই প্রতিদিনই জমিতে আসা হত। ঠিকাদারেরা বাইরে থেকে বালি না এনে যেখানে বাঁধ দেয়া হচ্ছে ঠিক তার তল থেকেই মাটি তুলে কিছু বস্তায় ভরে নামমাত্র  কাজ করেছে। বাঁধের গোড়ায় কোন বস্তা না দিয়ে তাড়াহুড়ো করে কাজ সেরেছে আবার উপরও আপনারা দেখেন যে বস্তা নেই এবং অল্প বৃষ্টিতেই ব্লক ভেঙে নদীতে চলে গেছে। ফলে সরকারের ভাল উদ্দেশ্য নষ্ট হচ্ছে।  মধ্যখান থেকে লাভবান হচ্ছে ঠিকাদার আর কর্মকতারা।

এস্তাব আলী নামে অপর বাসিন্দা জানান, বাঁধের জন্য যে ব্লক তৈরি করা হয়েছে সেগুলো দায়সারা।  কারন, ব্লকে  ব্যবহার করা হয়নি পর্যাপ্ত সিমেন্ট ও উন্নতমানের বালি। যার কারনে এখনি ব্লকের বালি ও সিমেন্ট ঝরে পড়ে গর্তের সৃষ্টি হচ্ছে।

ব্লক বাঁধায় করতে দুই-তিন নম্বর ইট ব্যবহার করা হয়েছে তিনি দাবি করেন যে ডিজাইন অনুযায়ী কাজ ও পর্যপ্ত কাঁচামাল না ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করেছেন ঠিকাদার আর এমন দূর্ণীতি করতে সহযোগিতা করেছে প্রকল্পের দায়িত্ব থাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুই কর্মকতা  সহকারী প্রকৌশলি মোঃ মাহাবুব আলম ও  এসও মোঃ আব্দুর রহমান ।

তার দাবি সরকারের বরাদ্দ প্রায় কোটি টাকার মধ্যে অর্ধেক টাকাও খরচ করা হয়নি। অধিকাংশ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

স্থানীয় মাছ চাষী সাদিকুল ইসলাম,হাসান আলী ও মঈনুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, নদীর ধারে যে ব্লক ফেলা হয়েছে তা অল্প বৃষ্টিতে ভেঙে গেছে। এছাড়া ড্রেজার মেশিন দিয়ে ওপর থেকে মাটি নিচে নামিয়ে সেখানে কোন বস্তা দেওয়া হয়নি শুধু উপর কিছু বস্তা দিয়েছে যেন কেউ প্রমাণ না করতে পারে তাদের অনিয়ম ও দূর্নীতি। যার কারণে নদীর ধার যে কোন মুহুর্তে বসে যাবে। কিছু অংশ দু’মাস যেতে না যেতেই ভেঙে গেছে। ৯০ লাখ টাকা খরচ করে যে কারনে বাঁধ দেয়া হল তা এক বর্ষা মৌসুমে টিকবে কিনা-সন্দেহ তাদের।

সেলিম রেজা নামে এক যুবক অভিযোগ করে বলেন, কাজের গুনগত মান নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মামলা ও হামলার ভয় দেখায় ঠিকাদার আকবর খান সোহেল ও তার লোক জন। এমনকি যাদের জমি লীজ নিয়ে ব্লক তৈরি করা হয়েছিল তাদের টাকা পরিশোধ না করেই ঠিকাদার লাপাত্তা রয়েছে।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মোসাঃ শাহানাজ খাতুন অভিযোগ করে বলেন, আমি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে জনগণের পাশে থেকে উন্নয়নের কাজ তদারকি করার দায়িত্ব থেকে খোঁজ-খবর নিতে যায়। সেই সুবাদে কাজ চলার সময় সরজমিন গেলে কাজের ব্যাপক অনিয়ম দেখে প্রতিবাদ করেছিলাম। এ সময় ঠিকাদার ও দায়িত্বরত কর্মকর্তা অর্থ দিয়ে ম্যানেজ করার চেষ্টা চালান। ম্যানেজ চেষ্টা ব্যার্থ হলে আমার নামে আদালতে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে হয়রানিতে ফেলেছেন। উচ্চ আদালত থেকে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলায় জামিনে মুক্ত হই।

এদিকে বক্তব্য জানতে ঠিকাদার আকবর খান সোহেলের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ব্লক তৈরির কাজ করেছিল ঢাকার ডলি কনস্ট্রাকশন নামে একটি প্রতিষ্ঠান। তারা ছেড়ে চলে যাবার পরে আমরা সিডিউল অনুসারেই কাজ করেছি। অল্প বৃষ্টিতেই বাঁধের ভাঙন সৃষ্টি হওয়ার কারণ কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, পাশের জমির মালিক বাঁধ দিয়ে দেওয়ায় বাঁধের ভাঙণ সৃষ্টি হয়েছে। মেরামতের কাজ চলছে শেষ হয়ে যাবে দ্রুত।

ঠিকাদারের কাজের স্বচ্ছতা দাবী করলেও খোদ সাইডের দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তা (এসও) মোঃ আব্দুর রহমান সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কাজের কিছু অনিয়মের কথা বলতে শুনা গেলেও এখন তিনি অনিয়মের কথা অস্বীকার করেন।

সার্বিক বিষয় নিয়ে জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয় বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ মুখলেসুর রহমান বলেন, নদীর তীর ভাঙনরোধে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম নেই। তবে বৃষ্টির পানিতে বাঁধ ভেঙে গেছে এর মেরামত চলছে। ২-১দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শেষ হবে।

তিনি বলেন, আরো ভাঙন দেখা দিলে এক বছরের মধ্যে ঠিকাদারকে নিজ দায়িত্বে ঠিক করে দিতে হবে।