মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সাদুল্লাপুরে তৃতীয় স্ত্রীর মামলায় স্বামী-সতীন গ্রেফতার

যাত্রা শিল্পী তৃতীয় স্ত্রী মঞ্জুয়ারা আকতার বিথি নির্যাতন করে, মাথার চুল কর্তন করার মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে, মঙ্গলবার সন্ধায় গ্রেফতার হয় বিথির ২য় সতিন ফেরদৌসী বেগম (৪০) ও স্বামী আব্দুল মোত্তালিব (৫০)।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত বাহাদুর মোল্লার পুত্র নারী লোভী ৫ জন স্ত্রীর স্বামী, মোত্তালিব ঘরে দুইজন স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরেও গত ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, যাত্রার নর্তকী মঞ্জুয়ারা ওরফে বিথিকে তৃতীয় স্ত্রী হিসাবে ঘরে তোলে।

বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই বিথির ওপর যৌতুকের জন্য শুরু হয় শারীরীক এবং মানসিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে স্বামী ও সতীন মিলে বিথির মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। মাথার চুল কর্তনের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও আকারে প্রচার হল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা ছুটে আসেন তার বাড়িতে। সেই সময় থানায় মামলা দায়ের হলে গ্রেফতার হয়েছিলো স্বামী মোত্তালিব। জেল হাজত থেকে জামিনে এসে সময়ের ব্যবধানে আবারও ৩জন স্ত্রীকে রেখেই পরপর ২টি বিয়ে করে ৫ম স্ত্রীর স্বামী সাজে এই মোতাল্লিব। তাতেই ক্ষ্যান্ত নয় সম্প্রতি আবারও আদুরী নামের এক যাত্রা নর্তকীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় এই নারী লোভী। আদুরী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইট দিয়ে মাথা ফেঁটে দেয় ।

এ নিয়ে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের হলে, বাদীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় মোত্তালিব।

কে এই মোত্তালিব?

দেশ স্বাধীনের পরে সিরাজগঞ্জ থেকে জীবিকার তাগিদে বাহাদুর মোল্লা নামের এক লোক ধাপেরহাটে তাঁত মেশিন নিয়ে এসে কাপর বুনন শুরু করেন। বন্দরের গোবিন্দপুর গ্রামে এবং এখনেই বিয়ে সাদী করে ঘর জামাই হিসাবে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সেই বাহাদুর মোল্লার পুত্র এই মোত্তালিব। মোত্তালিব এখন দাদন ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বুনে গেছেন। বর্তমানে ধাপেরহাট বন্দরের পল্টন মোড়ে ভুয়া সমিতি খুলে মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তিতে চড়া সুদে টাকা লাগিয়ে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ছিনতাই কারী ছিলো। ছিনতাই  করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে জেল হাজত খেটেছে অনেকবার।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপের হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হকের নেতৃত্বে এসআই জিয়া এএসআই আমিনুল ইসলাম গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোতাল্লিব ও  তার ২য় স্ত্রীকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে তাদেরকে গ্রেফতার করে বুধবার গাইবান্ধা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মোত্তালিবের নামে দাদন ব্যবসাসহ একাধিক অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া  গেছে।

সাদুল্লাপুরে তৃতীয় স্ত্রীর মামলায় স্বামী-সতীন গ্রেফতার

প্রকাশের সময়: ০৮:২৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুন ২০২২

যাত্রা শিল্পী তৃতীয় স্ত্রী মঞ্জুয়ারা আকতার বিথি নির্যাতন করে, মাথার চুল কর্তন করার মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে, মঙ্গলবার সন্ধায় গ্রেফতার হয় বিথির ২য় সতিন ফেরদৌসী বেগম (৪০) ও স্বামী আব্দুল মোত্তালিব (৫০)।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট গোবিন্দপুর গ্রামের মৃত বাহাদুর মোল্লার পুত্র নারী লোভী ৫ জন স্ত্রীর স্বামী, মোত্তালিব ঘরে দুইজন স্ত্রী ও সন্তান থাকার পরেও গত ২০১৩ সালের শেষের দিকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে, যাত্রার নর্তকী মঞ্জুয়ারা ওরফে বিথিকে তৃতীয় স্ত্রী হিসাবে ঘরে তোলে।

বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই বিথির ওপর যৌতুকের জন্য শুরু হয় শারীরীক এবং মানসিক নির্যাতন। এক পর্যায়ে স্বামী ও সতীন মিলে বিথির মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করে দেয়। মাথার চুল কর্তনের ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফলাও আকারে প্রচার হল বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা ছুটে আসেন তার বাড়িতে। সেই সময় থানায় মামলা দায়ের হলে গ্রেফতার হয়েছিলো স্বামী মোত্তালিব। জেল হাজত থেকে জামিনে এসে সময়ের ব্যবধানে আবারও ৩জন স্ত্রীকে রেখেই পরপর ২টি বিয়ে করে ৫ম স্ত্রীর স্বামী সাজে এই মোতাল্লিব। তাতেই ক্ষ্যান্ত নয় সম্প্রতি আবারও আদুরী নামের এক যাত্রা নর্তকীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেয় এই নারী লোভী। আদুরী তার প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ইট দিয়ে মাথা ফেঁটে দেয় ।

এ নিয়ে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের হলে, বাদীকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয় মোত্তালিব।

কে এই মোত্তালিব?

দেশ স্বাধীনের পরে সিরাজগঞ্জ থেকে জীবিকার তাগিদে বাহাদুর মোল্লা নামের এক লোক ধাপেরহাটে তাঁত মেশিন নিয়ে এসে কাপর বুনন শুরু করেন। বন্দরের গোবিন্দপুর গ্রামে এবং এখনেই বিয়ে সাদী করে ঘর জামাই হিসাবে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। সেই বাহাদুর মোল্লার পুত্র এই মোত্তালিব। মোত্তালিব এখন দাদন ব্যবসা করে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ বুনে গেছেন। বর্তমানে ধাপেরহাট বন্দরের পল্টন মোড়ে ভুয়া সমিতি খুলে মাসিক ও সাপ্তাহিক কিস্তিতে চড়া সুদে টাকা লাগিয়ে দাদন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ইতিপূর্বে ছিনতাই কারী ছিলো। ছিনতাই  করতে গিয়ে হাতে নাতে ধরা পড়ে জেল হাজত খেটেছে অনেকবার।

সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপের হাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হকের নেতৃত্বে এসআই জিয়া এএসআই আমিনুল ইসলাম গ্রেফতারী পরোয়ানা মুলে গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোতাল্লিব ও  তার ২য় স্ত্রীকে গ্রেফতার করেন।

পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেরাজুল হক জাগো২৪.নেট-কে জানান, গ্রেফতারী পরোয়ানা মূলে তাদেরকে গ্রেফতার করে বুধবার গাইবান্ধা জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। মোত্তালিবের নামে দাদন ব্যবসাসহ একাধিক অপকর্মের অভিযোগ পাওয়া  গেছে।