মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বন্যা: গাইবান্ধায় পানি কমলেও, কমেনি দুর্ভোগ

গত এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তা গত চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে কমতে শুরু করছে। এখন তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে ১২ টার দিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোলরুম থেকে জানিয়েছে, ঘাঘট নদের পানি সদর পয়েন্টের ২৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি চক রহিমাপুর পয়েন্টে ১৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২২ জুন) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘাঘট নদের পানি সদর পয়েন্টের ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি চক রহিমাপুর পয়েন্টে ১১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৪ টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোকে বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি জমেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছন্ন হওয়াসহ বেশ কিছু স্থানে শুরু হয় নদী ভাঙন। এমন ভাঙন সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘাঘট নদেও দেখা দিয়েছে। বন্যা আক্রান্ত এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ ওঠেছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। এছাড়া কেউ কেউ আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকে পানির ওপর উঁচু চৌকি বা নৌকা ও ভেলায় বসবাস করছে। তাদের মধ্যে পয়নিঃস্কাশনসহ বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তারা ত্রাণসামগ্রীর জন্য বিভিন্ন দিকে ছুটাছুটি করছে। সার্বিক বন্যার প্রভাবে প্রায় ১২৬ টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেকে পানিবাহিত রোগের শঙ্কায় ভুগছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান নদ-নদী ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা ও ভাঙন কবলিত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কোন কোন স্থানে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে ।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, বন্যার্ত মানুষদের জন্য ৬০৫ মেট্রিকটন জিআর চাল ও নগদ টাকা টাকা, শুকনো খাবার, শিশু ও গো-খাদ্যও বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। এসব সামগ্রী দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

 

বন্যা: গাইবান্ধায় পানি কমলেও, কমেনি দুর্ভোগ

প্রকাশের সময়: ০৩:৩৬:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুন ২০২২

গত এক সপ্তাহ ধরে গাইবান্ধা জেলার নদ-নদীগুলোতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল। তা গত চব্বিশ ঘন্টার ব্যবধানে কমতে শুরু করছে। এখন তিনটি নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি কমলেও কমেনি মানুষের দুর্ভোগ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে ১২ টার দিকে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোলরুম থেকে জানিয়েছে, ঘাঘট নদের পানি সদর পয়েন্টের ২৫ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ৪ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৪০ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি চক রহিমাপুর পয়েন্টে ১৪৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে বুধবার (২২ জুন) দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ঘাঘট নদের পানি সদর পয়েন্টের ৪০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি পয়েন্টে ১৩ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার ওপর দিয়ে এবং তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ১৯ সেন্টিমিটার ও করতোয়ার পানি চক রহিমাপুর পয়েন্টে ১১৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

জানা যায়, গাইবান্ধা জেলার ৪ টি উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোকে বন্যা আক্রান্ত হয়েছে। এর ফলে সদর, ফুলছড়ি, সাঘাটা ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের ২১ হাজার ৮৩৪ পরিবারের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়ে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি জমেছে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছন্ন হওয়াসহ বেশ কিছু স্থানে শুরু হয় নদী ভাঙন। এমন ভাঙন সাদুল্লাপুর উপজেলার ঘাঘট নদেও দেখা দিয়েছে। বন্যা আক্রান্ত এলাকার প্রায় ২ হাজার মানুষ ওঠেছে আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে। এছাড়া কেউ কেউ আত্নীয়-স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছে। আবার অনেকে পানির ওপর উঁচু চৌকি বা নৌকা ও ভেলায় বসবাস করছে। তাদের মধ্যে পয়নিঃস্কাশনসহ বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। তারা ত্রাণসামগ্রীর জন্য বিভিন্ন দিকে ছুটাছুটি করছে। সার্বিক বন্যার প্রভাবে প্রায় ১২৬ টি প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। অনেকে পানিবাহিত রোগের শঙ্কায় ভুগছেন।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)’র নির্বাহী প্রকৌশলী আবু রায়হান নদ-নদী ভাঙন ঝুঁকিতে থাকা ও ভাঙন কবলিত স্থানগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং কোন কোন স্থানে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা চলছে ।

গাইবান্ধা জেলা ত্রাণ ও পুর্ণবাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, বন্যার্ত মানুষদের জন্য ৬০৫ মেট্রিকটন জিআর চাল ও নগদ টাকা টাকা, শুকনো খাবার, শিশু ও গো-খাদ্যও বরাদ্দ পাওয়া গেছে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক অলিউর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় পর্যাপ্ত ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। এসব সামগ্রী দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।