বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ১০ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ক্লিনিকে আসেন না স্বাস্থ্য সহকারী, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্ত সেই ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছে না স্বাস্থ্য সহকারী। প্রায়ই তালাবদ্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছে সেবাগ্রহীতারা। ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের মহোতী উদ্যোগ।

সম্প্রতি তালবদ্ধ রাখা এই ক্লিনিকটি নজরে পড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এই এলাকার সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বে থাকা সুলতানা বেগম উপস্থিত না থাকায় বাড়ি ফিরছিলেন সেবা নিতে আসা মানুষগুলো।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) পদটি প্রায় দুই বছর থেকে শূন্য হওয়ায় ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী সুলতানা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু  দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারী সুলতানা বেগম ক্লিনিকে প্রতিদিন না আসায় ক্লিনিকটি প্রায় তালাবদ্ধ থাকে। এতে করে সেবা নিতে আসা মানুষদের ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। সুলতানা বেগম নিজের মনগড়াভাবে ক্লিনিকে কাজ করে চলেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

আরও জানা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) বসবেন রোগীদের সেবা দিতে। কিন্তু প্রতিমাসের প্রায় দিনই তালাবদ্ধ থাকে এই ক্লিনিক। যদিও মাসে দু-একদিন দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) আসেন কোনো দিন বেলা ১১টা আবার কোনো দিন ১২টায়। এক থেকে দুই ঘণ্টা কিংবা জোহরের আযান কানে পৌঁছামাত্র ক্লিনিক তালাবদ্ধ করে চলে যান। সপ্তাহে কোন দিন খোলা থাকবে এ কমিউনিটি ক্লিনিক সেটাও নির্দিষ্ট করে স্থানীয়দের কেউই বলতে পারে না। প্রায় প্রতিদিন ওই ক্লিনিকে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অর্ধশত মানুষকে।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারীর (সিএইচসিপি) জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কখন আসবে কোনদিন আসবে, সে খবরও কারো জানা নেই। এমনকি মাসে একবার আসলেও তড়িঘড়ি করে ওষুধ দিয়ে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন। ওষুধপাতি প্রতিদিন না দেওয়ায় ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সেগুলো বাহিরে ফেলে দেন ওই সিএইচসিপি ।

এ বিষয়ে ক্লিনিকটির দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদান কারী (সিএইচসিপি) সুলতানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি ।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে পদশূন্য থাকায় সর্বানন্দের ২নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী  সুলতানা বেগমকে সিএইচসিপি’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর থেকে তিনি ওই  ক্লিনিকের সব দায়িত্ব রয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদান কারীর (সিএইচসিপি) সুলতানা বেগমের বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

ক্লিনিকে আসেন না স্বাস্থ্য সহকারী, চিকিৎসাসেবা ব্যাহত

প্রকাশের সময়: ০৬:৩৩:২১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুন ২০২২

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে সরকার প্রতিষ্ঠিত করেছে কমিউনিটি ক্লিনিক। কিন্ত সেই ক্লিনিকে দায়িত্ব পালন করছে না স্বাস্থ্য সহকারী। প্রায়ই তালাবদ্ধ দেখে ফিরে যাচ্ছে সেবাগ্রহীতারা। ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের মহোতী উদ্যোগ।

সম্প্রতি তালবদ্ধ রাখা এই ক্লিনিকটি নজরে পড়ে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায়। এই এলাকার সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে দায়িত্বে থাকা সুলতানা বেগম উপস্থিত না থাকায় বাড়ি ফিরছিলেন সেবা নিতে আসা মানুষগুলো।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়,  সর্বানন্দ ইউনিয়নের তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) পদটি প্রায় দুই বছর থেকে শূন্য হওয়ায় ওই ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী সুলতানা বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু  দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারী সুলতানা বেগম ক্লিনিকে প্রতিদিন না আসায় ক্লিনিকটি প্রায় তালাবদ্ধ থাকে। এতে করে সেবা নিতে আসা মানুষদের ফিরে যেতে হয় বাড়িতে। সুলতানা বেগম নিজের মনগড়াভাবে ক্লিনিকে কাজ করে চলেছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

আরও জানা যায়, সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) বসবেন রোগীদের সেবা দিতে। কিন্তু প্রতিমাসের প্রায় দিনই তালাবদ্ধ থাকে এই ক্লিনিক। যদিও মাসে দু-একদিন দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারী (সিএইচসিপি) আসেন কোনো দিন বেলা ১১টা আবার কোনো দিন ১২টায়। এক থেকে দুই ঘণ্টা কিংবা জোহরের আযান কানে পৌঁছামাত্র ক্লিনিক তালাবদ্ধ করে চলে যান। সপ্তাহে কোন দিন খোলা থাকবে এ কমিউনিটি ক্লিনিক সেটাও নির্দিষ্ট করে স্থানীয়দের কেউই বলতে পারে না। প্রায় প্রতিদিন ওই ক্লিনিকে সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হয় অর্ধশত মানুষকে।

নামপ্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন সেবাগ্রহীতা বলেন, সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় না। দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদানকারীর (সিএইচসিপি) জন্য অপেক্ষা করতে হয়। কখন আসবে কোনদিন আসবে, সে খবরও কারো জানা নেই। এমনকি মাসে একবার আসলেও তড়িঘড়ি করে ওষুধ দিয়ে ক্লিনিক থেকে সটকে পড়েন। ওষুধপাতি প্রতিদিন না দেওয়ায় ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া সেগুলো বাহিরে ফেলে দেন ওই সিএইচসিপি ।

এ বিষয়ে ক্লিনিকটির দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদান কারী (সিএইচসিপি) সুলতানা বেগমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি ।

উপজেলা স্বাস্থ্য পরিদর্শক ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকে পদশূন্য থাকায় সর্বানন্দের ২নং ওয়ার্ডের স্বাস্থ্য সহকারী  সুলতানা বেগমকে সিএইচসিপি’র দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় দুই বছর থেকে তিনি ওই  ক্লিনিকের সব দায়িত্ব রয়েছেন।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, তালুক সর্বানন্দ কমিউনিটি ক্লিনিকের দায়িত্ব প্রাপ্ত সেবাদান কারীর (সিএইচসিপি) সুলতানা বেগমের বিষয়টি অবগত হয়েছি। সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।