ব্রহ্মপুত্রের হাত থেকে রক্ষায় নির্মাণ করা হয় ক্রস বাঁধ। ৩০ ফিট উচ্চতা এবং ৫০০ মিটার দীর্ঘ এই ক্রস বাঁধটি নির্মাণে পাল্টে গেছে গাইবান্ধার পুরাতন ফুলছড়ি ঘাটের দৃশ্যপট।
সম্প্রতি ওই বাঁধে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা। ফুলছড়ির এই বাঁধে আসতে শুরু করছে বিভিন্ন এলাকার ভ্রমণ পিপাসুরা।
স্থানীয়রা জানান, এক সময়ে ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে যেতে বসেছিল ফুলছড়ি ঘাটসহ বিভিন্ন ঐতিহ্য ও স্থাপনা। হুমকির মুখে পড়ছিল নানা ধরণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণকবর, জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু’র মুর্যাল, প্রধানমন্ত্রীর উপহার গৃহহীনদের ঘর, ফুলছড়িহাট। এখন ওই ক্রস বাঁধটি নির্মাণে নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে ওইগুলো।
এছাড়া বাঁধের দক্ষিণ-পশ্চিম পার্শ্বে বিশাল এলাকাজুড়ে কয়েক সহস্রাধিক একর জমি জেগে উঠবে। ফলে নদী ভাঙনের কবলে ভিটেমাটি হারা শতশত অসহায় ভুমিহীন পরিবারের পূর্নবাসনের ব্যবস্থা হবে।
স্থানীয়রা আরও বলেন, এ এলাকায় উল্লেখযোগ্য কোনো দর্শনীয় স্থান নেই। সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষার পর সেখানে নদীর পার যেমন পর্যটন এলাকায় পরিণত হয়েছে। ঠিক তেমনিভাবে এ ক্রস বাঁধটি ফুলছড়িকে একধাপ এগিয়ে নিতে পারে। বর্ষায় এ বাঁধের সৌন্দয্য আরও বেশি সুন্দর দেখাবে। তখন বাঁধের তিন পাশে নদের থাকবে পানি।
গোলাম রাব্বানী নামের কনস্ট্রাকশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার নুরে আলম খান জানান, যমুনা নদীর ভাঙন থেকে ফুলছড়ি উপজেলাকে রক্ষা করার জন্য যে প্রকল্প আছে, প্রধানমন্ত্রীর এ প্রকল্পেরই অংশ বিশেষ হলো গণকবর ক্রস বাঁধ। এ বাঁধ দেওয়ার উদ্দেশ্যটি হলো নদীর স্রোতকে ডাইভাট করে দিয়ে যাতে করে অন্যদিকে প্রবাহিত করা। আর এ ক্রস বাঁধের কারণে বাঁধের উত্তর ও দক্ষিণ পাশে চরে উর্বর আবাদী জমি তৈরি হবে।
ফুলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আজহারুল হান্নান মন্ডল বলেন, এই এলাকাটি একটা নদীভাঙন কবলিত। এখানে যে বাঁধটি করা হয়েছে, এ কারণে এখানকার গণকবর, পুরাতন ফুলছড়িহাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা রক্ষা পাবে। দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিত লাভ করলে অনেকেই এটাকে ঘিরে ব্যবসা-বাণিজ্য করে সংসার চালাতে পারবে।

করেসপন্ডেন্ট, জাগো২৪.নেট, গাইবান্ধা 



















