মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাগল-অবশ ও জবান বন্ধ হওয়া আতঙ্কে যে গ্রামের মানুষ

উত্তরের জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে রয়েছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বৃহত্তর জনগোষ্টির বসবাস। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জয়পুর (মাদারপুর) গ্রামটির সাঁওতাল পরিবারের কতিপয় মানুষ হঠাৎ করেই পাগল, জবান বন্ধ ও শরীর অবশ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে এই গ্রামের শতাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাঁওতাল পল্লীর জয়পুর (মাদারপুর) গ্রামে দেখা যায়, পাগল, জবান বন্ধ ও শরীর অবশ হওয়া স্বজনদের আত্ননাদ। আরও দেখা গেলো- পাগল হয়েছে দিলু, অবশ হয়েছে অনিল ও দিজুল নামের একজনের জবান বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ওই পল্লীর বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫ মাস আগে থেকে এখানকার মানুষ অজ্ঞাত কারণে ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আরও বিভিন্নভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন বিশাল সাঁওতাল জনগোষ্টি পরিবার। তারা একদিকে আর্থিক অস্বচ্ছলতা অন্যদিকে বিরল রোগের আক্রান্ত হয়ে দূর্বীষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মহেন্দ্র মরমু জানান, কয়েকমাস ধরে এখানকার বেশ কিছু মানুষ হঠাৎ করে পাগল, শরীর অবশ ও জবান বন্ধ হয়ে পড়ছে। তারা অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে না পেরে দিনাজপুরের আমবাড়ীর কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তেমন কোন আরাগ্য হয়নি কারও।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী  জানান, ওইস রোগের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল সোমবার ওই এলাকায় একটি মেডিকেল টিম কাজ করে। এসময় ৩৭ জন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পুরুষ, মহিলা ও শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০ জনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ ক্রয় করে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ৭ জনের অধিকতর পরিক্ষা নিরিক্ষা করে ফিজিওথেরাপি ও সার্জারির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ হোসেন বলেন, জয়পুর গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সমস্যাগুলো মূলত পুষ্টির অভাব, মাত্রারিক্ত পরিশ্রম, কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, সময়মত চিকিৎসা না নেওয়া ও অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে দেখা দিয়েছে। সকল ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

পাগল-অবশ ও জবান বন্ধ হওয়া আতঙ্কে যে গ্রামের মানুষ

প্রকাশের সময়: ০৯:৪৩:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ জুলাই ২০২২

উত্তরের জেলা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বেশ কিছু গ্রামে রয়েছে সাঁওতাল সম্প্রদায়ের বৃহত্তর জনগোষ্টির বসবাস। এরই মধ্যে ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জয়পুর (মাদারপুর) গ্রামটির সাঁওতাল পরিবারের কতিপয় মানুষ হঠাৎ করেই পাগল, জবান বন্ধ ও শরীর অবশ হওয়ার ঘটনা ঘটছে। এ নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছে এই গ্রামের শতাধিক মানুষ।

মঙ্গলবার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের সাঁওতাল পল্লীর জয়পুর (মাদারপুর) গ্রামে দেখা যায়, পাগল, জবান বন্ধ ও শরীর অবশ হওয়া স্বজনদের আত্ননাদ। আরও দেখা গেলো- পাগল হয়েছে দিলু, অবশ হয়েছে অনিল ও দিজুল নামের একজনের জবান বন্ধ হয়ে পড়েছে।

ওই পল্লীর বাসিন্দারা জানান, প্রায় ৫ মাস আগে থেকে এখানকার মানুষ অজ্ঞাত কারণে ওইসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া আরও বিভিন্নভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ছে অনেকে। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন বিশাল সাঁওতাল জনগোষ্টি পরিবার। তারা একদিকে আর্থিক অস্বচ্ছলতা অন্যদিকে বিরল রোগের আক্রান্ত হয়ে দূর্বীষহ জীবন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা মহেন্দ্র মরমু জানান, কয়েকমাস ধরে এখানকার বেশ কিছু মানুষ হঠাৎ করে পাগল, শরীর অবশ ও জবান বন্ধ হয়ে পড়ছে। তারা অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসাসেবা নিতে না পেরে দিনাজপুরের আমবাড়ীর কবিরাজ দ্বারা চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে তেমন কোন আরাগ্য হয়নি কারও।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ফরহাদ আলী  জানান, ওইস রোগের বিষয়টি জানতে পেরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে গতকাল সোমবার ওই এলাকায় একটি মেডিকেল টিম কাজ করে। এসময় ৩৭ জন ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পুরুষ, মহিলা ও শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য পরিক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ৩০ জনের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরিক্ষা করে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয় এবং তাদের প্রয়োজনীয় ঔষধ ক্রয় করে দেওয়া হয়। অবশিষ্ট ৭ জনের অধিকতর পরিক্ষা নিরিক্ষা করে ফিজিওথেরাপি ও সার্জারির মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফ হোসেন বলেন, জয়পুর গ্রামের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, সমস্যাগুলো মূলত পুষ্টির অভাব, মাত্রারিক্ত পরিশ্রম, কুসংস্কার, ভুল চিকিৎসা, সময়মত চিকিৎসা না নেওয়া ও অসচেতনতা ইত্যাদি কারণে দেখা দিয়েছে। সকল ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।