সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে শ্রমিকলীগ নেতা নিহত 

লালমনিরহাটে হরতালকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর (৪৫) নামে শ্রমিকলীগ নেতা নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত ১০/১২ জন।
রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শ্রমিকলীগ নেতার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সদস্য। সে ওই ইউনিয়নের বেড়পাংগা গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পিকেটিং করতে থাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিকলীগ লীগ নেতা জাহাঙ্গীর ও তিন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এছাড়া মিশন মোড় এলাকায় পুলিশের মোটরসাইকেলসহ চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালিয়েছে বিএনপির সমর্থকরা।
শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীরসহ আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। জাহাঙ্গীরের অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।
শ্রমিকলীগ নেতা জাহাঙ্গীর মৃত্যুর সংবাদে লালমনিরহাট রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের মাতম নেমে আসে। তাৎক্ষণিক বিডিআর গেইট চত্বরে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ অ্যাড. সফুরা বেগম রুমী, লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অপর দিকে সাপ্টিবাড়ি বাজারে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিএনপির সমর্থকরা। একপর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে বের হলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিএনপির দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
বেলা ১১টার দিকে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে মিছিল নিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে সংঘর্ষ শুরু হলে এক আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হন। এ সময় বিএনপির অফিসের চেয়ার ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, লালমনিরহাট শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, লালমনিরহাট জেলার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে।  বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ দিকে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা জেলা শহরে হরতাল বিরোধী ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় মিশন মোড়ের ‘হামার বাড়িতে’ অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।

লালমনিরহাটে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে শ্রমিকলীগ নেতা নিহত 

প্রকাশের সময়: ০৬:২২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৩
লালমনিরহাটে হরতালকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে বিএনপির সংঘর্ষে জাহাঙ্গীর (৪৫) নামে শ্রমিকলীগ নেতা নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে অন্তত ১০/১২ জন।
রোববার (২৯ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শ্রমিকলীগ নেতার মৃত্যু হয়।
লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ইউনিয়নে এ সংঘর্ষ ঘটে।
নিহত জাহাঙ্গীর মহেন্দ্রনগর ইউনিয়ন শ্রমিকলীগের সদস্য। সে ওই ইউনিয়নের বেড়পাংগা গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকে লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল ও পিকেটিং করতে থাকে বিএনপির নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগরে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় শ্রমিকলীগ লীগ নেতা জাহাঙ্গীর ও তিন আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হয়। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ দুই রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এছাড়া মিশন মোড় এলাকায় পুলিশের মোটরসাইকেলসহ চারটি মোটরসাইকেলে ভাঙচুর চালিয়েছে বিএনপির সমর্থকরা।
শ্রমিক নেতা জাহাঙ্গীরসহ আহতদের উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়। জাহাঙ্গীরের অবস্থার অবনতি হলে জরুরি ভিত্তিতে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় জাহাঙ্গীরের মৃত্যু হয়।
শ্রমিকলীগ নেতা জাহাঙ্গীর মৃত্যুর সংবাদে লালমনিরহাট রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের মাতম নেমে আসে। তাৎক্ষণিক বিডিআর গেইট চত্বরে লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে এক বিক্ষোভ সমাবেশ করা হয়। উক্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন লালমনিরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী সংসদ অ্যাড. সফুরা বেগম রুমী, লালমনিরহাট জেলা যুবলীগের সভাপতি মোড়ল হুমায়ুন কবিরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
অপর দিকে সাপ্টিবাড়ি বাজারে সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন বিএনপির সমর্থকরা। একপর্যায়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল আলম হরতাল বিরোধী মিছিল নিয়ে বের হলে ধাওয়া-পালটাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বিএনপির দুই কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
বেলা ১১টার দিকে আদিতমারী উপজেলা বিএনপি অফিসের সামনে মিছিল নিয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। এতে সংঘর্ষ শুরু হলে এক আওয়ামী লীগ কর্মী আহত হন। এ সময় বিএনপির অফিসের চেয়ার ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর করেন আওয়ামী লীগ সমর্থকরা। বর্তমানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, লালমনিরহাট শহরের আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় শহরের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম জাগো২৪.নেট-কে বলেন, লালমনিরহাট জেলার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর আছে।  বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
এ দিকে সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে আওয়ামী লীগ সমর্থকরা জেলা শহরে হরতাল বিরোধী ও বিক্ষোভ মিছিল বের করে। এ সময় জেলা বিএনপির অস্থায়ী কার্যালয় মিশন মোড়ের ‘হামার বাড়িতে’ অগ্নিসংযোগ করে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।