গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে অসুস্থ স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে চিকিৎসার সাহায্যের জন্য বাড়ি থেকে বের হয়। এ অবস্থায় পথেই মারা যায় স্ত্রী। অবশেষে তাকে দাফন না করে একটি বাঁধে লাশ ফেলে গেছেন স্বামী খোকন মিয়া।
বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের খামার বাগছী এলাকার বাঁধ থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার হাটলক্ষীপুর এলাকার খোকন মিয়া সাদুল্লাপুর উপজেলার কামারপাড়া ইউনিয়নের হিয়ালী গ্রামে নানার বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। সংসারের নানা অভাব-অনটনের কারণে বিভিন্ন স্থানে অন্যের সাহায্য নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। এরই মধ্যে স্ত্রী (৩৫) অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার সযোগিতার জন্য খোকন মিয়া তার স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এ অবস্থায় বুধবার (১ নভেম্বর) সাদুল্লাপুর উপজেলার ভাতগ্রাম ইউনিয়নের ভগবানপুর গ্রামের সাদা মিয়ার বাড়ির সন্নিকটে পৌঁছালে মারা যায় স্ত্রী। পরে স্থানীয় লোকজন আর্থিক সহযোগিতা করে দাফনের জন্য বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। কিন্তু খোকন মিয়া সেই লাশ দাফন না করে খামার বাগছী এলাকার বাঁধে ফেলে রেখে গেছেন। পরে বৃহস্পতিবার সকালে নারীর পরিত্যাক্ত লাশ দেখে পুলিশকে খবর দেয়।
এ ঘটনায় ভাতগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান মাফু জাগো২৪.নেট-কে বলেন, মেয়েটির মৃত্যুতে স্থানীয়ভাবে আর্থিক সহযোগিতা করার পর কামারপাড়া চেয়ারম্যানকে অবগত করা হয়েছে।
এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কামারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহফুজার রহমান রাশেদ বলেন, খোকন মিয়া তার স্ত্রীকে দাফন না করে ওই বাঁধে ফেলে রেখে গেছেন। বৃহস্পতিবার এ খবর পেয়ে থানা পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
সাদুল্লাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুব আলম রানা জাগো২৪.নেট-কে বলেন, খবর পেয়ে ওই নারীর মরদেহ বাঁধ থেকে উদ্ধার করা হয়। ময়না তদন্তের জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্টাফ করেসপন্ডেন্টে, জাগো২৪.নেট 



















